চট্টগ্রামের কর্ণফুলী উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের দিন যতই ঘনিয়ে আসছে, ততই প্রার্থীদের দৌড়ঝাঁপ বৃদ্ধি পাচ্ছে। কাকডাকা ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত প্রার্থীরা ভোটারের দ্বারে দ্বারে ছুটছেন। গণসংযোগ, উঠান বৈঠক, পথসভাসহ নানাভাবে তাদের প্রচারণা চলছে। আসছে ২ নভেম্বর নবগঠিত এ উপজেলায় দ্বিতীয়বারের মতো নির্বাচন।
উপজেলা নির্বাচন কার্যালয় সূত্র জানায়, কর্ণফুলী উপজেলা নির্বাচনে ভোটার ১ লাখ ৭ হাজার ৭৯৯ জন। ইভিএম পদ্ধতিতে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী দুজন। এর মধ্যে বর্তমান চেয়ারম্যান ফারুক চৌধুরী এবারও নৌকা প্রতীক পেয়েছেন। অপর প্রতিদ্বন্দ্বী চরলক্ষ্যা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলী (আনারস)। তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী।
ভাইস চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী তিনজন। তারা হলেন, আমির আহমদ (চশমা), আবদুল হালিম (তালা) ও মহিউদ্দিন মুরাদ (উড়োজাহাজ)। আর নারী ভাইস চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী চারজন। তারা হলেন, বর্তমান নারী ভাইস চেয়ারম্যান বানাজা বেগম নিশি (হাঁস), ডা. ফারহানা মমতাজ (ফুটবল), মোমেনা আক্তার নয়ন (কলসি) ও রানু আক্তার (বৈদ্যুতিক পাখা)।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আওয়ামী লীগের কয়েক নেতা বলেন, নির্বাচনে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী ফারুক চৌধুরীর বিরুদ্ধে গিয়ে উপজেলার পাঁচ ইউপি চেয়ারম্যানের মধ্যে চারজনই স্বতন্ত্র প্রার্থী মোহাম্মদ আলীর পক্ষে প্রকাশ্যে মাঠে নেমেছেন। একইভাবে উপজেলা আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের অনেক দায়িত্বশীল নেতাকর্মীও নৌকার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন। আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী ফারুক চৌধুরী উপজেলা আওয়ামী লীগের বর্তমান সভাপতিও। গেল ইউপি নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে মনোনয়ন, দলীয় নেতাকর্মীদের অবমূল্যায়নসহ নানাবিধ কারণে এ উপজেলায় অন্তর্কোন্দল সৃষ্টি হয়। দলীয় নেতাদের নির্দেশে অনেকেই প্রকাশ্যে বিরোধিতা না করলেও চলমান বিরোধ নির্বাচনে বড় ভূমিকা রাখবে। এক্ষেত্রে দলের একটি অংশ নৌকার প্রার্থীর পক্ষে না থাকলে সুবিধা পেয়ে যেতে পারেন স্বতন্ত্র প্রার্থী মোহাম্মদ আলী।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, আওয়ামী লীগ মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী ফারুক চৌধুরীর পক্ষে প্রচারণায় নেমেছেন দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান। তিনি গত বুধবার নৌকার সমর্থনে নির্বাচনী এলাকায়
তৃণমূল নেতাকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা করেন। তবে ওই সভায় দলের দায়িত্বশীল অনেক নেতা উপস্থিত হননি।
দলের সবাইকে পাশে না পাওয়ার কথা স্বীকার করে ফারুক চৌধুরী বলছেন, বিষয়টি ভূমিমন্ত্রী মহোদয় ও জেলার নেতৃবৃন্দ দেখবেন। গত পাঁচ বছরে নতুন এ উপজেলাকে অবকাঠামোগত উন্নয়নের দ্বারপ্রান্তে নিয়েছি। প্রতিটি ইউনিয়নে ভাঙাচোরা রাস্তাগুলো পাকা করা হয়েছে। অতিদরিদ্র জনগোষ্ঠীর উন্নয়নে কাজ করেছি। এসব কারণে এবারও নৌকার পক্ষে বিপুল ভোট পড়ার আশা করছি।
অপরদিকে স্বতন্ত্র প্রার্থী মোহাম্মদ আলী বলেন, সবধরনের ভয়ভীতি উপেক্ষা করে জনগণ গণতান্ত্রিক উপজেলা বিনির্মাণে ভোট দেবেন। ভোটারদের উজ্জীবিত করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। সুষ্ঠু ভোট হলে ফল পক্ষে আসবে বলে আশা করছি।