নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন রোববার (২৩ অক্টোবর) অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এর একদিন পর মঙ্গলবার (২৫ অক্টোবর) মহানগর কমিটির সম্মেলন। সম্মেলনকে ঘিরে দলীয় নেতা-কর্মীদের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা দিয়েছে।
নগরীর ওসমানী স্টেডিয়ামে নৌকার আদলে সম্মেলন মঞ্চ তৈরি করা হয়েছে। সম্মেলনের পুরো প্রস্তুতি তদারকি করছেন প্রভাবশালী আওয়ামী লীগ নেতা একেএম শামীম ওসমান এমপি। জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি পদে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় থাকলেও তিনি কোন পদে প্রার্থী হচ্ছেন না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন।
শুক্রবার (২১ অক্টোবর) চাষাড়া রাইফেল ক্লাবে আয়োজিত প্রস্তুতি সভায় শামীম ওসমান বলেছেন, সম্মেলনকে ঘিরে অনেক পত্রিকা লেখালেখি করছে শামীম ওসমান প্রার্থী। মেসেজ ক্লিয়ার, আমি কোন প্রার্থী না। আমি শেখ হাসিনার সৈনিক। আমরা মুক্তিযোদ্ধার সন্তান। জাতির পিতার কন্যার যে স্নেহ পেয়েছি সেটাই সবচেয়ে বড় পাওয়া।
সম্মেলন প্রস্তুতি সভায় শামীম ওসমান আরও বলেন, সুশৃঙ্খলভাবে সম্মেলন করতে হবে। সেদিন আমাদের পার্টির সেক্রেটারিসহ কেন্দ্রীয় নেতারা আসবে। সেদিন দেখিয়ে দিতে হবে নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগের জন্য কতটা শক্তিশালী। হয়তো (সম্মেলনে) এ কমিটি থাকবে। আমি কেন্দ্রীয় নেতাদের সামনে বলবো ত্যাগী পরীক্ষিত এমন নেতাদের মূল্যায়ন করুন যাতে কমিটির সর্বশেষ লোকটা ডাক দিলেও যেন এলাকা থেকে এক হাজার লোক বেরিয়ে আসে। জনগণের শক্তিতে আওয়ামী লীগ চলবে। তাই নেতাদের বলবো কর্মী বানান। কর্মীবান্ধব হন। আর যদি ত্যাগীদের মূল্যায়ন করা না হয় তাহলে আমরা শেখ হাসিনার কর্মী বাহিনী গঠন করবো।
২৩ অক্টোবর নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনের উদ্বোধন করবেন আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক। ২৫ অক্টোবর মহানগর আওয়ামী লীগের সম্মেলন উদ্বোধন করবেন আরেক প্রেসিডিয়াম সদস্য কর্নেল (অব.) ফারুক খান এমপি। দুটি সম্মেলনেই প্রধাণ অতিথি করা হয়েছে দলের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরকে। প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত থাকবেন কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মীর্জা আযম এমপি।
এর আগে, ২০১৩ সালের ১১ সেপ্টেম্বর আনোয়ার হোসেনকে সভাপতি ও অ্যাডভোকেট খোকন সাহাকে সাধারণ সম্পাদক করে নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামী লীগের কমিটি ঘোষণা করা হয়। এর দুই বছর পর ২০১৫ সালের ১০ ডিসেম্বর ঘোষণা করা হয় ৭১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি।
২০১৬ সালের ৯ অক্টোবর আবদুল হাইকে সভাপতি, সিটি করপোরেশনের মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভীকে সহ-সভাপতি এবং আবু হাসনাত মোহাম্মদ শহীদ বাদলকে সাধারণ সম্পাদক করে তিন সদস্য বিশিষ্ট জেলা আওয়ামী লীগের আংশিক কমিটি ঘোষণা করে কেন্দ্র। এর ১৩ মাস পর নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের ৭৪ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি অনুমোদন দেওয়া হয়।