পঞ্চগড় জেলা পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী আবু তোয়বুর রহমানের পরাজয়ের জন্য জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি রেলমন্ত্রী নূরুল ইসলাম সুজনকে দোষারোপ করছে একপক্ষ। গত শুক্রবার সংবাদ সম্মেলন করে এমন অভিযোগ করেন জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক আইনবিষয়ক সম্পাদক ও জেলা পরিষদ নির্বাচন কমিটির আহ্বায়ক প্রার্থীর ছোট ভাই আবু বকর সিদ্দিক।
অন্যদিকে গত শনিবার রাতে পাল্টা সংবাদ সম্মেলন করে এ বক্তব্যকে মিথ্যা দাবি করে আবু বকর সিদ্দিকের বহিষ্কারের দাবি জানায় দলের আরেক পক্ষ।
পঞ্চগড় প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে আবু বকর সিদ্দিক বলেন, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি রেলমন্ত্রী নূরুল ইসলাম সুজন এবং সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার সাদাত সম্রাট নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থীর পক্ষে কাজ করেননি। তারা রাতের বেলা বিজয়ী স্বতন্ত্র প্রার্থী আবদুল হান্নান শেখের পক্ষে কাজ করেছেন। পঞ্চগড়ে শেখ হাসিনার আওয়ামী লীগ চলে না। এখানে চলে সুজন লীগ। যেভাবে বিগত নির্বাচনে তারা আমাকে পরাজিত করেছে, ঠিক একই কায়দায় এবার জেলা পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীকে পরাজিত করেছে। মন্ত্রীর ভাই ময়দানদীঘি ইউপি চেয়ারম্যান আবদুল জব্বারসহ নৌকা মার্কা নিয়ে বিজয়ী চেয়ারম্যানরাও দলীয় প্রার্থীর বিপক্ষে কাজ করেছে। অন্যরাও দিনের বেলা মোটরসাইকেল ও রাতের বেলা চশমা প্রতীকের প্রচারণা করেছেন। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এসব নেতাকে মনোনয়ন না দিতে দলের সভাপতি শেখ হাসিনাকে অনুরোধ করেন তিনি।
এদিকে গত শনিবার রাতে পাল্টা সংবাদ সম্মেলন করে দলীয় জেলা পরিষদ নির্বাচন পরিচালনা কমিটি। এ সময় দলীয় নেতাদের বিরুদ্ধে দেওয়া বক্তব্য মিথ্যা দাবি করে আবু বকর সিদ্দিকের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিতে দলীয় সভাপতির দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়।
লিখিত বক্তব্যে জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আরিফুল ইসলাম পল্লব দাবি করেন, আওয়ামী লীগ প্রার্থী হেরেছেন দুই ভাইয়ের অন্তর্কোন্দল ও ইমেজ সংকটের কারণে। আবু বকর সিদ্দিক ২০১৬ সালের জেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে হেরে ভোটারদের কাছে ভোটের জন্য দেওয়া অর্থ মামলা ও পেশিশক্তির ভয় দেখিয়ে ফেরত নিয়েছিলেন। তা এবারের নির্বাচনে প্রভাব ফেলেছে।