মিয়ানমারে কনসার্টে বিমান হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৮০

মিয়ানমারের উত্তরাঞ্চলীয় রাজ্য কাচিনে স্থানীয় বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীর আয়োজিত এক কনসার্টে দেশটির সামরিক বাহিনীর বিমান হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৮০ জনে দাঁড়িয়েছে। নিহতদের মধ্যে দেশটির প্রখ্যাত শিল্পী ও গায়করাও রয়েছেন। নিহতদের সকলেই কাচিন জাতিগোষ্ঠীর মানুষ।

রবিবার রাতে (২৩ অক্টোবর) কাচিন জাতিগোষ্ঠীর প্রধান রাজনৈতিক সংগঠন কাচিন ইন্ডিপেনডেন্স অর্গানাইজেশনের ৬২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ওই উৎসবটির আয়োজন করা হয়। উৎসবে সংগঠনটির নেতা-কর্মীসহ অনেকেই উপস্থিত ছিলেন। এ সময় অনুষ্ঠান টার্গেট করে বিমান হামলা চালানো হয়। মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর তিনটি যুদ্ধবিমান কাচিনের কানসি গ্রামে এই হামলায় অংশ নেয় বলে জানা গেছে।

হামলার পর ঘটনাস্থলে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ দেখা গেছে। সেখানে প্রচুর ধ্বংসাবশেষ। খোলা মাঠজুড়ে ধ্বংস হয়ে যাওয়া যানবাহন ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ে আছে। এই হামলায় অন্তত ১০০ জন গুরুতর আহত হয়েছে বলে জানা গেছে। আহতদের এলাকা ছেড়ে যেতে দেওয়া হচ্ছে না। সেনাবাহিনীর সদস্যরা কানসি গ্রামের চারপাশে তল্লাশি চৌকি বসিয়ে এলাকা বন্ধ করে দিয়েছে। আহতদের অনেকেরই জরুরি চিকিৎসা প্রয়োজন।

নিহতদের মধ্যে কাচিনের প্রখ্যাত কয়েকজন গায়কও আছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর বিরুদ্ধে গত কয়েক দশক ধরে লড়াই চালিয়ে আসছে কেআইও। গত বছরের ফেব্রুয়ারির সামরিক অভ্যুত্থানের বিরুদ্ধে আন্দোলনকারীদের প্রতি সমর্থনও জানিয়েছে দেশটির বিচ্ছিন্নতাবাদী এই গোষ্ঠী।

মিয়ানমার সংকট নিয়ে ইন্দোনেশিয়ায় আগামী বৃহস্পতিবার (২৭ অক্টোবর) একটি শীর্ষ বৈঠকে বসতে যাচ্ছে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা। বৃহস্পতিবার ইন্দোনেশিয়ায় দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর আঞ্চলিক জোট আসিয়ান সচিবালয়ে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। বৈঠকের মাত্র তিনদিন আগে নাগরিকদের ওপর ভয়াবহ এ হামলা চালানো হলো।

রবিবার (২৩ অক্টোবর) কম্বোডিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জানান, বৈঠকে মিয়ানমারে শান্তি ফেরাতে গত বছর আসিয়ানের নেয়া পাঁচ দফা বাস্তবায়নের ইস্যুটিও উঠে আসবে। গত বছর মিয়ানমারে রক্তপাত বন্ধে ইন্দোনেশিয়ার জাকার্তায় আসিয়ান নেতারা বৈঠকে বসেন।

সেই বৈঠকে জোটের পক্ষ থেকে জনগণের স্বার্থে শান্তিপূর্ণ উপায়ে সমস্যা সমাধান, মিয়ানমারে আসিয়ানের মানবিক সহায়তা প্রদান, দেশটিতে বিবদমান সব পক্ষকে সহিংসতা বন্ধের পাশাপাশি পাঁচ দফা গৃহীত হয়।

আগামী মাসে আসিয়ান শীর্ষ সম্মেলন। তার আগে মিয়ানমার ইস্যুতে কীভাবে শান্তি প্রক্রিয়া এগিয়ে নেয়া যায় সেই বিষয়ে বৈঠক থেকে সুপারিশ আসতে পারে বলেও জানানো হয়।

গত বছরের ১ ফেব্রুয়ারি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশটির ক্ষমতা সামরিক বাহিনী দখলে নেওয়ার পর থেকে সেখানে রাজনৈতিক অস্থিরতা চলছে। তখন থেকেই সামরিক অভ্যুত্থানের বিরুদ্ধে দেশটির হাজার হাজার মানুষ শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ দেখিয়ে আসছে। কিন্তু দেশটির আইনশৃঙ্খলা বাহিনী প্রায়ই অভিযান চালিয়ে সামরিক শাসনবিরোধী বিক্ষোভকারীদের হত্যা করছে। মিয়ানমারের বেসামরিক নাগরিকরা সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য পিপলস ডিফেন্স ফোর্সের (পিডিএফ) অংশ হিসেবে দেশজুড়ে সশস্ত্র শাখা গঠন করেছে।

দেশটির স্থানীয় মানবাধিকার গোষ্ঠী অ্যাসিস্ট্যান্স অ্যাসোসিয়েশন ফর পলিটিক্যাল প্রিজনারস বলছে, অভ্যুত্থানের পর থেকে এখন পর্যন্ত অন্তত ২ হাজার ৩৭০ জন বিক্ষোভকারীকে হত্যা করেছে জান্তা বাহিনী। এছাড়া আরও ১৫ হাজার ৯০০ জনের বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

আরও পড়ুন...

মিয়ানমারের মোকাবিলায় বন্ধুহীন বাংলাদেশ

মিয়ানমারের রাখাইনে চীনের বিদ্যুৎকেন্দ্র চালু

চীনের কাছে থেকে সুপারসনিক যুদ্ধবিমান কিনছে মিয়ানমার

মিয়ানমারকে অস্ত্র দিতে পাকিস্তানকে ব্যবহার করছে চীন

ভারত-মিয়ানমার ঘনিষ্ঠতার নেপথ্যে