‘ডার্টি বোমা’ ইস্যু জাতিসংঘে তুলছে রাশিয়া, পশ্চিমাদের হুঁশিয়ারি

নবম মাসে গড়ালো রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ। এমন সময়ে নতুনভাবে আলোচনায় ‘ডার্টি বম্ব বা শক্তিশালী তেজস্ক্রিয় বোমা’। রাশিয়ার অভিযোগ, এমন বোমার বিস্ফোরণ ঘটিয়ে তাদের ঘাড়ে দায় চাপাতে চাইছে ইউক্রেন। সম্মুখযুদ্ধে জয় না পেয়েই বিকল্প এ পন্থা বেছে নিয়েছে ইউক্রেন। বিষয়টি মঙ্গলবার জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদেও উত্থাপন করতে চলেছে রাশিয়া। সোমবারই রাশিয়া জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে একটি চিঠি পাঠিয়ে এই বিষয়ে বিস্তারিতভাবে জানায়। আর মঙ্গলবার নিরাপত্তা পরিষদে এই বিষয়ে রুদ্ধদ্বার বৈঠক করবে।

রুশ প্রতিরক্ষামন্ত্রী সের্গেই শোইগু সোমবার বলেন, ‘ইউক্রেন ডার্টি বোমার মাধ্যমে সহিংসতাকে আরও উসকে দিতে চাইছে। ডার্টি বোমা প্রায় একটি পারমাণবিক বোমা। তেজস্ক্রিয়তা ছড়িয়ে দিতে ব্যবহৃত হয় বিস্ফোরকবাহী ডিভাইস। পরমাণু অস্ত্রের মতো হয়তো এর বিধ্বংসী প্রভাব নেই। তবে, বিস্ফোরণে দূষিত হয় বিশাল অংশ। এর মাধ্যমে রাশিয়ার ওপর দায় চাপাতে চাইছে ইউক্রেন। তাতে বিশ্বব্যাপী রুশ বিরোধী প্রোপাগাণ্ডা চালানো সহজ হবে। এটা যুক্তরাষ্ট্র তথা পশ্চিমাদের বহু পুরনো রণকৌশল’।

ইউক্রেন প্রেসিডেন্ট ভলোদেমির জেলেনস্কি অবশ্য অস্বীকার করেছেন এ অভিযোগ। উল্টো তার দাবি, পরিকল্পনা নয় বরং হামলা চালাতে তৈরি রাশিয়া। বড় অঘটনের আগেই উপযুক্ত পদক্ষেপ নিতে পশ্চিমাদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

জেলেনস্কি বলেন, ‘ইউক্রেন গণবিধ্বংসী বোমা ছোড়ার পরিকল্পনা আঁটছে, এটা পুরোপুরি মিথ্যা-বানোয়াট অভিযোগ। প্রথম কথা হলো, আমরা পরমাণু নিরস্ত্রীকরণ চুক্তি বা এনপিটি কঠোরভাবে মেনে চলি। দ্বিতীয় বিষয়, আমাদের হাতে এ ধরনের বোমা নেই। সুতরাং পরিকল্পনার প্রশ্নও আসছে না। আসলে রাশিয়াই বোমাটি ছুড়তে তৈরি হয়ে আছে। আন্তর্জাতিক মহলকে বলব, এই আগ্রাসন ঠেকাতে দ্রুত শক্তিশালী পদক্ষেপ নিন। সেটি হতে পারে কঠোর নিষেধাজ্ঞা বা অবরোধ। অথবা কিয়েভে সামরিক সহযোগিতা বৃদ্ধি।’ রবিবারই যুক্তরাষ্ট্র-ব্রিটেন-ফ্রান্স ও তুরস্কের প্রতিরক্ষামন্ত্রীদের সঙ্গে পৃথকভাবে টেলিফোনে কথা বলেন সের্গেই শোইগু। প্রত্যেককেই হুঁশিয়ার করেন, পশ্চিমাদের সহযোগিতায় বড় নাশকতা চালানোর পরিকল্পনা করছে ইউক্রেন। এমনটা হলে দাঁতভাঙা জবাব পাবে দেশটি; শান্তি প্রক্রিয়ার বদলে বাড়বে সহিংসতা।

অন্যদিকে, পশ্চিমাদের অভিযোগ রাশিয়া নিজেই হয়তো এই ধরনের ভয়ঙ্কর বোমা ব্যবহার করে ইউক্রেনের ওপর হামলা জোরদার করার অজুহাত তৈরি করছে। খেরসন থেকে রাশিয়া ইতিমধ্যেই বেসামরিক নাগরিকদের সরিয়ে নিয়েছে।

ইউক্রেন নিজ ভূখণ্ডে ‘ডার্টি বোমা’ ব্যবহার করতে পারে রাশিয়ার এমন অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন ও ফ্রান্স। তাদের দাবি, মস্কো নিজেই হয়তো এ ধরনের হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে।

ন্যাটো প্রধানও সোমবার সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, ইউক্রেন তেজস্ক্রিয় ডার্টি বোমা ব্যবহারের পরিকল্পনা করছে এমন মিথ্যা দাবি করে রাশিয়া হয়তো ইউক্রেনে সংঘাত বাড়াতে চাইছে। তিনি টুইটারে লিখেছেন, ‘ন্যাটো মিত্ররা রাশিয়ার এই অভিযোগ প্রত্যাখান করেছে। রাশিয়া অবশ্যই এটিকে উত্তেজনার অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করা উচিৎ হবে না। আমরা ইউক্রেনের প্রতি আমাদের সমর্থনে অবিচল রয়েছি’।

আশংকা করা হচ্ছে, ইউক্রেনের এমন অস্ত্র ব্যবহারের অজুহাত দিয়ে মস্কো তা ব্যবহার করে কিয়েভের ঘাড়ে দোষ চাপাতে পারে।

ডার্টি বোমা হলো এমন একটি বোমা যা ডিনামাইটের মতো প্রচলিত বিস্ফোরক এবং ইউরেনিয়ামের মতো তেজস্ক্রিয় পদার্থের মিশ্রনে তৈরি করা হয়। এটিকে কোনো দেশ নয় সন্ত্রাসীদের জন্য একটি অস্ত্র হিসাবে উল্লেখ করা হয়। কারণ এটি কোনো সামরিক লক্ষ্যবস্তুকে নির্মূল করার বদলে ভয় ও আতঙ্ক ছড়িয়ে দেওয়ার জন্যই ডিজাইন করা হয়েছে।

এখন পর্যন্ত বিশ্বের কোনো যুদ্ধে এর ব্যাবহার হয়নি। কোনো সন্ত্রাসী সংগঠনও ডার্টি বোমার ব্যবহার করেনি। ১৯৯৫ সালে চেচেন বিদ্রোহীরা রাশিয়ার মস্কোতে একটি ডার্টি বোমার বিস্ফোরণ ঘটাতে চেয়েও ব্যর্থ হয়েছে। এছাড়া আল-কায়েদা এবং আইএস এর মতো সন্ত্রাসী সংগঠন ডার্টি বোমা ব্যবহার করতে চেয়েছিল, তবে সফল হতে পারেনি।