রেকর্ড গড়া প্রধানমন্ত্রী ঋষি

বাকিংহাম প্যালেসে যুক্তরাজ্যের রাজা তৃতীয় চার্লসের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন ঋষি সুনাক। রাজপ্রাসাদ কর্র্তৃপক্ষ এক বিবৃতিতে জানায়, ঋষিকে প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা করেছেন রাজা তৃতীয় চার্লস।

এরপর লন্ডনের ১০ নম্বর ডাউনিং স্ট্রিটে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে যান নতুন প্রধানমন্ত্রী ঋষি সুনাক (৪২)। রাজার ঘোষণার মধ্য দিয়ে গতকাল মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী হলেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত এ রাজনীতিক। রাজা তৃতীয় চার্লসের কাছ থেকে সরকার গঠনের আমন্ত্রণ পাওয়া প্রথম প্রধানমন্ত্রীও তিনি। অর্থাৎ, রানী দ্বিতীয় এলিজাবেথ-পরবর্তী যুগে শপথ নেওয়া প্রথম ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ঋষি।

যুক্তরাজ্যের নতুন সরকারপ্রধান হিসেবে শপথ নিয়ে একঝাঁক রেকর্ড গড়তে চলেছেন ঋষি সুনাক। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার তথ্যমতে, প্রথম অশ্বেতাঙ্গ, প্রথম এশীয় বংশোদ্ভূত এবং প্রথম হিন্দু ধর্মাবলম্বী নেতা হিসেবে যুক্তরাজ্য শাসন করবেন ঋষি।

একই সঙ্গে ব্রিটেনের ২০০ বছরের ইতিহাসে সবচেয়ে কম বয়সী প্রধানমন্ত্রীও তিনি। বিবিসি বলছে, যুক্তরাজ্যের ৫৭তম এবং ১৮১২ সালের পর থেকে কনিষ্ঠতম প্রধানমন্ত্রী ঋষি সুনাক। আধুনিক যুগে প্রথমবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে দ্রুততম সময়ে প্রধানমন্ত্রীর পদে পৌঁছানোর রেকর্ড এখন তার দখলে। রাজনীতিতে আসার মাত্র সাত বছরের মধ্যেই এত বড় পদে আসীন হয়েছেন তিনি।

গেল সেপ্টেম্বরে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে লিজ ট্রাসের কাছে পরাস্ত হয়ে অক্টোবরে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় কনজারভেটিভ পার্টির নেতা নির্বাচিত হওয়া সত্যিই চমক জাগানো। দলীয় এমপিদের অর্ধেকের বেশি প্রকাশ্যে তার প্রতি সমর্থন ঘোষণা করেন। আর তার সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য শেষমুহূর্ত পর্যন্ত চেষ্টা চালিয়ে গেছেন যিনি, সেই পেনি মরড্যান্ট মনোনয়ন জমা দেওয়ার সময় শেষ হওয়ার মাত্র কয়েক মিনিট আগে হাল ছেড়ে দেওয়ায় ঋষি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। এর ১৭ ঘণ্টা আগে নাটকীয়ভাবে নেতৃত্বের দৌড় থেকে নিজেকে প্রত্যাহার করে নেন ঋষির সঙ্গে চরম বৈরী সম্পর্কে থাকা সাবেক প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন।

মাত্র দুই মাসেরও কম সময়ে তৃতীয় প্রধানমন্ত্রী হতে ঋষি সুনাককে কোনো কাঠখড় পোড়াতে হয়নি। নতুন করে কোনো প্রতিশ্রুতির বাণী শোনাতে হয়নি। সেপ্টেম্বরের নেতৃত্বের লড়াইয়ের সময়ে তিনি এখনই কর কমানো সম্ভব নয় এবং জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির বোঝা কমাতে ও মন্দা এড়াতে কিছু রাষ্ট্রীয় সহায়তার কথা বলেছিলেন। আর সেসব অস্বীকার করে পরে আবার ঋষির পথেই হেঁটে লিজ ট্রাসই আসলে ঋষির প্রতি দলের ভরসা বাড়িয়ে গেছেন।