পেশায় সবজি বিক্রেতা তারেক মিয়া (৩৫)। সংসারের একমাত্র উপার্জনকারী ব্যক্তি। পরিবারের সদস্যদের নিয়ে বসবাস করে আসছিলেন টাঙ্গাইলের সখীপুর পৌর এলাকার একটি ভাড়া বাড়িতে। কিছুদিন আগে হঠাৎ করে বকেয়া বিলের জন্য নিজের বিরুদ্ধে বিদ্যুৎ বিভাগের মামলার কথা শুনে মাথায় যেন আকাশ ভেঙে পড়ে তারেক মিয়ার। আর ছেলের বিরুদ্ধে মামলার কথা শুনে বাবা স্ট্রোক করে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন হাসপাতালে। বকেয়া বিলের অভিযোগে বিদ্যুৎ বিভাগের করা মামলায় ১০ দিন ধরে কারাগারে রয়েছেন তারেক মিয়া। বিদ্যুৎ সংযোগের মিটার বাড়ির মালিক সাইফুল ইসলামের নামে হলেও তাকে বাদ দিয়ে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ভাড়াটিয়া তারেকের বিরুদ্ধে মামলা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বিদ্যুৎ বিভাগের বিরুদ্ধে। এই মামলাকে হয়রানিমূলক উল্লেখ করে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে এলাকাবাসী।
জানা গেছে, সখীপুর পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের জেলখানা মোড় এলাকায় প্রবাসী সাইফুল ইসলামের বাড়িতে সপরিবারে ভাড়া থাকতেন দিনমুজুর তারেক মিয়া। তিনি বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) গ্রাহক নন। তার নামে নেই কোনো মিটার বা আবাসিক হিসাব। ওই বাসার বিদ্যুৎ সংযোগ (স্টিমেট) বাসার মালিকের নামে থাকলেও ভাড়াটিয়া হিসেবে নিয়মিত বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করে আসছিলেন তারেক মিয়া। এরই মধ্যে হঠাৎ করে কোনো নোটিস না দিয়ে দিনমজুর এই ভাড়াটিয়ার বিরুদ্ধে ৫৪ হাজার ৫৪৮ টাকা বকেয়া বিদ্যুৎ বিলের অভিযোগে মামলা করে বিদ্যুৎ বিভাগ। যার বাদী পিডিবির সখীপুর বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগের সহকারী প্রকৌশলী মো. সাইফুল ইসলাম। ওই মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়না জারি হলে গত ১৬ অক্টোবর তারেককে আটক করে কারাগারে পাঠায় পুলিশ। অথচ তিনি ওই মিটারের শুধু ব্যবহারকারী, সংযোগ তার নামে নয়। মিটারটি বাড়ির মালিক সাইফুলের নামে। তারেক কারাগারে থাকায় অর্ধাহারে-অনাহারে দিন কাটছে তার পরিবারের সদস্যদের।
নিজেদের দুরবস্থার চিত্র তুলে ধরে দিনমজুর তারেকের স্ত্রী মিতু দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমরা প্রত্যেক মাসেই বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করছি। কোনো মাসেই বাকি রাখি নাই। আমাদের আগেও অনেক ভাড়াটিয়া এ বাসায় ভাড়া থাকত। সম্ভবত তারাই ওই বিল বাকি রাইখা গেছে। এখন আমার স্বামীর ঘাড়ে এই গায়েবি বিল চাপানো হইছে। সরকারের কাছে আমি ন্যায়বিচার চাই। এ মিথ্যা মামলা থেকে আমার নির্দোষ স্বামীর মুক্তি হোক।’
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে বাড়ির মালিক প্রবাসী সাইফুল ইসলামের স্ত্রী মিতু বলেন, ‘আমরা বাসা ভাড়া দিয়েছি, বিদ্যুৎ বিল ভাড়াটিয়া দিবে। এখানে বাসার মালিক হিসেবে আমাদের কিছুই করণীয় নেই। যদি বকেয়া থাকে তাহলে তার দায়ভার ভাড়াটিয়াদের, আমাদের না।’
তারেক মিয়ার নামে বিদ্যুৎ সংযোগ না থাকলেও তার বিরুদ্ধে মামলা করার কারণ জানতে চাইলে মামলার বাদী সখীপুর বিদ্যুৎ বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগের সহকারী প্রকৌশলী মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘বকেয়া বিল ও বিদ্যুৎ ব্যবহারকারী হিসেবে তারেক মিয়ার বিরুদ্ধে বিদ্যুৎ আইনে মামলা দেওয়া হয়েছে। আমরা মামলা করেছি, বাকিটা কোর্ট দেখবে। সেখানেই ফয়সালা হবে কে দায়ী বা দায়ী নয়।’