দেশে স্নায়ুরোগে প্রথম জিন থেরাপি পেল এক শিশু

বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো দুরারোগ্য স্নায়ুরোগ স্পাইনাল মাসকুলার অ্যাট্রোফি (এসএমএ) রোগের চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়েছে জিন থেরাপি। গতকাল মঙ্গলবার সকাল ১০টায় ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস ও হাসপাতালে মানিকগঞ্জের ২২ মাসের শিশু রাইয়ানকে এ থেরাপির ইনজেকশন দেওয়া হয়। প্রায় এক ঘণ্টা সময় নিয়ে ক্যানোলার মাধ্যমে দুরারোগ্য স্নায়ুরোগের এ ওষুধ তার শরীরে দেওয়া হয়। থেরাপি দেওয়া পর থেকে শিশুটিকে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়।

বর্তমানে তার চিকিৎসা চলছে। এই এক ডোজ থেরাপির ইনজেকশনের দাম ২২ কোটি টাকা। গতকাল দুপুরে নিউরোসায়েন্সেস হাসপাতালে ‘শিশুদের বিরল স্নায়ু রোগের চিকিৎসায় জিন থেরাপি’ শীর্ষক এক অনুষ্ঠানে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা এসব তথ্য জানান।

বক্তারা বলেন, এ রোগের জিন থেরাপি চিকিৎসায় প্রতি ডোজ ইনজেকশনের মূল্য প্রায় ২২ কোটি টাকা। তবে নিউরোসায়েন্স হাসপাতালকে এটি বিনামূল্যে দিয়েছে বহুজাতিক ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান নোভারটিস।

চিকিৎসকরা জানান, বিশ্বে ২ হাজার ৩০০ শিশুকে দেওয়া হয়েছে জিন থেরাপির এ চিকিৎসা। যার মধ্যে মাত্র একটি শিশু মারা গেছে। বাংলাদেশে রাইয়ানই প্রথম কোনো রোগী যাকে এ চিকিৎসা দেওয়া হলো।

অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব আনোয়ার হোসেন হাওলাদার বলেন, ‘দেশে প্রথমবারের মতো জিন থেরাপি চিকিৎসা হয়েছে, এটি আমাদের জন্য বড় একটি আশার দিক। আমরা আশা করছি একটা পর্যায়ে ওষুধটির দাম কমে যাবে।’

অনুষ্ঠানে হাসপাতালটির পরিচালক অধ্যাপক ডা. কাজী দ্বীন মোহাম্মদ বলেন, ‘নিউরোসায়েন্স হাসপাতালের ১০ বছরের ইতিহাসে একটা ঐতিহাসিক দ্বার উন্মোচন হয়েছে। একটা বাচ্চাকে নিশ্চিত মৃত্যু থেকে আমরা বাঁচার সুযোগ করে দিয়েছি। সে এখন নিশ্চিতভাবে আকাশ দেখতে পারবে, নিঃশ্বাস নিতে পারবে। অধ্যাপক ডা. নারায়ণ তার টিম নিয়ে সেটি করেছেন। এ জন্য আমরা আনন্দিত ও গর্বিত।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের দেশে বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা অত্যন্ত ব্যয়বহুল। তবে আমাদের হাসপাতালে আইসিইউ সেবা সম্পূর্ণ ফ্রি। কিন্তু একটি বেসরকারি হাসপাতালের আইসিইউ বেডে রাত পার হলেই ৫০ হাজার টাকা। এর বাইরে তো বিভিন্ন পরীক্ষা-ফি তো আছেই। কয়টা পরিবারের এত খরচ বহনের সুযোগ আছে? এ ক্ষেত্রে সরকারি সেক্টরকে আরও উন্নত করতে হবে।’