বিশ্বের সবচেয়ে নোংরা মানুষ আখ্যা পাওয়া ইরানের সেই আমু হাজি মারা গেছেন। ৬০ বছর ধরে গোসল না করার কারণে তিনি বিশ্বব্যাপী পরিচিতি পেয়েছিলেন। আমু পানি ও সাবান ভয় পেতেন। তার ধারণা ছিল, গোসল করলে তিনি অসুস্থ হয়ে যাবেন। পানি ও সাবান ব্যবহার করলে অসুস্থ হবেন শুধু এই ভয়েই ৬০ বছরেরও বেশি সময় গোসল করেননি আমু হাজি। অবশ্য, তার ধারণাই অবশেষে সত্যি হল। গোসল করার পর অসুস্থ হয়ে মারা গেলেন তিনি। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৯৪ বছর।
ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় ফারস প্রদেশের দেজগা গ্রামে একটি ইটের তৈরি খুপরি ঘরে গর্ত বানিয়ে বসবাস করতেন আমু। যা অনেকটা কবরের মতো ছিল। তার গ্রামের লোকজন তাকে কয়েকবার গোসল করানোর চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়েছেন। কয়েক মাস আগে শেষ পর্যন্ত গোসল করতে রাজি হন আমু। আর গোসল করার পরই তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। কয়েক মাস অসুস্থ থাকার পর রবিবার তিনি মারা গেছেন।
২০১৪ সালে তেহরান টাইমসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, তার প্রিয় খাবার সজারু। ছোটবেলা থেকেই তার এই অস্বাভাবিক পছন্দগুলোর কারণে মানসিক বিপর্যয় ঘটেছিল। বছরের পর বছর গোসল না করায় তার ত্বকেও পরিবর্তন আসে, ঝুল-কালি ও পুঁজের আস্তরণ তৈরি হয় তার চামড়ায়। তার পছন্দের খাবারের মধ্যে ছিল পচা মাংস।
আমু হাজির ধূমপানের একটি ছবি রয়েছে যেখানে তাকে একবারে একাধিক সিগারেট টানতে দেখা যায়। ২০১৪ সালে তেহরান টাইমস জানিয়েছিল আমু হাজি রাস্তায় পড়ে থাকা মরা প্রাণী এবং জীব-জন্তুর বিষ্ঠার তৈরি সিগারেট খেতেন গোসল করার জন্য চাপ দেওয়া হলে বা পরিষ্কার পানি পান করতে বলা হলে আমু হাজির মন খারাপ হতো। তার খাদ্যবস্তু ছিল পচা মাংস এবং তেলের বোতল থেকে অপরিষ্কার পানি পান করতেন তিনি।
একবার ওই এলাকার কিছু ‘দুষ্টু’ বালক তাকে জোর করে গোসল করিয়ে দিতে চেয়েছিল। কিন্তু কৌশলে তিনি সেখান থেকে পালিয়ে যেতে সক্ষম হন। পুরনো ছেঁড়া কাপড় পোশাক হিসেবে ব্যবহার করতেন আমু। আর শীতের সময় আরামের জন্য বাড়তি হিসেবে একটি হেলমেট ব্যবহার করতেন!
পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার বিষয়ে উদাসীন আমু হাজি গাড়ির আয়নায় তাকিয়ে নিজের চেহারা দেখার মনোবাসনা নিবৃত করতেন। আর চুল কাটার ইচ্ছা হলে আগুনে পুড়িয়ে দিতেন! ৬০ বছর গোসল না করে সবচেয়ে বেশি দিন ধরে গোসল না করার নতুন রেকর্ড গড়েছেন আমু হাজি। ২০০৯ সালের দিকে একজন ভারতীয় ব্যক্তির কথা জানা যায়, যিনি ঐ সময়েই ৩৫ বছর ধরে বিনা গোসলে ছিলেন।