নতুন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ভারতের নাকি পাকিস্তানের?

ব্রিটেনের প্রথম অশ্বেতাঙ্গ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে গতকাল মঙ্গলবার দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন ঋষি সুনাক। একাধিক রেকর্ড গড়ে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী হলেন ঋষি সুনাক। প্রথম ভারতীয় বংশোদ্ভূত, অশ্বেতাঙ্গ, এশীয়, প্রথম হিন্দু নেতা, ১৮১২ সালের পর সর্বকনিষ্ঠ প্রধানমন্ত্রী এবং সবচেয়ে অল্প সময়ে প্রধানমন্ত্রী পদে পৌঁছানোর রেকর্ড গড়েছেন তিনি।

এদিকে, সুনাকের পূর্বসূরী নিয়ে সামাজিক মাধ্যমগুলোতে ভারতীয় ও পাকিস্তানিদের মাঝে চলছে ‘গর্ব ভাগাভাগি’ কিংবা টানাটানি করার প্রতিযোগিতা। অদ্ভুতভাবে এই নতুন ব্রিটিশ নেতা পূর্বসূরীর বিচারে ভারতীয় এবং পাকিস্তানিও। সুনাকের দাদা-দাদি ছিলেন ব্রিটিশ ভারতের নাগরিক কিন্তু তাদের জন্মস্থান বর্তমান পাস্কিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশের গুজরানওয়ালায়, যা ১৯৪৭ সালের আগে ব্রিটিশ ভারতের অংশ ছিল।

তবে সুনাকের বংশপরিচয় নিয়ে সামাজিক মাধ্যমগুলোতে নানা তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। এগুলোতেই তাদের মতামত জানাচ্ছেন পাকিস্তান ও ভারতের অনেকে।

এক ব্যক্তি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম টুইটারে সুনাক পরিবারের খুঁটিনাটি নিয়ে লেখেন। তিনি লিখেছেন, ‘সুনাক পরিবার গুজরানওয়ালার (বর্তমানে পাকিস্তানে অবস্থিত) পাঞ্জাবি খাত্রি পরিবারের। ঋষির দাদা রামদাস সুনাক কেরানি চাকরির জন্য ১৯৩৫ সালে কেনিয়ার রাজধানী নাইরোবিতে পাড়ি জমান। ১৯৩৭ সালে কেনিয়াতে যাবার আগে রামদাসের স্ত্রী সুহাগ রাণী সুনাক তার শাশুড়ির সাথে প্রথমবারের মতো দিল্লীতে আসেন।’

টুইটার ব্যবহারকারীটি সুনাক পরিবারের পাশ্চাত্যে অভিবাসন নিয়েও লেখেন এবং ১৯৮০ সালে যুক্তরাজ্যের সাউদাম্পটনে ঋষির জন্ম বলে জানান। তবে এ ব্যাপারে পাকিস্তানের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু বলা হয়নি। কেবল সামাজিক মাধ্যমগুলোতেই চলছে আলাপ-আলোচনা।

আবার কেউ কেউ মনে করেন ৪২ বছর বয়সী ঋষি সুনাকের পূর্বসূরী নিয়ে দাবি তোলা উচিত পাকিস্তানের।

আরেক টুইটার ব্যবহারকারী শাফাত শাহ টুইট করেন, ‘আমার মনে হয় ঋষি সুনাকের পূর্বসুরী নিয়ে পাকিস্তানের দাবি তোলা উচিত। কারণ তার দাদা-দাদি ছিলেন গুজরানওয়ালার অধিবাসী যারা কেনিয়া এবং পরবর্তীতে ব্রিটেনে অভিবাসন করেছিলেন।’

সুনাকের প্রধানমন্ত্রীত্বের খবর শুনে আরেকজন ব্যক্তি টুইট করেন, ‘ওয়াও! অসাধারণ একটি মুহূর্ত। অবশেষে একজন পাকিস্তানি ইংল্যান্ডের উচ্চতম অফিসে আরোহণ করলেন। বিশ্বাস থাকলে সবই সম্ভব।’

পাকিস্তান-ভারত নিয়ে যখন টানাটানি চলছে, তখন অনেকে মন্তব্য করেছেন নতুন ব্রিটিশ নেতাকে নিয়ে উভয় দেশের গর্ববোধ করা উচিত। ইয়াকুব বাঙ্গাশ নামে এক ব্যক্তি টুইট করেন, ‘পাকিস্তান এবং ভারতের যৌথভাবে এই মুহূর্তকে নিয়ে গর্ববোধ করা উচিত।’

ঋষি সুনাকের বাবা যশবীর সুনাক ১৯৪৯ সালে কেনিয়ার রাজধানী নাইরোবিতে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ১৯৬৬ সালে ইংল্যান্ডের লিভারপুলে আসেন এবং লিভারপুল বিশ্ববিদ্যালয়ে মেডিসিনে অধ্যয়ন শুরু করেন। তিনি ব্রিটেনে চিকিৎসক ছিলেন।

যশবীর ১৯৭৭ সালে লিসেস্টারে ফার্মাসিস্ট উষাকে বিয়ে করেন। এর তিন বছর পর ১৯৮০ সালে ব্রিটেনের সাউদাম্পটনে ঋষির জন্ম হয়। ঋষির বাবা-মা অবসর গ্রহণ করার আগ পর্যন্ত ফার্মেসি ব্যবসায় যুক্ত ছিলেন। উষার জন্ম তানজানিয়ায়। তার পরিবারও দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে ব্রিটেনে এসে বসবাস শুরু করেছিল। 

আরও পড়ুন...

গভীর সংকটের কালে ব্রিটেনের নতুন প্রধানমন্ত্রী কে এই ঋষি সুনাক