বলা হয়ে থাকে, বিশ্বকাপের মতো আসরে সব দলের জন্যই নিজেদের প্রথম ম্যাচটা হয় গুরুত্বপূর্ণ। মোমেন্টামটা খুব ভালোভাবে পেয়ে গেলে টুর্নামেন্টের বাকি পথটা এগিয়ে যাওয়া যায় দারুণ গতিতে। চলতি বিশ্বকাপে ঠিক এই জায়গাটায় ভারত বেশ নির্ভারই থাকার কথা। তাদের আসর শুরুই যে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী
পাকিস্তানকে হারিয়ে। জয়ের ধারা ধরে রাখতে সুপার টুয়েলভ পর্বে গ্রুপ-২ এর ম্যাচে যারা আজ মাঠে নামবে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে।
সিডনি ক্রিকেট গ্রাউন্ডে বাংলাদেশ সময় বেলা ১টায় শুরু হতে যাওয়া ম্যাচটিতে ভারতকে ফেভারিট বলতে কারও আপত্তি থাকার কথা নয়। টি-টোয়েন্টিতে এই দুই দল আগে মুখোমুখি হয়নি কখনোই। ওয়ানডেতেও দেখা হয়েছিল দুবার। দুটিই বিশ্বকাপের মঞ্চে- ২০০৩ ও ২০১১ সালে। দুটি ম্যাচেই শেষ হাসি ছিল ভারতেরই।
সুপার টুয়েলভ পর্বে ডাচদের মিশন শুরু হয়েছে বাংলাদেশের বিপক্ষে হেরে। প্রথম পর্বে তাদের দুটি জয় ছিল সংযুক্ত আরব আমিরাত ও নামিবিয়ার বিপক্ষে। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে আরেক ম্যাচে তারা সুবিধা করতে পারেনি। এরপরও রোহিত শর্মারা তাদের হালকাভাবে নিতে চাইবে না নিশ্চিত। তাছাড়া দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে পরের ম্যাচের আগে নিজেদের পরখ করে নেওয়ারও ভালো সুযোগ এটি। তবে কোনো পরীক্ষা-নিরীক্ষা নয়। পাকিস্তান ম্যাচের একাদশ ধরে রাখা হবে বলেই ম্যাচপূর্ব সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন ভারতের বোলিং কোচ পরশ মামরে, ‘আমরা কাউকে বিশ্রাম দিচ্ছি না। টুর্নামেন্টে ভালো মোমেন্টাম পেয়ে গেলে, সবাই ছন্দে থাকুক এটা চাইলে প্রতিটি ম্যাচই গুরুত্বপূর্ণ তখন।’
এদিকে নেদারল্যান্ডস অধিনায়ক স্কট এডওয়ার্ডস সিডনি ক্রিকেট গ্রাউন্ডে বিশ্বকাপের ম্যাচে ভারতের মুখোমুখি হওয়া নিয়ে রোমাঞ্চ প্রকাশ করেছেন। তার কথায়, ‘এটা অনেক বড় ব্যপার। বিশ্বকাপ খেলা সবারই স্বপ্ন, আর সিডনি ক্রিকেট
গ্রাউন্ড বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় মাঠের একটি। এরসঙ্গে যোগ হয়েছে বিশ্বের অন্যতম সেরা দলের বিপক্ষে খেলা। ছেলেরা এর জন্য উন্মুখ হয়ে আছে।’
আগের ম্যাচে দারুণ ইনিংসে খাদের কিনার থেকে দলকে টেনে তুলেছিলেন বিরাট কোহলি। ৫৩ বলে ৮২ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলে আইসিসি র্যাংকিংয়ে টি-টোয়েন্টি ব্যাটারদের তালিকায় সেরা দশেও ফিরে এসেছেন। নেদারল্যান্ডস ম্যাচেও তার দিকে আলাদাভাবে নজর থাকবে দর্শকদের। বিশ্বকাপের মঞ্চে ১ হাজার রান থেকে যিনি মাত্র ৭৩ রান দূরে আছেন। এই কীর্তি আছে শুধু শ্রীলঙ্কার সাবেক অধিনায়ক মাহেলা জয়াবর্ধনের। ৩১ ম্যাচে ১০১৬ রান তার নামের পাশে। ২২ ম্যাচে ৯২৭ রান করা কোহলির সামনে দ্রুততম সময়ে এই মাইলফলক গড়ার হাতছানি।