করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বাড়ায় চীনের মধ্যাঞ্চলীয় উহান শহর থেকে শুরু করে উত্তরপশ্চিমের শিনিংসহ অনেক শহরে ফের কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। ভবনের পর ভবন সিলগালা, একাধিক জেলায় লকডাউন জারি করায় এসব শহরের কোটি কোটি মানুষের দুর্ভোগও বেড়ে গেছে।
বৃহস্পতিবার টানা তৃতীয় দিন দেশজুড়ে এক হাজারের বেশি নতুন কোভিড রোগী সনাক্তের কথা জানিয়েছে চীনের কর্তৃপক্ষ। চলতি বছরের শুরুর দিকে দিনে হাজার হাজার রোগী শনাক্ত হওয়ায় দেশটির গুরুত্বপূর্ণ শহর সাংহাইয়ে কঠোর লকডাউন জারি করা হয়েছিল।
বর্তমানে সমগ্র চীনে দিনে যত রোগী শনাক্ত হচ্ছে, তা তখনকার মতো না হলেও কর্তৃপক্ষের কাছে এটাই দেশের বিভিন্ন অংশে আরও বিধিনিষেধ আরোপ ও নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার জন্য যথেষ্ট হিসেবে গণ্য হচ্ছে।
চীনে এখন পর্যন্ত যত কোভিড রোগী শনাক্ত হয়েছে, তা বিশ্বের অনেক দেশের তুলনায় কম হলেও চলতি বছর করোনাভাইরাসের তুলনামূলক বেশি সংক্রামক ধরন ওমিক্রন মোকাবেলায় দেশটি যে হুটহাট অত্যন্ত কঠোর সব ব্যবস্থা নিয়েছে, তা বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহৎ এই অর্থনীতিকে চাপেও ফেলেছে।
টানা চার সপ্তাহ ধরে সংক্রমণের পুনরুত্থান দেখা দেওয়ায় গুয়াংজুতে কর্তৃপক্ষ বৃহস্পতিবার উচ্চ ঝুঁকিসম্পন্ন আরও অনেক সড়ক ও এলাকা সিলগালা করে হাজার হাজার মানুষকে ঘরের বাইরে বের না হতে নির্দেশনা দিয়েছে। অর্থনৈতিক উৎপাদন বিবেচনায় চীনের চতুর্থ বড় শহর গুয়াংজু গুয়াংডং প্রদেশের রাজধানী।
সোমবার পর্যন্ত চীনের মোট ২৮টি শহরে লকডাউনের নানামাত্রিক বিধিনিষেধ ছিল, এই অঞ্চলগুলোর মিলিত জনসংখ্যা প্রায় ২০ কোটি ৭৭ লাখ এবং এসব অঞ্চল চীনের জিডিপির প্রায় ২৫ দশমিক ৬ ট্রিলিয়ন ইউয়ান নিয়ন্ত্রণ করে। এই সংখ্যা চীনের ২০২১ সালের জিডিপির প্রায় এক চতুর্থাংশ।