রংপুরে বিএনপির বিভাগীয় গণসমাবেশের আগে দুই দিনের পরিবহন ধর্মঘট ডেকেছে মোটর মালিক সমিতি। শুক্রবার (২৮ অক্টোবর) ভোর থেকে শনিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত এই ধর্মঘট চলবে।
এদিকে, পরিবহন ধর্মঘট এড়াতে বিভাগের বিভিন্ন জেলা থেকে বিএনপির অনেক নেতাকর্মী বৃহস্পতিবার মধ্যরাতেই রংপুরের উদ্দেশ্যে রওনা দেন। তাদের অনেকেই উঠেছেন আত্মীয়-স্বজন, পরিচিতজনদের বাসাবাড়ি এবং ছাত্রাবাসসহ আবাসিক হোটেলগুলোতে।
এর আগে, ময়মনসিংহ ও খুলনায় বিএনপির গণসমাবেশের আগেও একইভাবে পরিবহন ধর্মঘট ডাকা হয়েছিল। রংপুরেও সমাবেশের আগে পরিবহন ধর্মঘট ডাকা হতে পারে আশঙ্কায় বুধবার সকাল থেকেই বিভাগের বিভিন্ন জেলা থেকে বিএনপি নেতাকর্মীরা আসা শুরু করেছেন সমাবেশস্থলে।
গণসমাবেশে লোকসমাগম কমাতে পুলিশ নেতাকর্মীদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করছে বলে অভিযোগ করেছেন রংপুর মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক শামসুজ্জামান সামু। তিনি বলেন, ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতাকর্মীদের তালিকা তৈরি করে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে নানানভাবে ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে এবং আবাসিক হোটেলসহ বিভিন্ন স্থানে নানান অজুহাতে তল্লাশি চালানো হচ্ছে।
রংপুরে দলের চতুর্থ বিভাগীয় গণসমাবেশে বৃহত্তম গণজমায়েত করতে চায় বিএনপি। ইতিমধ্যেই কালেক্টরেট ঈদগাহ মাঠে মঞ্চ বানানোর কাজ শুরু হয়ে গেছে। নগরীর প্রতিটি সড়কে বড় বড় তোরণ, ব্যানারের পাশাপাশি ঈদগাহ মাঠের চারপাশে ব্যানার ফেস্টুনে ছেয়ে গেছে।
শুক্রবার রংপুর কালেক্টরেট ঈদগাহ মাঠে গিয়ে দেখা গেছে, মাঠের মিনারের সামনেই শ্রমিকরা কাঠ ও বাঁশ দিয়ে ৫০ ফুট দৈর্ঘ্য ও ২৫ ফুট প্রস্থের বিশাল আকৃতির মঞ্চ তৈরি করছেন। মাঠের চারপাশের বড় বড় গাছ ও বাঁশের খুঁটিতে খালেদা জিয়া ও তারেক জিয়ার ছবি সংবলিত বিভিন্ন স্লোগানের ব্যানার ও ফেস্টুন লাগাচ্ছে অন্য একদল শ্রমিক। মাঠের পাশে কয়েকটি গেটও তৈরি করা হয়েছে। এসব কাজ তদারকি করছিলেন রংপুর জেলা ও মহানগর বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতারা।
ঈদগাও মাঠের মঞ্চের পাশে বসে ছিলেন রমজান, আহমেদ আলী, সুরুজ ও খালেক নামে চার যুবক। তারা দিনাজপুরের রানীরবন্দর থেকে এসেছেন।
রমজান বলেন, সরকার হরতাল ডেকে বাস-ট্রাক বন্ধ করে দিতে পারে। এজন্য বৃহস্পতিবার দুপুরে জনসভায় যোগ দেওয়ার জন্য চলে এসেছি। এই দুই দিন নগরীর খটখটিয়া এলাকার এক আত্মীয়র বাড়িতে আমরা চারজন থাকব।
তিনি আরও বলেন, আমরা এত দূর থেকে কষ্ট করে এসেছি এ কারণে যে, এই সরকারের নানান অপকর্মে আমরা অতিষ্ঠ। আমরা চাই দেশে একটা সুষ্ঠু নির্বাচন হোক।
প্রায় একই ধরনের কথা বলেন সমাবেশস্থলে আসা রংপুরের বদরগঞ্জের আরমান আলী ও সুমন মিয়া এবং লালমনিরহাটের বড়বাড়ী এলাকার সুরেশ চন্দ্র, অমল রায় ও খয়বর আলী।
শনিবারের গণসমাবেশকে বাধাগ্রস্ত করতে সরকারের ইশারায় পরিবহন মালিকরা ধর্মঘট ডেকেছেন বলে দাবি করেছেন বিএনপি নেতারা। এমন ধর্মঘটের আশঙ্কা করে আগে থেকেই রংপুর কালেক্টরেট ঈদগাহ মাঠে বিভাগের বিভিন্ন জেলা থেকে বিএনপির নেতাকর্মীরা আগাম আসতে শুরু করেছেন বলে তারা জানান।
তারা আরও বলেন, যেকোনো উপায়ে গণসমাবেশ সফল করতে নেতাকর্মীরা নিজ নিজ উপায়ে মাঠে অবস্থান করছেন। জ্বালানি তেল ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি, নেতাকর্মীদের হত্যা, হামলা ও মামলার প্রতিবাদে এবং দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তি, নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে সারা দেশের দশ বিভাগীয় শহরে গণসমাবেশের ডাক দেয় বিএনপি।
এর মধ্যে চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহ ও খুলনায় সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় রংপুর কালেক্টরেট ঈদগাহ মাঠে চতুর্থ গণসমাবেশের আয়োজন করা হয়েছে। অন্যান্য বিভাগীয় সমাবেশের মতো লোকসমাগমের উপস্থিতি রক্ষা করতে চায় দলটি। তাদের লক্ষ্য দশ লাখ মানুষের সমাগম। পরিবহন ধর্মঘটের পরিপ্রেক্ষিতে বিএনপির নেতাকর্মীরা অভিযোগ করে বলছেন, সমাবেশে লোকসমাগম ঠেকাতেই সরকারের প্ররোচনায় এসব ধর্মঘট ডাকা হচ্ছে। তবে এই অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে সরকার পক্ষ বলছে, বিএনপির অতীতের নানা কর্মসূচিতে বাসে আগুন ও ভাঙচুরের ভয়ে মালিকরা বাস বন্ধ রাখছেন, এতে সরকারের হাত নেই।