সাভারে বংশী নদীর তীরে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ শুরু

দীর্ঘসময় আলোচনা সমালোচনার পর আদালতের নির্দেশে অবশেষে সাভারে বংশী নদীতীর দখল করে অবৈধভাবে গড়ে ওঠা কমপক্ষে তিন শতাধিক অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে অভিযান শুরু করেছে ঢাকা জেলা প্রশাসন। গতকাল শুক্রবার সকাল ১০টা থেকে ক্রাশ প্রোগ্রাম নামে ঢাকা জেলা প্রশাসনের দুই দিনব্যাপী এই অভিযান শুরু হয় সাভার নামাবাজার এলাকায়। এসময় নামাবাজার বাঁশপট্টি থেকে কাঠপট্টি এলাকার কয়েকটি অংশে এ অভিযান চালানো হয়। অভিযানের প্রথম দিনেই অন্তত অর্ধশতাধিক অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে প্রায় ৪ একর এলাকা জুড়ে গড়ে ওঠা সকল অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা।

সাভার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. মাজহারুল ইসলামের নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে পানি উন্নয়ন বোর্ড, স্থানীয় পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি, সাভার পৌরসভা ও স্থানীয় থানা পুলিশ সহযোগিতা করে।

সাভার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. মাজহারুল ইসলাম বলেন, সাভার নামাবাজার এলাকায় প্রায় ৪ একর নদীর জমি দখল করে তিন শতাধিক অবৈধ স্থাপনা গড়ে উঠেছে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে দুই দিনব্যাপী ক্রাশ প্রোগ্রামের আওতায় এসব স্থাপনা উচ্ছেদ করা হচ্ছে। তবে প্রয়োজনে দুই দিনের পরেও এই অভিযান চলমান থাকবে। ইতিমধ্যে আমরা অর্ধশতাধিক স্থাপনা উচ্ছেদ করেছি। যেহেতু শর্ট নোটিসে এই অভিযান শুরু হয়েছে, এখনো কিছু ব্যবসায়ী তাদের দোকানের মালামাল অপসারণ করছেন। আমরা মালামাল সরিয়ে নিতে তাদের সুযোগ দিচ্ছি, একই সঙ্গে অভিযানও চলমান রয়েছে।

সাভার নাগরিক কমিটি ও পরিবেশবাদী সংগঠন নদী ও পরিবেশ উন্নয়ন পরিষদের সভাপতি কৃষিবিদ ড. রফিকুল ইসলাম ঠা-ু মোল্লা বলেন, দেরিতে হলেও নদীর জমিতে নির্মিত অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে জেলা প্রশাসনের এই উদ্যোগকে আমরা স্বাগত জানাই। আমরা চাই নদী তার প্রাণ ফিরে পাক, অবৈধ দখলদারদের কবল থেকে নদী দখলমুক্ত হোক। তবে অভিযানে যেন কোনো প্রভাবশালীর স্থাপনাকে ছাড় না দেওয়া হয়, সেদিকে লক্ষ্য রাখতে সংশ্লিষ্টদের প্রতি আমাদের অনুরোধ থাকবে।

অভিযানকালে নামাবাজার ঘুরে দেখা যায়, নদীর জমিতে অবৈধভাবে গড়ে ওঠা এসব স্থাপনার প্রতিটিতেই রয়েছে পৌরসভার হোল্ডিং নাম্বার ও বিদ্যুৎ সংযোগ। তবে এসব স্থাপনায় বিদ্যুৎ সংযোগ প্রসঙ্গে পল্লী বিদ্যুৎ ৩ এর জেনারেল ম্যানেজার মোল্লা মো. আবুল কালাম আজাদ বলেন, সাধারণত জমির মালিকানার কাগজ দাখিলের পরই কোনো স্থাপনায় বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া হয়। কিন্তু এই স্থাপনাগুলোর বিদ্যুৎ সংযোগ অনেক আগে দেওয়া হয়েছে। যে কারণে এই মুহূর্তে ফাইল চেক না করে এ বিষয়ে বিস্তারিত বলা যাচ্ছে না। এখন হয়তো সময় এসেছে বিষয়গুলো পর্যালোচনা করার।