কী কারণে সিউলে হ্যালোউইন পার্টিতে মৃত্যু মিছিল?

শনিবার রাতে দক্ষিণ কোরিয়ার রাজধানী সিউলে খ্রিস্টানদের অন্যতম প্রধান উৎসব হ্যালোইন উদযাপনের অনুষ্ঠানে পদদলনের ঘটনায় নিহত হয়েছেন ১৫১ জন, আহত হয়েছেন আরও ১৫০ জন এবং এখনও নিখোঁজ রয়েছেন ৩৫৫ জন মানুষ। আহতদের মধ্যে অনেকেরই অবস্থা আশঙ্কাজনক। ফলে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে। এই ঘটনায় আগামী ৫ নভেম্বর পর্যন্ত ঘটনায় রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছে দক্ষিণ কোরিয়া।

ঘটনার পরপরই জরুরি বৈঠকে বসেন সেদেশের রাষ্ট্রপতি। প্রাথমিক অনুমান, খুব ছোট একটা গলিতে লক্ষাধিক মানুষের সমাগম হওয়ার কারণেই এই পরিস্থিতি তৈরি হয়। হ্যামিল্টন হোটেলের কাছে ইটাওয়ানের একটি সরু গলিতে লক্ষাধিক লোক জড়ো হয়েছিল। কোভিড বিধিনিষেধ তুলে নেওয়ার পর এটিই ছিল প্রথম হ্যালোউইন ইভেন্ট। কোভিড বিধিনিষেধ উঠে যাওয়ায় রাজধানী সিওলে মানুষের ভিড় উপচে পড়ে। আর তাতেই বিপত্তি বলে মনে করা হচ্ছে।

রিপোর্ট অনুযায়ী, এক লাখেরও বেশি লোক ওই সরু গলিতে ছিলেন। তাছাড়া হ্যামিল্টন হোটেল থেকে এবং ইটাওয়ানের ঘূগর্ভ রেল স্টেশন থেকেও বিশাল ভিড় বেরিয়ে আসছিল বলে জানা গিয়েছে।

কোরিয়ান মিডিয়ার প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে যে গলির আশেপাশের একটি স্থানে কোনও এখ ‘সেলিব্রিটি’ উপস্থিত হলে ভিড় বেড়ে যায়। হুড়োহুড়ি পড়ে যায় সেই ‘সেলিব্রিটি’কে দেখতে।

কোরিয়ান সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যে গলিপথে পদপিষ্ট হওয়ার ঘটনা ঘটেছে, সেটি মাত্র চার মিটার চওড়া। সেই সরু গলিতে কোনও সেডান গাড়িও ঢুকতে পারবে না। সেখানেই লক্ষাধিক মানুষ জড়ো হয়েছিলেন।

রিপোর্ট অনুযায়ী, হ্যামিল্টন হোটেলের পাশের গলির পরিস্থিতি এতটাই বিশৃঙ্খল ছিল যে বহু সময় ধরে মৃতদের দেহ সিওলের রাস্তাতেই পড়ে ছিল। বিভিন্ন সংবাদসংস্থার ছবিতে দেখা গিয়েছে যে রাস্তায় সারি দিয়ে মৃতদেহ রাখা আছে। অনেককেই পড়ে থাকা ব্যক্তিদের বাঁচানোর চেষ্টা করতে দেখা যায়। হ্যালোউইনের পার্টির পোশাক পরা অবস্থাতেই রাস্তায় অনেক যুবক-যুবতীতে কাঁদতে দেখা যায়।