খাদে পড়ল প্রাইভেট কার প্রাণ গেল বাবা-মেয়ের

শরীয়তপুরের নড়িয়ায় প্রাইভেট কার খাদে পড়ে এক আইনজীবী ও তার শিশুকন্যা নিহত হয়েছে। এ সময় ওই গাড়িতে থাকা আরও তিনজন আহত হন। গত শনিবার গভীর রাতে জামতলা এলাকায় শরীয়তপুর-ঢাকা মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

এদিকে জয়পুরহাটে মোটরসাইকেলের ধাক্কায় পাঁচ বছর বয়সী এক শিশু নিহত এবং তার মা ও বোন গুরুতর আহত হয়েছে। গতকাল রবিবার সকালে সদর উপজেলার দুর্গাদহ বাজার এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। অন্যদিকে গতকাল বিকেলে নরসিংদীর পলাশে কাভার্ড ভ্যান ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে একজন নিহত হয়েছেন, আহত হয়েছেন আরও পাঁচজন।

নড়িয়ায় নিহতরা হলেন শরীয়তপুর সদর উপজেলার আঙ্গারিয়া ইউনিয়নের দক্ষিণ ভাসানচর গ্রামের অ্যাডভোকেট রাশেদুল হক রাশেদ (৩৮) ও তার মেয়ে মাইশা আক্তার (২)। আহতরা হলেনÑ নিহত রাশেদের স্ত্রী সোহানা আক্তার মিলি (২৬), বড় মেয়ে মেবিন (৬) ও প্রাইভেট কারচালক কামরুল হাসান (২৭)।

পুলিশ ও নিহতদের পরিবারের সদস্যরা জানায়, গত ২৭ অক্টোবর ব্যক্তিগত প্রাইভেট কার নিয়ে কক্সবাজার ঘুরতে যান রাশেদ ও তার পরিবারের সদস্যরা। শনিবার রাতে বাড়িতে ফেরার সময় নড়িয়ার জামতলা এলাকায় শরীয়তপুর-ঢাকা মহাসড়কে পৌঁছলে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে প্রাইভেট কারটি পাশের খাদে পড়ে উল্টে যায়। পরে এলাকাবাসী আহতদের উদ্ধার করে জাজিরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক রাশেদুল হক ও তার মেয়ে মাইশাকে মৃত ঘোষণা করেন।

জয়পুরহাটে মোটরসাইকেলের ধাক্কায় শিশু নিহত : জয়পুরহাটে মাদ্রাসায় যাওয়ার পথে মোটরসাইকেলের ধাক্কায় পাঁচ বছর বয়সী শিশু আনিকা নিহত হয়েছে। এ সময় তার মা ও বোন গুরুতর আহত হন। তারা হাসপাতালে ভর্তি আছেন। গতকাল সকাল ১০টার দিকে সদর উপজেলার দুর্গাদহ বাজার এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত আনিকা নওগাঁর বদলগাছী উপজেলার চাকলা গ্রামের শাহিনের মেয়ে।

পুলিশ জানায়, বদলগাছী উপজেলার চাকলা গ্রাম থেকে মা ও বড় বোনের সঙ্গে আনিকা মাদ্রাসা যাচ্ছিল। পথে পাহাড়পুরের দিক থেকে বেপরোয়া গতিতে আসা একটি মোটরসাইকেল তাদের ধাক্কা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই শিশু আনিকার মৃত্যু হয়। এ সময় মা ও বোন গুরুতর আহত হন। তাদের উদ্ধার করে জয়পুরহাট জেলা আধুনিক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

জয়পুরহাট থানার ওসি সিরাজুল ইসলাম জানান, দুর্ঘটনার পর মোটরসাইকেলটি ফেলে চালক পালিয়ে যায়।

পলাশে কাভার্ড ভ্যান-সিএনজি সংঘর্ষে নিহত ১ : নরসিংদীর পলাশে কাভার্ড ভ্যান ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে আলমগীর হোসেন (৩০) নামে অটোরিকশার এক যাত্রী নিহত হয়েছেন। এ সময় আহত হন অটোরিকশার চালকসহ পাঁচজন। গতকাল বিকেলে ইটাখলা-গাজীপুর আঞ্চলিক সড়কের চরসিন্দুর ইউনিয়নের সুলতানপুরে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত আলমগীর  ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা থানার বন্দগোয়ালিয়া গ্রামের আমিন মিয়ার ছেলে।

আহতরা হলেনÑ অটোরিকশার চালক আশরাফুল মিয়া (৩৫), শামসুরনাহার লিজা (২৫) ও তার ভাতিজা সায়মন (৬), জালাল মিয়া (৩২) ও ইলিয়াছ মিয়া (২৫)।

পুলিশ জানায়, গাজীপুর থেকে ছয়জন যাত্রী নিয়ে অটোরিকশাটি নরসিংদীর ইটাখলার দিকে যাচ্ছিল। আর কাভার্ড ভ্যানটি চরসিন্দুর থেকে গাজীপুরের দিকে যাচ্ছিল। কাভার্ড ভ্যানের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষে অটোরিকশাটি দুমড়ে-মুচড়ে যায়।

প্রত্যক্ষদর্শী ইব্রাহিম মিয়া বলেন, ‘আমরা বিকট শব্দ শুনে এসে দেখি কাভার্ড ভ্যান সিএনজিকে চাপা দিয়েছে। আমরা আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে ডাক্তার একজনকে মৃত ঘোষণা করেন।’

পলাশ থানার এসআই আজাদ হোসেন জানান, কাভার্ড ভ্যানচালক পালিয়ে গেলেও ভ্যান ও অটোরিকশাটি জব্দ করা হয়েছে।

প্রতিবেদনটি তৈরিতে তথ্য দিয়ে সহায়তা করেছেন সংশ্লিষ্ট জেলার প্রতিনিধিরা