কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে দেড় দশক পূর্বে জমিজমা সংক্রান্ত দ্বন্দ্বের জেরে কৃষক রেজাউলকে হত্যার দায়ে পাঁচ ভাইকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাদের প্রত্যেককে ২৫ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক বছর কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
সোমবার (৩১ অক্টোবর) দুপুর দেড়টায় কুষ্টিয়া জেলা ও দায়রা জজ অতিরিক্ত আদালত-১ এর বিচারক তাজুল ইসলামিএ রায় দেন।
সাজাপ্রাপ্তরা হলেন- কুমারখালী উপজেলার মাঝ গ্রামের বাসিন্দা মৃত. রহমত সেখের ছেলে উজ্জল হোসেন (৪৭), জালাল উদ্দিন (৫৬), সেজ্জাত ওরফে সুজাত (৪৩), আব্দুল গফুর (৬৭) ও সুজন হোসেন (৩৮)।
মামলা সূত্রে জানা যায়, ২০০৭ সালের ১১ জুন রাত ১০টায় কুমারখালী উপজেলার মাঝগ্রাম এলাকার সেচ খালের পানি দিয়ে ইরি ধানের জমিতে সেচ দেওয়ার উদ্দেশে মাঠে যাচ্ছিলেন কৃষক রেজাউল উদ্দিন এবং তার দুই মামা আফিল উদ্দিন ও জামাল উদ্দিন। এসময় মাঠের মধ্যে কয়েকজন রেজাউলকে অস্ত্রসহ ঘিরে ধরেন। এসময় তাকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে পালিয়ে যান তারা। সেখান থেকে রেজাউলকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
এঘটনায় নিহতের মামা আফিল উদ্দিন সেখ বাদি হয়ে ৮ জনের নামোল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ৫/৬ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন কুমারখালী থানায়।
মামলাটি তদন্ত শেষে ২০০৮ সালের ৭ জানুয়ারি ১২ জনের বিরুদ্ধে কৃষক রেজাউল হত্যায় জড়িত অভিযোগ এনে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন কুমারখালী থানার উপ পুলিশ পরিদর্শক সামছুল আলম সিদ্দিকী।
কুষ্টিয়া জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পিপি অ্যাড. অনুপ কুমার নন্দী জানান, জমিজমা সংক্রান্ত দ্বন্দ্বের জেরে প্রতিপক্ষের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে রেজাউল নামের কৃষককে হত্যার দায়ে ৫ সহোদরের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সন্দেহাতীত প্রমাণিত হওয়ায় আদালত তাদের যাবজ্জীবন কারাদণ্ডসহ ২৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ডাদেশ দিয়েছেন আদালত।
এছাড়া অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় মজনু, বিল্লাল, মো. হেলাল, জলিম উদ্দিন, সাকাই, দুলাল ও আব্দুর রহিমকে বেকসুর খালাস দিয়েছেন আদালত।