চুক্তিতে ফিরতে রাশিয়ার শর্ত

রাশিয়া শস্যচুক্তি বাতিল করে দেয়নি বরং সাময়িক স্থগিত করেছে বলে অবস্থান স্পষ্ট করেছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিন। এজন্য ইউক্রেনের দিক থেকে খাদ্যশস্য করিডোর নিরস্ত্রীকরণের বিষয়ে জাতিসংঘের নিশ্চয়তা চায় রাশিয়া। গত সোমবার মস্কোর তরফে এমন দাবি তোলা হয়েছে। এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা।

রাশিয়া বলছে, জাতিসংঘ যেন তাদের এটা নিশ্চিত করে যে, কৃষিপণ্য রপ্তানির মানবিক করিডোর ব্যবহার করে শত্রুতামূলক কর্মকাণ্ড চালাবে না ইউক্রেন। সামাজিক মাধ্যম টেলিগ্রামে দেওয়া পোস্টে রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বলেছে, ইউক্রেন এই রুটটি সামরিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার না করার প্রতিশ্রুতি না দেওয়া পর্যন্ত এই অঞ্চলে কোনো কিছুর সুরক্ষার গ্যারান্টি দেওয়ার প্রশ্নই উঠতে পারে না।

কৃষ্ণসাগরের ক্রিমিয়া উপকূলে রুশ নৌবহরে ড্রোন হামলার পর ইউক্রেন থেকে শস্য রপ্তানির চুক্তি থেকে সরে দাঁড়িয়েছে রাশিয়া। তবে ইউক্রেন-রাশিয়ার খাদ্যশস্য চুক্তি অব্যাহত রাখতে তুরস্ক বদ্ধপরিকর। সোমবারই ইস্তাম্বুলে এক অনুষ্ঠানে এমন মন্তব্য করেছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান। তিনি বলেছেন, মস্কো চুক্তি থেকে নিজেকে সাময়িক প্রত্যাহার করে নেওয়া সত্ত্বেও এ উদ্যোগ টিকিয়ে রাখতে আঙ্কারা বদ্ধপরিকর। যদিও রাশিয়া এ বিষয়ে দ্বিধাগ্রস্ত, কেননা তাদের জন্য একই সুবিধা দেওয়া হয় না। তবে আমরা মানবতার কল্যাণে দৃঢ়সংকল্প নিয়ে আমাদের প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখব।’

এছাড়া তুরস্কের প্রতিরক্ষামন্ত্রী হুলুসি আকর সোমবার রুশ প্রতিপক্ষ সের্গেই শোইগুকে টেলিফোনে বলেন যে, শস্য চুক্তিটি চালিয়ে যাওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং এটিকে ইউক্রেনের সংঘাত থেকে আলাদাভাবে দেখা উচিত।

এদিকে একইদিন রাশিয়া বলেছে, মস্কোর অংশগ্রহণ ছাড়া চুক্তিটি কার্যকরভাবে চালিয়ে যাওয়া ‘বিপজ্জনক’ হবে। ক্রেমলিন মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ সাংবাদিকদের বলেন, ‘যে পরিস্থিতিতে রাশিয়া এই অঞ্চলে নৌ চলাচলের নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দেওয়া অসম্ভব মনে করছে, সেখানে এ ধরনের চুক্তির কার্যকারিতা প্রায় অসম্ভব।’ রাশিয়ার অংশগ্রহণ ছাড়া চুক্তিটি দীর্ঘায়িত করার সম্ভাবনার ব্যাপারে সাংবাদিকরা জানতে চাইলে পেসকভ বলেন, ‘তাহলে এটি একটি ভিন্ন রূপ নেবে যা অনেক বেশি ঝুঁকিপূর্ণ ও বিপজ্জনক।’

এই কর্মসূচির সমন্বয়কারী জাতিসংঘের কর্মকর্তা আমির আবদুল্লাহ বলেছেন, ‘বেসামরিক পণ্যবাহী জাহাজ কখনই সামরিক লক্ষ্য বা জিম্মি হতে পারে না। খাদ্যশস্য অবশ্যই রপ্তানি হবে’।

গত শনিবার ক্রিমিয়া উপকূলে হামলার পর এ চুক্তি স্থগিতের ঘোষণা দেয় রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। রাশিয়ার অভিযোগ, ইউক্রেন গত শনিবার ১৬টি ড্রোন দিয়ে সংযুক্ত ক্রিমিয়া উপদ্বীপের সেভাস্তোপোলে রুশ নৌবহরে হামলা চালিয়েছে। এতে ব্রিটিশ নৌবাহিনীর ‘বিশেষজ্ঞরা’ সহায়তা করে বলেও অভিযোগ রাশিয়ার।

গত ২২ জুলাই সম্পাদিত এই চুক্তির মেয়াদ ১২০ দিন এবং আগামী ১৯ নভেম্বর চুক্তিটি নবায়ন করার কথা রয়েছে। ইউক্রেনে গত ২৪ ফেব্রুয়ারি রাশিয়া সামরিক অভিযান শুরুর পর থেকে কার্যত বন্ধ থাকে কৃষ্ণসাগরের বন্দরগুলো। শুধু ওডেসা বন্দরেই আটকা পড়ে ২৫ মিলিয়ন টন শস্য। চুক্তি সইয়ের ফলে রাশিয়ার খাদ্যপণ্যসহ সারও রপ্তানি শুরু হয় এই সমুদ্রপথে।

বিশ্বে খাদ্যের ১০ ভাগের এক ভাগ সরবরাহ করে রাশিয়া ও ইউক্রেন। বৈশ্বিক গম রপ্তানির ৩০ শতাংশের পাশাপাশি সূর্যমুখী তেলের ৬০ শতাংশ উৎপাদন করে তারা। কমপক্ষে ২৬টি দেশ তাদের অর্ধেকেরও বেশি খাদ্যশস্যের জন্য রাশিয়া-ইউক্রেনের ওপর নির্ভরশীল।