দিনে ৪৫ কেজি প্লাস্টিক খাচ্ছে তিমি

বিশ্বের সবচেয়ে বৃহৎ প্রাণী নীল তিমি। দানবীয় প্রাণীটির বিপুল পরিমাণ খাবার খেতে হয়। প্রতিদিনই প্রাণীগুলো গলাধঃকরণ করে টন টন খাবার। তাদের প্রধান খাবার হলো চিংড়ির মতো দেখতে ক্রিল। তাছাড়া অন্যান্য জলজ প্রাণীও খায় তিমিরা। তবে বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, নীল তিমি এখন প্লাস্টিকও খাচ্ছে। সাগর প্লাস্টিকের ছোট ছোট দানায় ভরপুর হয়ে যাওয়ার কারণেই এমনটি হচ্ছে। প্রকৃতির সম্পদ ও পরিবেশের ভারসাম্যের অন্যতম নিয়ামক প্রাণীটির দেহে এই বিপজ্জনক প্লাস্টিক কণা ঢুকে যাওয়া নিয়ে করা গবেষণা নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে ব্রিটিশ গণমাধ্যম গার্ডিয়ানে।  

প্রতিবেদন বলছে, যুক্তরাষ্ট্রের প্যাসিফিক উপকূলে বালিন জাতের তিমি নীল, ফিন এবং হাম্পব্যাক এ তিন প্রজাতির ওপর গবেষণা চালানো হয়। বালিন আসলে এক রকমের ছাঁকনি, সূক্ষ্ম এই অঙ্গ দিয়েই খাবার সংগ্রহ করে দানবীয় প্রাণীরা। খাবার খেতে তারা ব্যবহার করে মুখের ভেতর থাকা কেরাটিনের তৈরি বালিন প্লেট। কেরাটিন নামের পদার্থটি মানুষের হাতের নখে পাওয়া যায়।

গবেষণায় জানার চেষ্টা করা হয় যে বালিনের মাধ্যমে ক্রিল শিকারের সময় ঠিক কী পরিমাণ প্লাস্টিক তিমিগুলো খাচ্ছে। গবেষণার তথ্য অনুযায়ী নীল তিমি প্রতিদিন ১০ মিলিয়ন বা ১ কোটি মাইক্রোপ্লাস্টিক খাচ্ছে, যা ওজনে প্রায় ৪৫ কেজির সমান। অন্যদিকে ফিন তিমি প্রতিদিন খাচ্ছে ৬০ লাখ মাইক্রোপ্লাস্টিক, যা প্রায় ২৫ কেজির সমান। ফিন তিমিরও প্রধান খাবার হলো ক্রিল। গবেষণায় প্রাপ্ত তথ্যমতে যে হাম্পব্যাক তিমিরা ক্রিল খায় সেগুলো প্রতিদিন ৪০ লাখ মাইক্রোপ্লাস্টিক না চাইলেও উদরে প্রবেশ করায় যা প্রায় ১৭ কেজির সমান। 

গবেষকরা এ তথ্য পেতে ১২৬টি নীল তিমি, ৬৫টি হাম্পব্যাক তিমি এবং ২৯টি ফিন তিমির ওপর গবেষণা চালিয়েছেন। গবেষণায় পাওয়া গেছে তিমিরা ১৬৫-৮২০ ফুট গভীরে সবচেয়ে বেশি খাবার খেয়ে থাকে। আর এখানেই মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি সবচেয়ে বেশি পাওয়া যায়। মাইক্রোপ্লাস্টিক হলো প্লাস্টিক বর্জ্যরে ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র কণা। এগুলো ৫ মিলিমিটারের চেয়েও ছোট। শিল্পবর্জ্য ও অন্যান্য পণ্য থেকে এগুলো তৈরি হয়। সাম্প্রতিক দশকগুলোতে সমুদ্রে মাইক্রোপ্লাস্টিকের পরিমাণ বেড়েছে।