উজ্জীবিত দক্ষিণ আফ্রিকা চাপে পাকিস্তান

জিম্বাবুয়ের সঙ্গে পয়েন্ট হারিয়ে বেশ চাপে পড়েছিল দক্ষিণ আফ্রিকা। চারদিকে রব ওঠে ওই ১ পয়েন্টের জন্য না তাদের সেমিফাইনাল স্বপ্ন শেষ হয়! সেই শঙ্কা এখনো আছে। তবে ভারতের বিপক্ষে গত ম্যাচে দুর্দান্ত জয়ের পর সম্ভাবনাটা বেড়েছে প্রোটিয়াদের।

উল্টো অবস্থা বিশ্বকাপের। শুরুতে ফেভারিটদের তালিকায় থাকা পাকিস্তান পড়ে গেছে চাপে। তাদের মূল শক্তি পেস ইউনিট যে অস্ট্রেলিয়ায় নিজেদের মেলে ধরতে ব্যর্থ। তাই ভারত ও জিম্বাবুয়ের সঙ্গে টানা দুই ম্যাচ হেরে বিশ্বকাপ শেষ হওয়ার জোগাড় পাকিস্তানের। আসরে টিকে থাকতে হলে প্রোটিয়াদের বিপক্ষে সিডনির আজকের ম্যাচ জয়ই দলটির সামনে একমাত্র উপায়। হারলেই বাংলাদেশের সঙ্গে ম্যাচ হাতে থাকলেও গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় নিশ্চিত হবে। বিপরীতে দক্ষিণ আফ্রিকার অতটা চাপ নেই। তারা অবশ্যই জিততেই মাঠে নামবে। ভিন্ন কিছু হলে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে শেষ ম্যাচ আছে।

গ্রুপ ২ এর সেমিফাইনাল সমীকরণ গ্রুপ ১ এর মতো জটিল হয়নি। ৬ পয়েন্ট নিয়ে সবার ওপরে ভারত। দক্ষিণ আফ্রিকা ৩ ম্যাচে ৫ পয়েন্ট, নেট রানরেট সবার চেয়ে ভালো তাদের, ২.৭৭। এরপর বাংলাদেশের ৪ ম্যাচে ৪। পাকিস্তান ৩ ম্যাচের মাত্র একটি জেতায় ২ পয়েন্ট নিয়ে তলানির নেদারল্যান্ডসের ঠিক ওপরে। আজ প্রোটিয়াদের সঙ্গে জিতলে তাদের পয়েন্ট হবে ৪।

দু’দলের জন্য দারুণ গুরুত্বপূর্ণ এই ম্যাচে পাকিস্তান স্পষ্টভাবেই পিছিয়ে। অন্তত এই আসরে দলটির ক্রিকেটারদের ফর্ম বিবেচনায় তাই বলতে হয়। এদিকে ভিন্ন রূপ দক্ষিণ আফ্রিকার। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ডি কক ভালো খেলেছেন, পরের ম্যাচে বাংলাদেশের সঙ্গে রাইলি রুশো-ডি কক-এনরিখ নরকিয়া আর ভারতের সঙ্গে লুঙ্গি এনগিডি-এইডেন মার্করাম-ডেভিড মিলার। প্রতি ম্যাচে তাদের দলগত পারফরম্যান্স জয় এনে দিচ্ছে। একজনের সঙ্গে দাঁড়িয়ে যাচ্ছেন অপরজন। পাকিস্তানের এই অবস্থা নেই। তাদের শক্তিটা দুই ওপেনার ও বোলিং ইউনিটে। কিন্তু এবার বাবর আজম পুরো ফ্লপ। ওপেনিং সঙ্গী মোহাম্মদ রিজওয়ান দারুণ ফর্ম নিয়ে বিশ্বকাপে এলেও বড় কিছু করতে পারছেন না। ওদিকে শাহিন শাহ আফ্রিদি ফিরলেও নাসিম শাহর মতো নিশ্চুপ হয়ে গেছেন। ভারতের সঙ্গে পার্থের কঠিন কন্ডিশনে প্রোটিয়াদের জয় সিডনির সহজ কন্ডিশনকে তাদের জন্য আরও সহজ করেছে। কাল সংবাদ সম্মেলনে গত ম্যাচে জয়ের নায়ক ডেভিড মিলার এমনটাই জানালেন, ‘অবশ্যই ভারতের বিপক্ষে জয় আমাদের অনেক আত্মবিশ্বাস দেবে। সেখানে ব্যাটারদের জন্য মোটেও সহজ ছিল না। বল সুইং করছিল, এক্সট্রা বাউন্স হচ্ছিল। একমাত্র বোলারের ভুল ছাড়া আপনি রান করতে পারতেন না। আমি আমাদের বোলারদের ধন্যবাদ দেব কারণ ভারতকে ওরা কম স্কোরে আটকে দিয়েছে। নয়তো আমাদের পক্ষে পরে ব্যাট করে বড় রান টপকানো কঠিন হতো।’

দুই দলের টি-টোয়েন্টিতে ২১ দেখায় ১১ জয় আছে পাকিস্তানের। বিপরীতে দক্ষিণ আফ্রিকার জয় ১০টিতে। তবে এই এগিয়ে থাকা আজ কোনো কাজে দেবে না। পাকিস্তানের একমাত্র আশার কথা টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে প্রোটিয়াদের কাছে কখনই হারেনি তারা। তিনবারের দেখায় তিনবারই জিতেছে। এই অতীত সঙ্গ না দিলে পাকিস্তানের জন্য আজ আত্মবিশ্বাসী প্রোটিয়াদের হারানোর সত্যিই কঠিন কাজ। মিলার অবশ্য পাকিস্তানকে সমীহ করেই মাঠে নামার কথা জানালেন, ‘বিশ্বকাপে সব ম্যাচই গুরুত্বপূর্ণ। পাকিস্তান প্রতিপক্ষ হিসেবে সবসময়ই কঠিন। আমরা সবাই ওদের আনপ্রেডিক্টেবল গুণের কথা জানি। তাই এই ম্যাচে আমরা মোটেও হালকাভাবে নামছি না। ওদের ম্যাচ উইনার আছে, যারা যে কোনো মুহূর্তে জ্বলে উঠতে পারে।’

মিলার জানেন পাকিস্তানের জন্য এটা বাঁচামরার লড়াই। এই ম্যাচে বাবররা মরণপণ চেষ্টা করবেন। পাকিস্তানের হয়ে সংবাদ সম্মেলনে আসা তরুণ পেসার নাসিম শাহও এই কথা জানালেন, ‘এটা অবশ্যই আমাদের জন্য বড় ম্যাচ। দলের সবাই এটা জানে। আমরা এই জন্য প্রস্তুত। দক্ষিণ আফ্রিকা ভালো খেলছে এই মুহূর্তে। ভারতকে কঠিন ম্যাচে তারা হারিয়েছে। ওরা অবশ্যই এই টুর্নামেন্টের শক্তিশালী দল। কিন্তু আমাদের জিততেই হবে।’ ভারতের সঙ্গে পাকিস্তানের লড়াই সবসময়ই অন্য মাত্রা রাখে। আসরের শুরুতে এ দুই দলের ম্যাচ মানে দুই দলের গতিটাও বদলে যাওয়া। গত এশিয়া কাপে পাকিস্তানের কাছে সুপার ফোরে হেরে ফাইনালে উঠতে পারেনি ভারত। এবার বিশ্বকাপে প্রথম ম্যাচে ভারতের কাছে হেরে পাকিস্তানের ছন্দ কেটে গেছে। অবশ্য নাসিম শাহ এমনটা মনে করছেন না, ‘আমি এটা মনে করছি না। নিশ্চিত করতে পারে পাকিস্তানের কেউই এটা ভাবছে না। পেশাদার হিসেবে আমরা ওই হার থেকে অনেক দূরে চলে এসেছি। আমরা ওই ম্যাচ নিয়ে একটুও ভাবছি না। দক্ষিণ আফ্রিকা ম্যাচ নিয়ে আমরা খুবই ইতিবাচক।’

পাকিস্তান ইতিবাচক থাকলেও মাঠে তাদের পারফরম নেতিবাচক। দক্ষিণ আফ্রিকার সঙ্গে এই ধারা না পাল্টালে আজই তাদের অভিযান শেষ হতে চলেছে।