৫২ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নেই প্রধান শিক্ষক

বিদ্যালয়ের পাঠদানসহ শিক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনার নেতৃত্ব দেন প্রধান শিক্ষক। কিন্তু বছরের পর বছর প্রধান শিক্ষকের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদটি শূন্য রেখেই চলছে ঢাকার ধামরাইয়ের অর্ধশতাধিক প্রাথমিক বিদ্যালয়। প্রধান শিক্ষক শূন্যতায় ভেঙে পড়ছে পুরো উপজেলার প্রাথমিক শিক্ষাব্যবস্থা। উপজেলার ১৭১টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ৫২টিতে প্রধান শিক্ষক ও বেশ কয়েকজন সহকারী শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে।

প্রধান শিক্ষক না থাকায় বিদ্যালয়গুলোতে অন্যান্য শিক্ষক ও কর্মচারীদের কোনো জবাবদিহিতা নেই বললেই চলে। একই সঙ্গে প্রশাসনিক কার্যক্রম ও শ্রেণি শিক্ষা কার্যক্রম চরমভাবে বিঘিœত হচ্ছে। এ ছাড়া অনেক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষকের পদও শূন্য রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে সন্তানদের লেখাপড়ার মান নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন অভিভাবকরা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ধামরাই উপজেলায় ১৭১টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রায় ৩৭ হাজার শিক্ষার্থী রয়েছে। এসব বিদ্যালয়ের মধ্যে ৪২টিতে চলতি দায়িত্বে রয়েছেন প্রধান শিক্ষক। বাদবাকি ৫২টি বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক না থাকায় ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দিয়ে চলছে সব কার্যক্রম। ফলে বিদ্যালয়গুলোতে অন্যান্য শিক্ষক ও কর্মচারীর নেই কোনো জবাবদিহিতা। আর সঠিক তদারকি না থাকায় বিদ্যালয়গুলোতে দিন দিন কমছে শিক্ষার্থীর সংখ্যা। এমনকি পৌরশহরের পাঠানটোলা মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং ইসলামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মতো একসময়ের নামকরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য প্রায় দেড় বছর ধরে। আর এ শূন্যতা পূরণে শিক্ষা কর্মকর্তাদের তেমন কোনো প্রচেষ্টা নেই বলে অভিযোগ রয়েছে।

বিভিন্ন সময়ে শিক্ষকদের অবসর, বদলি, মৃত্যু ও পদোন্নতিজনিত কারণে এসব প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে। শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এসব বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক না থাকায় পাঠদানে কোনো জবাবদিহিতা নেই বললেই চলে। ফলে পড়াশোনার মানও দিন দিন কমে যাচ্ছে। তাই বাধ্য হয়ে সন্তানদের ভর্তি করতে হচ্ছে অন্য কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে।

এদিকে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাদের সঠিক তদারকি না থাকার কারণে প্রধান শিক্ষকবিহীন বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষকরা নিজেদের ইচ্ছামতো আসা-যাওয়া করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। বিশেষ করে শিক্ষা কর্মকর্তাদের তদারকিহীনতা এবং শিক্ষক স্বল্পতার কারণে গ্রামাঞ্চলের অনেক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমে যাচ্ছে। এ ছাড়া শিক্ষকদের মধ্যে বিষয়ভিত্তিক প্রশিক্ষণ থাকলেও সৃজনশীলতার প্রশিক্ষণ না থাকায় যথাযথ পাঠদান থেকে বঞ্চিত হচ্ছে শিক্ষার্থীরা।

সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে ধামরাই উপজেলা শিক্ষা (প্রাথমিক) কর্মকর্তা তাজমুন্নাহার দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘অবসর, বদলি ও মৃত্যুজনিত কারণে অনেক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে। শিক্ষকের শূন্যপদ পূরণের জন্য সরকার নিয়োগ প্রক্রিয়ার ব্যবস্থা শুরু করেছে। দ্রুত এ সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে বলে আশা করছি।’