পঁচাত্তরের ১৫ আগস্ট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যার পর সামরিক শাসকরা সংবিধান নিয়ে ফুটবল খেলেছে বলে মন্তব্য করেছেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক।
তিনি বলেছেন, সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে সংবিধান নিয়ে ফুটবল খেলার পথ চিরতরে রুদ্ধ করা হয়েছে।
শুক্রবার (৪ নভেম্বর) গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান গৃহীত হওয়ার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে সুপ্রিম কোর্টের উদ্যোগে সুপ্রিম কোর্ট জাজেস কমপ্লেক্সে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে এসব বলেন তিনি।
প্রধান বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে ছিলেন জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরিন শারমীন চৌধুরী।
আইনমন্ত্রী বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু সংবিধান প্রণয়ন করার পরপরই সংসদীয় গণতন্ত্রের মাধ্যমে শোষণমুক্ত সোনার বাংলা গড়ার লক্ষ্যে আত্মনিয়োগ করেন। কিন্তু দুর্ভাগ্য বাঙালি জাতির। তার সোনার বাংলা গড়ার স্বপ্ন ভেঙে দেয় একাত্তরের পরাজিত শক্তি। মূলত তারা বঙ্গবন্ধুকে হত্যার মাধ্যমে সংবিধানকে হত্যার চেষ্টা করেছে। সংবিধান নিয়ে ফুটবল খেলেছে। তারা সংবিধান বহির্ভূতভাবে দেশ চালিয়েছে।’
তিনি আরো বলেন, ‘শুধু তাই নয়, যে জাতীয়তাবাদের ভিত্তিতে বাংলাদেশের সব শ্রেণি পেশার মানুষ মুক্তিযুদ্ধ করেছিল, ৩০ লাখ মানুষ আত্মত্যাগ করেছিল সেই জাতীয়তাবাদকে অন্ধকারে পাঠানো হয়েছিল। ধর্মনিরেপক্ষতার নীতিকে মুছে ফেলা হয়েছিল। বাংলাদেশের সংবিধানের মূল চরিত্র পাল্টে সেখানে পাকিস্তানী ভাবধারা যুক্ত করে বাংলাদেশকে সাম্প্রদায়িক রাষ্ট্রের তকমা দেওয়া হয়েছিল।’
আনিসুল হক বলেন, ‘সৌভাগ্য বাংলাদেশের, ২০১১ সালের শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকার পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে জনগণকে আবার ৭২ এর সংবিধানের চার মূলনীতিতে ফিরিয়ে নিয়েছে। সংবিধান নিয়ে ফুটবল খেলার পথ চিরতরে রুদ্ধ করেছে। সেই সঙ্গে দেশে সাংবিধানিক ও আইনের শাসন সুপ্রতিষ্ঠিত করেছে। বিচারহীনতার সংস্কৃতি দূর হয়েছে।’
২০১১ সালের ১০ মে সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিল করে রায় দেন আপিল বিভাগ। ওই রায়কে ভিত্তি ধরেই সংবিধান সংশোধন করে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকার। এতে বিলুপ্ত হয় নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা। খায়রুল হক ২০১১ সালের ১৭ মে অবসরে যাওয়ার পর ২০১২ সালের ১৬ সেপ্টেম্বরে প্রকাশিত হয় এর পূর্ণাঙ্গ রায়। এর আগেই ২০১১ সালের ৩০ জুন তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বিলুপ্তির পাশাপাশি ৫৫টি সংশোধনীসহ সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী প্রস্তাব পাস হয় জাতীয় সংসদে।