ইংল্যান্ডকে আটকে দিতে চায় শ্রীলঙ্কা

অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে আফগানিস্তান হেরে যাওয়ায় ক্ষতিটা হয়েছে শ্রীলঙ্কার। আফগানরা জিতলে সেমিফাইনালে যাওয়ার একটা পথ খোলা থাকত লঙ্কানদের সামনে। এখন ইংল্যান্ডের সঙ্গে তাদের শেষ ম্যাচ শুধুই আনুষ্ঠানিকতা। এদিকে লঙ্কার নিষ্ফলা ম্যাচ ইংল্যান্ডের জন্য মহাগুরুত্বপূর্ণ। এ লড়াইয়ে জিতলে সেমিফাইনাল নিশ্চিত হবে ইংল্যান্ডের আর হারলে বিদায়। এ ম্যাচ ঘিরে শ্রীলঙ্কার শুধু একটা কাজই করার আছে। ইংল্যান্ডকে হারিয়ে তাদের সেমিফাইনাল স্বপ্ন ভ-ুল করে দেওয়া। আজ সেই চেষ্টা করবে শ্রীলঙ্কা। ম্যাচের বাইরে থেকে অস্ট্রেলিয়াও এটাই চাইছে। ইংল্যান্ড হারলেই যে তাদের সেমিফাইনাল স্বপ্ন সত্যি হবে।

আজকের ম্যাচটি হচ্ছে সিডনিতে। যেখানে ২০১৫ বিশ্বকাপের ভুলে যাওয়ার অতীত আছে ইংল্যান্ডের। ওই আসরে সিডনিতেই শেষ ম্যাচ খেলেছিল তারা। আফগানদের সঙ্গে ওই ম্যাচে ৯ উইকেটে জিতলেও তাতে মুখে হাসি ফোটার বিন্দুমাত্র কারণ ছিল না ইংলিশ ক্রিকেটারদের। সিডনির ওই ম্যাচ ছিল গ্রুপ পর্বে ইংল্যান্ডের শেষ। এখান থেকেই অস্ট্রেলিয়া থেকে বাড়ি ফেরার বিমান ধরতে হয়েছিল দলটিকে। সাত বছর পর আরেকটি বিশ্বকাপে আবারও সিডনি জুজু। এবার চিত্রটা একটু ভিন্ন। সিডনিতে এবার নামলেও ইংল্যান্ডের পথ আগে থেকেই নিশ্চিত নয়। ২০১৫তে বিদায় জেনেই তারা এই মাঠে শেষ ম্যাচ খেলতে আসে। এবার শ্রীলঙ্কার সঙ্গে সেমিফাইনালের স্বপ্ন নিয়ে সিডনিতে নামছেন জস বাটলাররা। তাদের কাছে অতীত ভোলার সবচেয়ে ভালো পথ সিডনি থেকে জয় দিয়ে সেমিফাইনাল নিশ্চিত করা।

সংবাদ সম্মেলনে আসা অ্যালেক্স হেলস জানালেন সেমিফাইনালে খেলার স্বপ্ন দলের সবার। একরকম নকআউট ম্যাচের সমীকরণটা তাই সবাই ইতিবাচক দিকে আনতে চাইছেন, ‘বিশ্বকাপের মতো মঞ্চে নকআউট পর্বে খেলা একজন পেশাদার ক্রিকেটারের স্বপ্ন। আমরা সবাই এই স্বপ্ন বুকে লালন করছি। সত্যি বলতে প্রতিযোগিতার হিসাবে বিশ্বকাপ সবসময়েই কঠিন। এখানে সব দলই যোগ্যতা নিয়েই এসেছে। আপনাকে ভালো করতে হলে সেরা দলকে হারাতে হবে। যোগ্য দলের জন্য আমাদের গ্রুপটাও কঠিন হয়েছে। এজন্য আমরা সেমিফাইনালে নাম লেখালে তা অবশ্যই সেরা অর্জন হবে।’

হেলসদের এই অর্জন সহজে পেতে দিচ্ছে না শ্রীলঙ্কা। নামিবিয়ার কাছে বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচ হেরে বেশ লজ্জায় পড়েছিল এশিয়ার চ্যাম্পিয়নরা। পরে বাজি পাল্টে পা রেখেছে সুপার টুয়েলভে। কিন্তু অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডের কাছে হারে দলটির শেষ চারের স্বপ্ন শেষ হয়। তাই বলে শেষ ম্যাচে গা-ছাড়া ভাব নেই শ্রীলঙ্কার। ভানুকা রাজাপাকসে জানালেন শেষটা হাসিমুখে করতে চান তারা, ‘অস্ট্রেলিয়ায় আমরা নিজেদের সেরা প্রমাণ করতে এসেছি। আমরা অবশ্যই ভালো ক্রিকেট খেলব। এশিয়া কাপে আমরা আন্ডারডগ হয়েও দেখিয়েছি আমাদের সামর্থ্য কেমন। এই বিশ্বকাপেও আমরা সেই চেষ্টা করেছি। কিন্তু কিছু ম্যাচের ফল আমাদের পক্ষে আসেনি। কিন্তু শেষটা হতাশায় করতে চাই না আমরা।’

রাজাপাকসের হুঙ্কার অবশ্য মাঠে প্রমাণ করতে হবে। কিন্তু বাঁচামরার ম্যাচে ইংল্যান্ডের আহত সিংহের মতো ঝাঁপিয়ে পড়ার সম্ভাবনাই বেশি। তা ছাড়া ২০১৪ থেকে টি-টোয়েন্টিতে শ্রীলঙ্কা কখনই ইংল্যান্ডকে হারাতে পারেনি। সঙ্গে লঙ্কার এই দলটির কোনো ক্রিকেটারেরই ইংল্যান্ডের সঙ্গে জয়ের স্মৃতিও নেই। মোট চার ভেন্যুতে হওয়া সাত দেখায় সবকটিতেই সাফল্য ইংল্যান্ডের। এই ধারাবাহিকতা আজ ধরে রাখতে চায় ইংল্যান্ড।