শীতে ভালো ব্যবসার আশা

শীত সামনে রেখে ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে দেশের তৈরি পোশাকের বড় পাইকারি বাজার কেরানীগঞ্জ গার্মেন্টস পল্লী। ব্যবসায়ী ও কারিগররা ব্যস্ত সময় পার করছেন। কারখানাগুলোতে চলছে শীতের পোশাক তৈরির তোড়জোড়। তবে ডলারের দাম বেড়ে যাওয়ায় এবার কাপড় ও ম্যাটেরিয়ালস আমদানি একটু কম হয়েছে। ফলে পোশাকের দাম কিছুটা বাড়বে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

তারা আশা প্রকাশ করে বলছেন, গত দুই বছর অনেকেই শীতের পোশাক কেনেনি, তাই এই বছর কেনবে। বর্তমানে দেশের প্রত্যেকটি জিনিসের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে শীতের পোশাকের দাম বৃদ্ধি ব্যতিক্রম কিছু নয়। এখন বেচাকেনা কম হলেও আগামী ১৫ নভেম্বর থেকে পুরোদমে শীতের পোশাক বেচাকেনা শুরু হবে। পোশাকের দাম গত বছরের চেয়ে কিছুটা বাড়লেও পাইকাররা তাদের চাহিদা অনুযায়ী গার্মেন্টস পল্লী থেকে শীতের পোশাক কিনবেন।

কেরানীগঞ্জ গার্মেন্টস পল্লীর আগানগর ও শুভাঢ্যায় প্রায় ৬ হাজার ছোট-বড় শো-রুম রয়েছে। দেশের নানা প্রান্ত থেকে পাইকারি পোশাক কিনতে ক্রেতারা এখানে আসেন। এখানকার ব্যবসায়ীরা দাবি করেন দেশের তৈরি পোশাকের ৬০ শতাংশ জোগান দেয় এই বাজার।

কেরানীগঞ্জ গার্মেন্টস পল্লীর শো-রুমগুলোতে গিয়ে দেখা যায়, ইতিমধ্যেই প্রতিটি শো-রুমে উঠেছে শীতের বাহারি পোশাক। গুণগতমান ভালো হওয়ার কারণে এখানকার পোশাকের কদর রয়েছে দেশজুড়েই। দেশীয় তৈরি পোশাকের পাশাপাশি বিদেশ থেকেও পোশাক সংগ্রহ করেছে এখানকার ব্যবসায়ীরা।

ভারত, থাইল্যান্ড, চীন থেকে পোশাক আমদানিকারক ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর হাসান বলেন, এ বছর পোশাক আমদানির খরচ গেল বছরের চেয়ে অনেক বেশি হয়েছে। যার কারণে আমদানি কম করেছি। এই বছর ব্যবসা করা অনেক চেলেঞ্জিং আমাদের জন্য। শীতের বেচাকেনা এখন শুরু হয়নি। তবে আগামী কিছুদিনের মধ্যে শুরু হবে। এবার  ভালো ব্যবসা করব বলে আশা করছি। না হলে আমাদের টিকে থাকাটাই মুশকিল হয়ে যাবে।

কেরানীগঞ্জ গার্মেন্টস পল্লীর সাধারণ সম্পাদক ও অন্যতম একজন ব্যবসায়ী মুসলিম ঢালী বলেন, শীত মৌসুমে কেরানীগঞ্জ গার্মেন্টস পল্লীর ব্যবসায়ীরা বড় ধরনের প্রস্তুতি নিয়ে থাকেন। শীতের পোশাকে ভরপুর দোকানগুলো।

যদিও এখনো কাস্টমাররা আসা শুরু করেনি। তবে নভেম্বরের ১৫ তারিখ থেকে ভিড় হবে বলে আশা করি। নানা কারণে অনেকে শীতের পোশাক গত দুই বছর কিনতে পারেনি। সবকিছুর দাম বেড়ে যাওয়ার কারণে আমাদের খরচ বৃদ্ধি পেয়েছে। আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি এবার সীমিত লাভে পণ্য বিক্রি করব।

মুসলিম ঢালী আরও বলেন, রাত ৮টার পর শপিং মল দোকানপাট বন্ধের একটা সিদ্ধান্ত রয়েছে। পাইকারি বেচাকেনা রাত ৮টার আগে বন্ধ হলেও সমস্যা নেই। তবে খুচরা দোকানদারদের আরেকটু সময় বাড়িয়ে দিলে তাদের বেচাকেনা বাড়ত, সেই সঙ্গে আমাদের বেচাকেনাও বাড়ত। বিশেষ করে সাপ্তাহিক ছুটির দিন শপিং মল, খুচরা দোকানগুলো একটু বেশি সময় খোলা রাখা হলে বেচাকেনা বাড়ত।