সাংবিধানিক অধিকার সম্পর্কে নাগরিকদের সচেতন করতে হবে: আনু মুহাম্মদ

অর্থনীতিবিদ ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ বলেছেন, সাংবিধানিক অধিকার সম্পর্কে নাগরিকদের সচেতন করতে হবে। এ জন্য সকল পর্যায়ে সংবিধানের প্রচার ও প্রসার আশ্যক। নাগরিকেরা সচেতন হলে তাদের অধিকার ভঙ্গের প্রতিকার চাইতে পারবে, প্রতিবাদ করতে পারবে। সর্বোপরি, একটি গণতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হবে।

শুক্রবার (৪ নভেম্বর) সংবিধানের ৫০ বছর উপলক্ষে আইন কথা ডটকম কর্তৃক আয়োজিত 'সর্বজনের অধিকার এবং বাংলাদেশের সংবিধান' শীর্ষক বিশেষ পাবলিক লেকচারে এ কথা বলেন তিনি। লেকচারটি আয়োজনে সহযোগিতা করেছে রিডিং ক্লাব ট্রাস্ট। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেছেন আইনের কথা ডটকমের সম্পাদক জাকিয়া আফরিন।

আনু মুহাম্মদ বলেন, অর্থনৈতিক নীতিমালা গ্রহণের ক্ষেত্রে সামরিক শাসক ও গণতান্ত্রিক সরকারের মধ্যে তেমন কোনো পার্থক্য নেই। এর পেছনের কারণ কেন্দ্রীয় শাসনের প্রাধান্য। বাংলাদেশের সংবিধানে স্থানীয় সরকারের কথা উল্লেখ আছে, কিন্তু বাস্তবে তার যথাযথ প্রতিফলন নেই। ফলে মানুষের শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়নি। সংবিধানে মত প্রকাশসহ অন্যান্য ক্ষেত্রেও বিভিন্ন শর্তের কথা উল্লেখ আছে। ফলে ক্ষমতা সেই কেন্দ্রেই বিরাজমান।

তিনি বলেন, সংবিধান প্রণয়ন নিয়ে গণপরিষদে বিতর্ক হয়েছিল। তবে বিতর্কের খুব বেশি সুযোগ ছিল না। সংবিধানের খসড়া তৈরি করা হয়। সেখানে বিরোধী দল ছিল না। সংসদের অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ও মন্তব্য করেছিলেন সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত। মানবেন্দ্রনাথ লারমা জাতির প্রশ্ন তুলেছিলেন যেখানে বাঙালি জাতি বললে অন্যান্য ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী বাইরে থেকে যায়। কিন্তু এসব প্রশ্ন বা মন্তব্যকে গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। ফলে অন্য ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর স্বীকৃতি আসেনি।

তিনি আরও বলেন, সংবিধানে বলা হয়েছে, আমরা বাংলাদেশের জনগণ। এখানে আমরা মানে সবাই। নির্দিষ্ট কোনো জাতি বা ধর্মের মানুষ না, বরং সর্বজন। বিভিন্ন ধর্মের, বর্ণের, গোষ্ঠীর, শহরের, গ্রামের সকলেই বাংলাদেশের জনগণ। এই বৈচিত্র্যের স্বীকৃতি সংবিধান দিয়েছে। বৈষম্যকে নিষিদ্ধ করেছে।