উত্তর কোরিয়া রাশিয়াকে গোপনে অস্ত্র সরবরাহ করছে এমন অভিযোগ ওঠার দুইদিন পরই উত্তর কোরিয়া থেকে একটি ট্রেন রাশিয়ায় প্রবেশ করেছে বলে স্যাটেলাইট চিত্রের বরাতে দাবি করেছে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনভিত্তিক একটি থিঙ্কট্যাংক।
শনিবার (৫ নভেম্বর) ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত কয়েক বছরে প্রথমবারের মতো ওই রুটে ট্রেন চলাচল লক্ষ্য করা গেছে বলে জানিয়েছে দ্য ৩৮ নর্থ প্রজেক্ট। উত্তর কোরিয়ার কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করে থাকে দ্য ৩৮ নর্থ প্রজেক্ট।
এর আগে যুক্তরাষ্ট্র অভিযোগ করে, পিয়ংইয়ং গোপনে রাশিয়াকে ইউক্রেন যুদ্ধে ব্যবহারের জন্য আর্টিলারি শেল সরবরাহ করছে বলে তথ্য রয়েছে তাদের কাছে।
বুধবার (২ নভেম্বর) রাশিয়ার ভেটেরিনারি সার্ভিস জানায়, ৩০টি ঘোড়া বহনকারী একটি ট্রেন সীমান্ত অতিক্রম করে উত্তর কোরিয়ায় প্রবেশ করেছে।
৩৮ নর্থ বলছে, স্যাটেলাইট চিত্র থেকে এটি বোঝা সম্ভব না যে ট্রেনের ভেতরে কী রয়েছে। তবে এমন সময়ে এই ঘটনা ঘটলো, যখন উত্তর কোরিয়ার বিরুদ্ধে রাশিয়াকে অস্ত্র সরবরাহের অভিযোগ উঠেছে এবং দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য পুনরায় চালু হওয়ার আশা করা হচ্ছে।
এর আগে ২০২০ সালে করোনা মহামারির কারণে রাশিয়া ও উত্তর কোরিয়ার মধ্যে একমাত্র স্থল সংযোগকারী সেতু তুমাংগাং ফ্রেন্ডশিপ ব্রিজটি বন্ধ করে দেয়া হয়।
৩৮ নর্থের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্থানীয় সময় শুক্রবার (৪ নভেম্বর) সকাল ১০টা ২৪ মিনিটে তিনটি রেলকারের একটি সেটি সেট সীমান্তের কোরিয়া প্রান্তে দেখা যায়। দুপুর একটা ১০ মিনিটে ট্রেনটিকে রেলব্রিজ থেকে ২০০ মিটার দূরে রাশিয়ার ভেতর একটি লোকোমোটিভের পেছনে দেখা যায়।
এরপর দুপুর আড়াইটায় লোকোমোটিভসহ রেলকার তিনটিকে রাশিয়ার খাসান স্টেশনে রেললাইনের ওপর দেখা যায়। এদের পাশের রেললাইনে পার্ক করা ছিল তিনটি ছোট রেলকার বা সম্ভাব্য কন্টেইনার।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এসময় কোনও জিনিসপত্র স্থানান্তর করা হয়েছে কিনা তা নিশ্চিত নয়, আর এমনও হতে পারে যে এসব ট্রেন পাশাপাশি পার্ক করার মধ্যে কোনও সম্পর্ক নেই।
বুধবার ওয়াশিংটন দাবি করে, উত্তর কোরিয়া ইউক্রেন যুদ্ধে ব্যবহারের উদ্দেশ্যে রাশিয়ার কাছে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ আর্টিলারি শেল সরবরাহ করছে বলে তাদের কাছে তথ্য রয়েছে। এছাড়াও বিষয়টি গোপন রাখার জন্য মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকার মধ্যে দিয়ে অস্ত্রের চালান সরবরাহ করা হচ্ছে বলেও দাবি করে তারা।
গত সেপ্টেম্বরে উত্তর কোরিয়া দাবি করেছিলো, তারা কখনও রাশিয়ার কাছে অস্ত্র বা গোলাবারুদ সরবরাহ করেনি এবং এমনটা করার কোনও পরিকল্পনাও তাদের নেই।
তবে রাশিয়ার সরকারি ভেটেরিনারি সার্ভিস বুধবার দাবি করে, করোনা মহামারির পর প্রথমবার দুই দেশের মধ্যে ট্রেন চলাচল চালু হয়েছে এবং উৎকৃষ্ট জাতের ৩০টি 'অরলভ ট্রটার' ঘোড়া উত্তর কোরিয়ায় সরবরাহ করেছে তারা।
উল্লেখ্য, উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন একজন তুখর ঘোড়সওয়ার বলে জানা গেছে। রাশিয়ার কাস্টমসের তথ্য বলছে, বিগত কয়েক বছরে রাশিয়া থেকে উৎকৃষ্ট জাতের ঘোড়া আমদানিতে হাজার হাজার ডলার ব্যয় করেছে উত্তর কোরিয়া।