এত কর্মসূচির পরও ঢাকা শহরে ভিক্ষুক কেন

সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর নানা কর্মসূচি থাকা সত্ত্বেও ঢাকা শহরে কেন ভিক্ষুকদের আনাগোনা তা জানতে চেয়েছেন সরকারি দলের সংসদ সদস্য এ কে এম রহমতুল্লাহ।

রোববার জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তরে সমাজকল্যাণমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে এ প্রশ্ন করেন এবং একই সঙ্গে ভিক্ষাবৃত্তি বন্ধে পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন কিনা তা জানতে চান।

সম্পূরক প্রশ্নে এ কে এম রহমতুল্লাহ বলেন, সরকারের তিন টার্ম কন্টিনিউয়াস চলছে। এর আগে ১৯৯৬ সালেও আমরা ক্ষমতায় ছিলাম। আমরা বয়স্কভাতা, নির্যাতিত ভাতাসহ অনেকরকম ভাতা দিয়ে যাচ্ছি। যাদের বাড়িঘর নেই তাদের বাড়িঘর দিয়েছি। আজকেও আসার সময় রাস্তায় ১০ জন ফকির (ভিখারি) ভিক্ষা চাচ্ছে। কিন্তু এই জিনিসটা কেন হবে? আমরা সামাজিক বেষ্টনীর মধ্যে সবকিছু নিয়ে আসছি। আশ্রয়ণ প্রকল্প করছি। সমস্ত রকম সাহায্য দিচ্ছি। তাহলে আমাদের রাস্তার ওপরে ভিক্ষুক থাকার তো কথা নয়। থাকা উচিতও নয়। এদের জন্য কী কী পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন এটা আমার প্রশ্ন।

সমাজকল্যাণমন্ত্রী নুরুজ্জামান আহমেদ বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঢাকা শহরে ভিক্ষুকদের উৎপাতের বিষয়ে আমার সঙ্গে কথা বলেছেন। এটা কীভাবে নিরসন করার জন্য পরিকল্পনা গ্রহণ করেছি। অল্পদিনের মধ্যে আমরা ঢাকাসহ বিভিন্ন বিভাগীয় ও জেলা শহরে ভিক্ষাবৃত্তি না করতে পারে তার জন্য প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে পুনর্বাসন করার ব্যবস্থা করতে যাচ্ছি।

স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে শুরু হওয়া অধিবেশনে সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী আরো জানান, প্রতিবন্ধীদের শিক্ষা ও সেবার বিষয়ে বর্তমান সরকার আন্তরিক। তবে প্রতিবন্ধী স্কুলে বিষয়ে এখনো সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়নি। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা সাপেক্ষে তার নির্দেশনা অনুযায়ী এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

সরকারি দলের সদস্য নিজাম উদ্দিন হাজারীর প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, দেশের ৪৯৩টি উপজেলায় ‘শেখ ফজিলাতুন্নেসা মুজিব পল্লী সমাজ সেবা প্রশিক্ষণ ও সামাজিক নিরাপত্তা কমপ্লেক্স স্থাপন’ শীর্ষক একটি প্রকল্প গ্রহণের লক্ষ্যে স্থাপত্য অধিদপ্তর হতে স্থাপত্য নকশা এবং গণপূর্ত অধিদপ্তর হতে নির্মাণ ও পূর্ত কাজের প্রাক্কলন পাওয়া গেছে। বর্তমানে প্রকল্পের ডিপিপি প্রণয়নের কাজ চলছে। উক্ত প্রকল্পের আওতায় দুস্থ মহিলাদের বিভিন্ন ট্রেডে প্রশিক্ষণ প্রদানের মাধ্যমে আত্ম কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে স্বাবলম্বী করে গড়ে তোলা হবে।