মানিকগঞ্জের সাটুরিয়ার হরগজ শহীদ স্মৃতি উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্রীদের স্কুলে আসা যাওয়ার পথে উত্ত্যক্ত করতো বখাটেরা। উত্ত্যক্তের প্রতিবাদ করায় ইংরেজি শিক্ষককে বেধম পিটিয়ে হাসপাতালে পাঠিয়েছে আলামিন ও রমজান আলী সজল নামে দুই বখাটে।
বুধবার দুপুর পৌনে ১০টার সময় স্কুল গেটের সামনে এ ঘটনা ঘটে।
বিষয়টি নিশ্চিত করে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. বজলুর রহমান বলেন, ওই শিক্ষককে উদ্ধার করে সাটুরিয়া ৫০ শয্যা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তার মুখের মধ্যে ৪টি সেলাই দেওয়া হয়েছে। হরগজ গ্রামের বালুচর এলাকার মো. রফিকের ছেলে আলামিন ও রহমানের ছেলে রমজান আলী সজল এ ঘটনা ঘটায়।
আহত শিক্ষক মো. তোফাজ্জল হোসেন বলেন, আলামিন ও রমজান প্রায়ই শিক্ষার্থীদের স্কুলে যাওয়া আসার সময় ইভটিজিং করত। বুধবার সকালে একটি অপরিচিত নম্বর থেকে ফোন আসে আমার মোবাইলে। ফোনে আমাকে স্কুলে ঢোকার আগে গেটের সামনে দেখা করতে বলে আলামিন ও রমজান আলী। সকাল পৗনে ১০টার সময় গেটের সামনে গেলে আমাকে ধরে বেদম মারধর করে। পরে স্থানীয়রা স্কুলে খবর দিলে অন্য শিক্ষকরা আমাকে উদ্ধার করে সাটুরিয়া হাসপাতালে ভর্তি করেন।
হরগজ শহীদ স্মৃতি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. বজলুর রহমান বলেন, রমজান আলী ও আলামিন প্রতিদিন স্কুলে আসা ও যাওয়ার সময় রাস্তায় ছাত্রীদের ইভটিজিং করে। তাদের বিরুদ্ধে ছাত্রীরা মাঝেমধ্যে অভিযোগ করত। এরা নেশা ও মাদকাসক্ত।
এ ঘটনায় আমি বাদী হয়ে সাটুরিয়া থানায় মামলা দায়ের করেছি।
এদিকে ঘটনার পর বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা হরগজ বাজারে আসামীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে ঘণ্টাব্যাপী মানববন্ধন করেন।
হরগজ শহীদ স্মৃতি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আ.খ.ম নুরুল হক বলেন, উপজেলা প্রতিটি স্কুল চলাকালীন সময় ও ছুটির সময় প্রশাসন, শিক্ষক এবং অভিভাকদের আরও সচেতন হতে হবে।
সাটুরিয়া থানার ওসি সুকুমার বিশ্বাস বলেন, এ ঘটনায় একটি মামলা দায়ের হয়েছে। আসামিদের গ্রেপ্তার করতে অভিযান চলছে।