জঙ্গি সম্পৃক্ততা: জামায়াত আমিরের ছেলে গ্রেপ্তার

নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন আনসার আল ইসলাম বাংলাদেশের সিলেট অঞ্চলের প্রধান সমন্বয়ক সন্দেহে রাফাত সাদিক নামে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটের (সিটিটিসি) বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট বলছে, রাফাত জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের ছেলে। 

বুধবার সকালে সিলেট থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

সিটিটিসি জানিয়েছে, রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থেকে গ্রেপ্তার হওয়া তিন জঙ্গিকে জিজ্ঞাসাবাদে তার নাম বেরিয়ে আসে। 
সিটিটিসির বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিটের এক কর্মকর্তা এ তথ্য জানিয়ে বলেন, রাজধানীর সায়েদাবাদ এলাকায় অভিযান চালিয়ে আনসার আল ইসলামের তিন সক্রিয় সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে ওই ঘটনায় ২ নভেম্বর রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে একটি মামলা হয়। 

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার আসামিরা জানান, তারা প্রত্যেকে উগ্রবাদী জঙ্গি সংগঠন আনসার আল ইসলাম বাংলাদেশ, সিলেট অঞ্চলের প্রধান সমন্বয়ক ডা. রাফাত সাদিকের মাধ্যমে দাওয়াত পান। এ আসামিরা গত ৬ নভেম্বর আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন। 

ওই জবানবন্দিতে তারা ডা. রাফাতসহ তার অন্য সহযোগীদের নাম প্রকাশ করে বলে জানিয়েছে সিটিটিসি।

সিটিটিসি’র দাবি, জঙ্গি সংগঠন আনসার আল ইসলামে সিলেট আঞ্চলিক সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করেন রাফাত। দীর্ঘদিন থেকেই তিনি তরুণ ধর্মভীরু ছেলেদের জিহাদি চেতনায় উদ্বুদ্ধ করার জন্য দাওয়াতি কার্যক্রম চালিয়ে আসছেন। ২০২১ সালে আরাকানে রোহিঙ্গাদের পক্ষে জিহাদ করার জন্য আরসা এবং আরএসও উভয় সংগঠনের সঙ্গে যোগাযোগ করে হিজরত করেন। 

তাদের আরো দাবি, বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তে আরএসও নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। ২০২১ সালের জুলাই মাসে রাফাতের নেতৃত্বে সিলেট থেকে ১১ জন একসঙ্গে আরাকানে যাওয়ার জন্য হিজরত করেন। সিলেট এমসি কলেজে স্বামীর সামনে স্ত্রীকে ধর্ষণের ঘটনায় প্রতিশোধ হিসেবে রাফাতের নেতৃত্বে জঙ্গিরা সিলেটের আওয়ামী লীগ নেতা রঞ্জিত সরকারকে হত্যার পরিকল্পনা করে। সিলেটের আত-তাকওয়া মসজিদে তিনি নিয়মিত সংগঠনের লোকজনদের সঙ্গে মিটিং করেন। 

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ডা. রাফাত জানান, তার বাবা জামায়াতে ইসলামীর বর্তমান আমির ডা. মো. শফিকুর রহমান।

জামায়াতের এক বিবৃতিতে চিকিৎসক রাফাত সাদিক সাইফুল্লাহকে গ্রেপ্তারের প্রতিবাদ জানিয়ে অবিলম্বে তার মুক্তির দাবি জানানো হয়েছে।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘ডা. রাফাত সাদিক সাইফুল্লাহকে ৯ নভেম্বর সম্পূর্ণ অন্যায়ভাবে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মূলত জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জামায়াতে ইসলামীর ভাবমর্যাদা বিনষ্ট করার অংশ হিসেবেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে’।