ঠিক এক বছর আগে, ১০ নভেম্বর আবুধাবির শেখ জায়েদ স্টেডিয়ামে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ সেমিতে মুখোমুখি ইংল্যান্ড-নিউজিল্যান্ড। ওই ম্যাচে কিউইদের সঙ্গে পেরে ওঠেনি ইংলিশরা। ৫ উইকেটের হারে ফেভারিট হয়েও শেষ চারেই থামতে হয়। এক বছর পর ভাগ্য তাদের আরও একটি সুযোগ দিচ্ছে। এবারও তারা অন্যতম ফেভারিট। তবে এবারও তাদের সামনে বড় বাধা এই সময়ে টি-টোয়েন্টির সবচেয়ে শক্তিশালী দল ভারত। ইংল্যান্ডের জন্য তাই বছর বাদে হতাশার পুনরাবৃত্তি এড়িয়ে ভাগ্য বদলের চ্যালেঞ্জ। জস বাটলাররা সেই চ্যালেঞ্জটা নিচ্ছেন। বাকি পুরো ক্রিকেট বিশ্ব হয়তো ভিন্ন কিছু ভাবছে। ভারত-পাকিস্তান ফাইনাল! টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের প্রথম আসরের পর আবার এই মহারণ উপভোগের সুযোগ যে এসেছে। কাল সিডনি নিউজিল্যান্ডকে ৭ উইকেটে হারিয়ে ফাইনালে উঠেছে হিসাবের বাইরে চলে যাওয়া পাকিস্তান। আজ ইংল্যান্ডকে ভারত নিজেদের ছন্দে হারালে আবার ২০০৭ বিশ্বকাপ ফাইনালের পুনরাবৃত্তি হতে চলেছে এমসিজিতে।
সবাই চাইলেও একমাত্র ইংল্যান্ড পাকিস্তান-ভারত ফাইনাল চাচ্ছে না। তাদের বেরসিক হওয়ার কারণও আছে। নিজেদের দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন দেখার পূর্ণ অধিকার আছে ইংল্যান্ডের। কাল সংবাদ সম্মেলনে সেই কথাই জানালেন অধিনায়ক জস বাটলার, ‘আমরা কেন ভারত-পাকিস্তান ফাইনাল চাইব। আমরা অবশ্যই এটা চাই না এবং এই ব্যাপারটা যেন না ঘটে সেজন্য যা করার আমরা করব।’ বাটলার নিজ মুখে বললেও তাদের জন্য চ্যালেঞ্জ জেতা কঠিন। ভারতের সঙ্গে নিজেদের মাটিতে টেস্ট জিতলেও ৬ টি-টোয়েন্টিতে তারা হেরেছিল ২-৪ ব্যবধানে। ইংল্যান্ডের মাটিতে জেতার আত্মবিশ্বাসটা আজ ভারতের সঙ্গে থাকছে। এছাড়া অ্যাডিলেডের পিচ এশিয়ান পিচের মতো। এখানে সহজেই বল ব্যাটে আসে আবার স্পিনাররাও সুবিধা পেয়ে থাকেন। তাই এশিয়ান কন্ডিশনের পিচে ইংল্যান্ডের চেয়ে ভারত একটু এগিয়ে থাকছে।
বাটলারদের জন্য একটাই আশা নতুন দিনের সত্য। ২০১৯ এর আগে যে কোনো বিশ্ব ইভেন্টে ভারত-ইংল্যান্ড ম্যাচে অবধারিতভাবে ফেভারটি থাকত ভারত। জয়ও পেত তারা। কিন্তু নিকটঅতীতে ইংল্যান্ড বিশ্ব আসরের নকআউট ম্যাচে সমান ফেভারিট। বাটলার অবশ্য এই সত্য মানতে নারাজ। মাইন্ড গেম সামনে এনে ভারতকে ফেভারিটের কাতারেই রাখছেন, ‘আমি এই নতুন ধারণার সঙ্গে একদমই একমত নই। ভারত খুব, খুব শক্তিশালী দল এবং এটা তাদের বেঞ্চ দেখলেই বোঝা যায়। সেরা একাদশের কেউ না খেললেও সম্ভাব্য সেরা ক্রিকেটারকেই তারা নামাতে পারে। দীর্ঘ সময় ধরেই তারা ধারাবাহিক। ব্যাটিংয়ে যে গভীরতা তা সম্ভবত অন্য কোনো দলে নেই। কোনো বড় টুর্নামেন্টের সেমিফাইনালে যদি আপনি ওঠেন তবে ভারতের মতো শক্তিশালী দলের সঙ্গেই আপনি খেলতে চাইবেন।’
বিপক্ষকে সমীহ করার পথে হাঁটছে ভারতও। রোহিত শর্মা সংবাদ সম্মেলনে নিজেদের এগিয়ে থাকার কথা একবারও বললেন না। খুব সম্ভব দক্ষিণ আফ্রিকার সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে হোঁচট খাওয়ার ভয়ে নিজেদের ফেভারিট ভাবা ছেড়ে দিয়েছে ভারত। তবে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে গত হোম সিরিজের জয়কে পুঁজি করে সেমিফাইনালে নামতে চান রোহিত, ‘টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট এখন অনেক গতিময়। আপনাকে নির্দিষ্ট দিনে সবচেয়ে ভালো হতে হবে। নয়তো হার নিশ্চিত। এই ম্যাচে ইংল্যান্ড আমাদের সেরা চ্যালেঞ্জ দেবে। এটা বুঝেই আমরা খেলতে নামছি। এখানে শুধু গত অ্যাওয়ে সিরিজে ইংল্যান্ডকে হারানোর আত্মবিশ্বাস আমাদের কাজে আসতে পারে। তবে দিন শেষে নির্দিষ্ট দিনের পারফরম্যান্সই সব কথা।’
ইংল্যান্ড-ভারত ম্যাচে পার্থক্য গড়ে দেওয়ার বিরাট কোহলি ও সূর্যকুমার যাদব আছেন। এ দুজনকে নিয়ে দুশ্চিন্তায় বাটলার। ওদিকে রোহিতের নির্ভাবনার জায়গা এই দুই ক্রিকেটারের। বাটলার জানান জিততে হলে ভারতের বোলার নয় এ দুজনেক আটকাতে হবে। তবেই গত বছরের আক্ষেপ মেটাতে পারবে ইংল্যান্ড। নয়তো কোহলি-যাদবের কাঁধে চড়ে ফাইনালে পা রাখবে ভারত।