দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যে জোর

রেলরুট ও স্থলবন্দর পরিদর্শনে ভুটানের প্রতিনিধিদল

বাংলাদেশের সঙ্গে বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং একই সঙ্গে খরচ কমাতে চিলাহাটী থেকে মোংলা পর্যন্ত রেলপথ ব্যবহার করতে চায় ভুটান। আর এ জন্য বিশেষভাবে গুরুত্ব পাচ্ছে বাংলাদেশের নীলফামারীর চিলাহাটী থেকে ভারতের হলদিবাড়ী রেলরুট এবং লালমনিরহাটের বুড়িমারী ও ভারতের চ্যাংড়াবান্ধা স্থলবন্দর। এমন প্রেক্ষাপটে গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে ভুটানের একটি সরকারি প্রতিনিধিদল বাংলাদেশ-ভুটান বাণিজ্যিক রুট পরিদর্শনের অংশ হিসেবে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) একজন বিশেষজ্ঞকে সঙ্গে নিয়ে চিলাহাটী রেলওয়ে স্টেশন পরিদর্শন করেছে।

প্রতিনিধিদলটির সদস্যরা নির্মাণাধীন আইকনিক রেলভবন, লুপলাইনসহ বিভিন্ন অবকাঠামোগত উন্নয়ন প্রকল্প ঘুরে দেখেন। ভুটানের অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত কূটনৈতিক বিভাগের প্রধান শেরিং লাদেন, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিভাগের প্রধান কারমা সোজার, ভুটান চেম্বার অব কমার্স ও ইন্ডাস্ট্রিজের ভাইস চেয়ারম্যান কমল প্রধানসহ বাংলাদেশ রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এ সময় উপস্থিত ছিলেন। এর আগে রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তারা বৈঠক করেন।

পরিদর্শন শেষে ভুটান প্রতিনিধিদলের পক্ষে সফরে আসা এডিবি কনসালট্যান্ট জানান, এ রেলপথ ব্যবহার করা গেলে মোংলা বন্দরে সহজে বাণিজ্যের সুযোগ তৈরি হবে। আর চিলাহাটী স্থলবন্দর চালু করা গেলে বাড়বে বাণিজ্যের ক্ষেত্র। এর আগে গত বুধবার লালমনিরহাটের বুড়িমারী স্থলবন্দর পরিদর্শন করে ভুটানের প্রতিনিধিদল। ভুটান ও বাংলাদেশের মধ্যে ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার ঘটাতে দুই দেশের প্রধান বাণিজ্যিক রুটগুলো পরিদর্শনের অংশ হিসেবে ১৫ সদস্যের দলটি এ স্থলবন্দর পরিদর্শন করে।

স্থলবন্দর পরিদর্শন শেষে দুপুরে ভুটানের অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত কূটনৈতিক বিভাগের প্রধান শেরিং লাদেনের নেতৃত্বে প্রতিনিধিদলটি বুড়িমারী স্থলবন্দর কর্র্তৃপক্ষের সঙ্গে যৌথ সভায় অংশ নেয়। সভায় বাংলাদেশ দলের নেতৃত্ব দেন বিজিবির ৬১ বিজিবি ব্যাটালিয়নের তিস্তা ব্যাটালিয়ন-২-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মীর হাসান শাহরিয়ার মাহমুদ। এ সময় বাংলাদেশে নিযুক্ত ভুটানের রাষ্ট্রদূত মি. কেনছো থিংলে, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব এস এম ফেরদৌস আলম, যুগ্ম সচিব জাহাঙ্গীর কবির, পাটগ্রাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাজমুল হক সুমন, বুড়িমারী স্থলবন্দরের সহকারী পরিচালক (ট্রাফিক) গিয়াস উদ্দিনসহ স্থলবন্দর ও শুল্ক স্টেশনের অন্যান্য কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন।

বুড়িমারী স্থলবন্দর দিয়ে বাণিজ্য সম্প্রসারণে ভুটানের প্রতিনিধিদলটি পাঁচটি সুপারিশ করেছে। এসব সুপারিশের মধ্যে আছে বুড়িমারী স্থলবন্দরের ইয়ার্ড সম্প্রসারণ, স্থলবন্দরে প্রবেশের রাস্তা প্রশস্ত করা, বুড়িমারী-চ্যাংড়াবান্ধা রেল সংযোগ স্থাপন, আমদানি শুল্ক কমানো, ভুটানি পণ্যবাহী ট্রাক আনলোড পরবর্তী ফেরত যাওয়ার সময়সীমা বৃদ্ধি।