ইউক্রেনের খেরসন প্রদেশের নিপ্রো নদীর পশ্চিম তীর থেকে নিজেদের সব সৈন্য সরিয়ে নেওয়ার কাজ পুরোপুরি সম্পন্ন হয়েছে বলে জানিয়েছে রাশিয়া। শুক্রবার রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক ব্রিফিংয়ে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বলেছে, রাশিয়ার মোতায়েন করা সব সৈন্য ও যুদ্ধের সরঞ্জাম নিপ্রোর বাম অথবা পূর্ব দিকে স্থানান্তর করা হয়েছে। শুক্রবার মস্কোর স্থানীয় সময় সকাল ৫টার মধ্যে খেরসন শহর থেকে সৈন্যদের সরিয়ে নেওয়ার কাজ পুরোপুরি সম্পন্ন হয়।
রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, নিপ্রো নদীর বাম তীরে রুশ সৈন্যদের স্থানান্তর সম্পন্ন হয়েছে। ডান (পশ্চিম) তীরে সামরিক সরঞ্জাম বা অস্ত্রের একটি ইউনিটও আর নেই। রাশিয়ান সব সেনারা বাম তীরে চলে গেছে। প্রত্যাহারের সময় রাশিয়ার কোনো সৈন্য বা সরঞ্জামের ক্ষতি হয়নি।
রাশিয়াপন্থী যুদ্ধ ব্লগাররা বৃহস্পতিবার গভীর রাতে বলেছেন, নদী পার হওয়ার সময় ইউক্রেনীয় সৈন্যদের প্রচণ্ড গোলাগুলির মুখে পড়েছে রুশ বাহিনী।
রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বলেছে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সরবরাহ করা হিমার্স রকেট সিস্টেম ব্যবহার করে নিপ্রো নদীর ক্রসিংয়ে রাতে অন্তত পাঁচবার হামলা চালিয়েছে ইউক্রেনের সৈন্যরা।
এর আগে, বুধবার খেরসন অঞ্চল থেকে সৈন্য প্রত্যাহার করে নেওয়ার নির্দেশ দেয় রাশিয়া। সেই সময় মস্কো জানায়, ইউক্রেনের ক্রমবর্ধমান পাল্টা আক্রমণের মুখে আঞ্চলিক রাজধানী খেরসনের ভৌগলিক দখল বজায় রাখা এবং সেখানে সৈন্য সরবরাহের প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে।
ইউক্রেইনের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ওলেক্সি রেজনিকভ বৃহস্পতিবার বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, খেরসন শহর ছাড়তে রুশ বাহিনীর অন্তত এক সপ্তাহ লাগবে। কিন্তু তার অনেক আগেই রাশিয়া শহরটি ছেড়ে গেল।
ওদিকে, রুশ বাহিনীর ছেড়ে যাওয়া কয়েক ডজন ছোট শহর নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার দাবি করেছে ইউক্রেইনীয় সেনারা।
খেরসন প্রদেশের কৌশলগভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ রাজধানী শহর খেরসন থেকে মস্কো তাদের বাহিনীগুলো সরিয়ে নেওয়ার ঘোষণা দেওয়ার পরদিন বৃহস্পতিবার এ দাবি জানায় তারা।
ইউক্রেইনীয় একজন সামরিক বিশ্লেষক ও মিডিয়া ভাষ্যকার বলেছেন, ইউক্রেইনীয় বাহিনীগুলো খেরসন শহরের দিকেও এগিয়ে যাচ্ছে বলে বৃহস্পতিবার রাতে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।
ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে সামরিক অভিযান শুরু করার পর খেরসনই একমাত্র প্রাদেশিক রাজধানী যা রাশিয়া দখলে নিতে পেরেছিল।
অপক্ষাকৃত ছোট ইউক্রেইনীয় সামরিক বাহিনীর রুশদের হটিয়ে দেওয়ার তৃতীয় ঘটনা এটি। এর আগে মার্চে রাজধানী কিইভমুখি রুশ বাহিনীকে হটিয়ে দিয়েছিল তারা, পরে উত্তরপূর্বাঞ্চল থেকেও দখলদারদের হটিয়ে দিয়েছিল।
সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে ইউক্রেইনের যে চারটি অঞ্চল রাশিয়ার অন্তর্ভুক্ত করার দাবি করেছিলেন প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন খেরসন তার একটি। তখন অধিকাংশ দেশই তার এই পদক্ষেপকে অবৈধ অভিহিত করে এর নিন্দা করেছিল।