শিক্ষাবিদ, ভাষাসংগ্রামী ও প্রগতিশীল চিন্তার বুদ্ধিজীবী অজিত কুমার গুহর মৃত্যুবার্ষিকী আজ। ১৯৬৯ সালের ১২ নভেম্বর তিনি মৃত্যুবরণ করেন। এ দেশের অসাম্প্রদায়িক ও ধর্মনিরপেক্ষ সাহিত্য-সংস্কৃতিচর্চার ধারা নির্মাণে তার অবদান ও সাফল্য অপরিসীম।
অজিত কুমার গুহর জন্ম ১৯১৪ সালের ১৫ এপ্রিল কুমিল্লা শহরে। কুমিল্লার ঈশ্বর পাঠশালা থেকে ১৯৩০ সালে তিনি ম্যাট্রিক পাস করেন। ১৯৩২ সালে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজ থেকে তিনি আইএ এবং ১৯৩৪ সালে বিএ পাস করেন।
কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৩৯ সালে বাংলায় এমএ পাস করেন। ১৯৪২ সালে ঢাকা প্রিয়নাথ হাইস্কুলে শিক্ষকতার মধ্য দিয়ে তার কর্মজীবন শুরু হয়। ১৯৪৮ সালে জগন্নাথ কলেজের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক হয়ে তিনি ১৯৬৮ সালের ৩১ জুলাই পর্যন্ত কর্মরত ছিলেন।
১৯৫৭-৫৮ সময়ে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের খণ্ডকালীন অধ্যাপক ছিলেন। জগন্নাথ কলেজ ছেড়ে তিনি একসময় ঢাকার টিচার্স ট্রেনিং কলেজের উপাধ্যক্ষ পদে যোগ দেন। এর আগে ১৯৪০-৪২ সাল পর্যন্ত তিনি শান্তিনিকেতনে ছিলেন। সে সময় তিনি রবীন্দ্র সাহিত্যে যথেষ্ট ব্যুৎপত্তি অর্জন করেন।
তিনি রবীন্দ্রনাথের সঞ্চয়িতা, সোনার তরী ও গীতাঞ্জলি এবং কালীদাসের মেঘদূত সম্পাদনা করে কৃতিত্বের পরিচয় দেন। এ ছাড়া সাহিত্য, শিক্ষা ও সংস্কৃতি সম্পর্কে তিনি বহু প্রবন্ধ রচনা করেন। রাজনীতি না করেও সংস্কৃতিচর্চার কারণে তিনি পাকিস্তান সরকারের রোষানলে পড়ে দুবার কারাভোগ করেন।
ভাষা আন্দোলনে সক্রিয় অংশগ্রহণের দায়ে ১৯৫২ সালে তিনি গ্রেপ্তার হন। রবীন্দ্র সাহিত্যের খ্যাতনামা অধ্যাপক ও সুবক্তা হিসেবেও তার খ্যাতি ছিল।