দুই দশক হয়ে গেছে। বিশ্বকাপের শিরোপা তো দূরে থাক, ফাইনালেই খেলা হয় না ব্রাজিলের। তবে এবার নেইমার জুনিয়রকে ঘিরে আশা দলটির সমর্থকদের। ২০ বছরের খরা এ তারকাই ঘুচাবেন বলে প্রত্যাশা তাদের। তাই পুরো একটা জাতির আকাঙ্খার ভার যেন নেইমারের কাঁধে। এবারের বিশ্বকাপের শিরোপা জিততে পারলে অন্য এক উচ্চতায় পৌঁছাতে পারবেন তিনি। তবে তার নামটা নাকি ফুটবল ইতিহাসে এরই মধ্যে খোদাই করা হয়ে গেছে বলে দাবি পিএসজির এই ফরোয়ার্ডের ।
ব্রাজিলের সংবাদমাধ্যম গ্লোবোকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এমন দাবি করেছেন। জীবনে যত চাপ বা ঝড়কে একপাশে রেখে নেইমার সব সময় আনন্দে থাকতে পছন্দ করেন।
সাক্ষাৎকারে নেইমার বলেছেন, ‘আমি আনন্দে থাকা মানুষ। আমি নিজেকে নিয়ে কথা বলতে পছন্দ করি না। আমি নিজেকে সেরা বলতে পছন্দ করি না। আমি ফুটবল খেলতে পছন্দ করি, জিততে পছন্দ করি। প্রতিদিন আরেকটু ভালো হতে চাই। আমি সতীর্থদের সাহায্য করতে চাই। এটাই আসল। আমি আশা করি, আমার নামটা ফুটবল ইতিহাসে খোদাই করা আছে। যদি ফুটবলে না–ও হয়, কারও জীবনে নিশ্চয়ই আছে।’
দেশের হয়ে খেলা নিয়ে নেইমার বলেন, ‘ব্রাজিলের হয়ে খেলাটা আমার স্বপ্ন ছিল। শুধু জাতীয় দলে খেলাটাই একটা স্বপ্নের মতো ব্যাপার। এটা এমন একটা স্বপ্ন, যা আমি কেবল নিজের জন্য দেখিনি, এটা আমার সেসব বন্ধুর জন্যও, যারা পেশাদার ফুটবল খেলতে পারেননি। আর আমার বাবা, দাদা এবং পরিবারের জন্য তো বটেই।’
নেইমারের ফুটবলশৈলীর প্রশংসার সঙ্গে মাঠে চোট অভিনয়ের সমালোচনাও হয়। এ নিয়ে তিনি বলেছেন, ‘এটা দৃষ্টিভঙ্গির ওপর নির্ভর করছে। যেভাবে আপনি দেখছেন, তার ওপর। আমি আজ ব্রাজিল দলে খেলি বলে আমাকে ক্যারিয়ারে অনেক কিছুই শুনতে হয়েছে। আর এমন অনেক কিছুও শুনতে হয়, যার দিকে ফিরে তাকালে মনে হয়, এসব অর্থহীন। নিজের যত্ন না নিলে আমি কখনো ক্যারিয়ারে যে পর্যায়ে আছি বা যে পরিসংখ্যান আমার পক্ষে আছে, তা অর্জন করতে পারতাম না। অনুশীলন ছাড়া কিংবা জেতার জন্য লড়াই ছাড়া এটা অর্জন সম্ভব হতো না। এ কারণে অন্যায় সমালোচনা আমাকে কষ্ট দেয়।’
নিজেকে যত্নে রাখার ব্যাখ্যায় নেইমার বলেন, ‘আমার কষ্টগুলো কেউ দেখে না। কেউ জানে না, আমার দিনগুলো কিভাবে কাটে। সেখানে আমার জন্য কেউ থাকে না। আমার কাছের মানুষ, যারা আমাকে চেনেন, তারা জানেন, শতভাগ দেওয়ার জন্য এবং আঘাত না পাওয়ার জন্য কত পরিশ্রম আমাকে করতে হয়। চোট আসে; এটা খেলোয়াড়দের জীবনের অংশ। দুর্ভাগ্যজনকভাবে সেই চোট এমন সময় আসে, যখন আপনি চান না। এটা খেলারই অংশ।’