‘পরিবহন শ্রমিকরা মাফিয়া চক্রের হাতে নির্যাতিত, নিষ্পেষিত’

পরিবহন খাতে দিনে ১১ কোটি টাকা চাঁদাবাজি হচ্ছে অভিযোগ করে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক লীগ জানিয়েছে, পরিবহন সেক্টরে কর্মরত শ্রমিকরা একটি মাফিয়া চাঁদাবাজ চক্রের হাতে নির্যাতিত, নিষ্পেষিত ও বঞ্চিত।

সংগঠনটি বলছে, বছরে সড়কে প্রায় ৪ হাজার ১৫ কোটি চাঁদা আদায় হয়।

শনিবার জাতীয় প্রেসক্লাবে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক লীগ আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য তুলে ধরেন শ্রমিক লীগ সভাপতি মোহাম্মদ হানিফ খোকন।

হানিফ খোকন বলেন, ‘বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশন নামে শ্রমিকদের ফেডারেশন হলেও তা মূলত মালিকদের সমিতি। ওই ফেডারেশন ১০টি দাবি করলে ৮টি দাবিই থাকে মালিকদের। ফেডারেশনের নেতারা মালিক সমিতির সঙ্গে আঁতাত করে শ্রম আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে পরিবহন সেক্টরে চাঁদাবাজির নির্দেশিকা তৈরি করে। পরিবহন সেক্টরে কর্মরত শ্রমিকরা একটি মাফিয়া চাঁদাবাজ চক্রের হাতে নির্যাতিত, নিষ্পেষিত ও বঞ্চিত। শ্রমিকদের শোষণ করে চাঁদাবাজরা শত শত কোটি টাকার মালিক বনে গেছে। রাজধানীর চারটি বড় টার্মিনালসহ দেশের প্রতিটি টার্মিনালের শ্রমিকরা এই মাফিয়া চক্রের হাতে জিম্মি। এরা সড়ক মহাসড়কে চাঁদাবাজির স্বর্গরাজ্যে পরিণত করে নিজেদের প্রাসাদ-প্রতিপত্তি গড়ে তুলছে। তাই শ্রম আইন অনুযায়ী নিয়োগপত্র প্রদান ও পরিবহন সেক্টরে চাঁদাবাজি বন্ধসহ বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক লীগের ঘোষিত ১২ দফা দাবি বাস্তবায়নে পরিবহন সেক্টরের সব শ্রমিক ও মালিক সংগঠনগুলোর সহযোগিতা একান্তভাবে কামনা করছি।’

সড়ক পরিবহন শ্রমিক নেতাদের দাবিগুলো হলো- সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮ মোতাবেক সড়ক পরিবহন শ্রমিকদের নিয়োগপত্র প্রদান, প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী মাসিক বেতন প্রদান ও ৮ কর্মঘণ্টা নির্ধারণ; পরিবহন শ্রমিকদের চিকিৎসা ভাতা এবং দুই ঈদ ও পূজায় উৎসব বোনাস প্রদান; পরিবহন সেক্টরে অবৈধ চাঁদাবাজি ও হাইওয়ে সড়কে অহেতুক পুলিশের হয়রানি বন্ধ; যানজট নিরসন ও সড়ক দুর্ঘটনা রোধে মেয়াদোত্তীর্ণ সব ধরনের ফিটনেসবিহীন যানবাহন বন্ধসহ ১২ দফা দাবি জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. ইনসুর আলী প্রমুখ।