মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন বলেছেন যে, উত্তর কোরিয়ার ক্রমবর্ধমান উস্কানিমূলক আচরণের প্রেক্ষিতে যুক্তরাষ্ট্র, জাপান এবং দক্ষিণ কোরিয়া দেশটির বিরুদ্ধে ‘আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে আরও বেশি জোটবদ্ধ’ হয়েছে।
কম্বোডিয়ায় আসিয়ানে সম্মেলনের ফাঁকে জাপানের প্রধানমন্ত্রী ফুমিও কিশিদা এবং দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট ইউন সুক-ইওলের সঙ্গে এক ত্রিপক্ষীয় বৈঠকের পর বক্তৃতায় একথা বলেন বাইডেন।
দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট ইউন বলেছেন যে, উত্তর কোরিয়ার সাম্প্রতিক উস্কানিগুলো থেকেই দেশটির সরকারের ‘মানবতা বিরোধী স্বভাব’ স্পষ্ট হয়। অন্যদিকে জাপানের প্রধানমন্ত্রী কিশিদা বলেছেন, উত্তর কোরিয়ার সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ড ‘নজিরবিহীন’ এবং তারা এ ধরনের উস্কানিমূলক কাজ আরও করতে পারে।
কিশিদা ত্রিপক্ষীয় বৈঠকের উদ্বোধনী বক্তব্যে বলেছিলেন, ‘এই ত্রিপক্ষীয় শীর্ষ বৈঠকটি সময়োপযোগী হওয়ায় আমরা আরও উস্কানি আশা করছি। আমি উত্তর কোরিয়ার পদক্ষেপের বিরুদ্ধে দৃঢ় প্রতিক্রিয়া জানাতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, দক্ষিণ কোরিয়া এবং জাপানের মধ্যে সমন্বয় জোরদার করার অপেক্ষায় আছি।’
বাইডেন জানান, রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধে ইউক্রেনকে সমন্বিতভাবে সহায়তা করা, তাইওয়ান প্রণালীতে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং ‘মুক্ত ও উন্মুক্ত ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের সাধারণ লক্ষ্যগুলো’ নিয়ে কাজ করার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে দেশ দুটির সঙ্গে।
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটরা প্রত্যাশার চেয়েও ভালো ফলাফল করায় ফুরফুরে মেজাজে আন্তর্জাতিক সম্মেলনগুলোতে অংশ নিচ্ছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। যুক্তরাষ্ট্রের গণমাধ্যম সিএনএন বলছে, ঘর সামলানোর পর এবার আন্তর্জাতিক অঙ্গনে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বের প্রভাব সমুন্নত রাখতে মনোযোগী বাইডেন। এই লক্ষ্যে পাঁচ দিনের এশিয়া সফরে বের হয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট। শুক্রবার মিসরে কপ-২৭ সম্মেলনে যোগ দেওয়ার পরপরই আসিয়ান সম্মেলনে যোগ দেওয়ার জন্য শনিবার কম্বোডিয়ার রাজধানী নমপেনে পৌঁছান তিনি।
ইন্দোনেশিয়ার বালিতে জি-২০ সম্মেলনে যোগ দেওয়ার আগে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর আঞ্চলিক সংগঠন আসিয়ান সম্মেলনে যোগ দিয়েছেন বাইডেন। আজ ছিল সম্মেলনের শেষদিন। ২০১৭ সালের পর এই প্রথম যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট আসিয়ান সম্মেলনে অংশ নিচ্ছেন। এ সম্মেলনে জো বাইডেন মিত্র দেশ দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানসহ এশিয়ার বেশ কয়েকটি দেশের শীর্ষ নেতার সঙ্গে বৈঠক করেছেন।
ধারণা করা হচ্ছে, চীনের ক্রমবর্ধমান সামরিক ও প্রযুক্তিগত উত্থান মোকাবিলায় এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় দেশগুলোর সমর্থন পেতেই এ সম্মেলনে যোগ দিয়েছেন বাইডেন। এদিকে পাঁচ দিনের এ সফরে আগামী সোমবার জি-২০ সম্মেলনে জো বাইডেন প্রথমবারের মতো চীনের প্রেসিডেন্ট শি চিনপিংয়ের সঙ্গে সশরীরে সাক্ষাৎ করবেন।
শনিবার হোয়াইট হাউজ জানিয়েছে, শি-বাইডেন বৈঠকে বাইডেন চীনা প্রেসিডেন্টকে সতর্ক করবেন যে, উত্তর কোরিয়ার ক্রমাগত অস্ত্র উন্নয়নের প্রচেষ্টা যুক্তরাষ্ট্রকে এই অঞ্চলে তার সামরিক উপস্থিতি আরও বাড়ানোর দিকে নিয়ে যাবে।
যুক্তরাষ্ট্রের আশঙ্কা, পারমাণবিক বোমার পরীক্ষা চালানোর পরিকল্পনা করছে পিয়ংইয়ং। তবে ওয়াশিংটনের বিশ্বাস, চীন ও রাশিয়ার পক্ষে এমন পরিকল্পনা থেকে তাদের সরিয়ে আনার সুযোগ রয়েছে। দেশটির জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জেইক সুলিভান বলেছেন, বাইডেন চীনা প্রেসিডেন্টকে বলবেন যে, উত্তর কোরিয়া শুধু যুক্তরাষ্ট্র এবং তার মিত্র দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানের জন্যই নয়, বরং দেশটি এই অঞ্চলের সামগ্রিক শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্যও হুমকি।
বাণিজ্যযুদ্ধ ও তাইওয়ান ইস্যু নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে বেশ কয়েক বছর ধরেই দ্বন্দ্ব চলে আসছে। গত বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউজের সংবাদ সম্মেলনে বাইডেন বলেন, তাইওয়ান ইস্যুতে চীনকে ‘কোনো ধরনের মৌলিক ছাড়’ দিতে রাজি নয় যুক্তরাষ্ট্র। তিনি আরও বলেন, সোমবার নিশ্চিতভাবেই শি চিনপিংয়ের সঙ্গে বাণিজ্য ও তাইওয়ান নিয়ে আলোচনা হবে। তবে অবশ্যই আমরা প্রতিযোগিতা চাই, সংঘাত নয়।
একই দিনে চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ঝাও লিজিয়ান বলেন, পেইচিং ওয়াশিংটনের এ প্রস্তাবকে গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছে। পারস্পরিক সম্মান, শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে প্রতিযোগিতামূলক সহযোগিতা বজায় রাখতে চীন প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।