অবশেষে চলেই গেলেন গায়ক আকবর

সংগীতশিল্পী আকবরকে ফেরানো গেল না। জীবন যুদ্ধে অবশেষে পরাজয় বরণ করলেন তিনি। গতকাল রাজধানীর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে তিনি শেষ নিঃশ^াস ত্যাগ করেন। মৃত্যুর খবরটি নিশ্চিত করেছেন তার স্ত্রী কানিজ ফাতেমা। আকবরের বয়স হয়েছিল ৫৪ বছর। অনেক দিন ধরে ডায়াবেটিসসহ নানা ধরনের শারীরিক সমস্যায় ভুগছিলেন আকবর, চলছিল চিকিৎসাও। দুই বছর ধরে শরীরে বাসা বেঁধেছিল জন্ডিসও। এ ছাড়া কিডনিতে সমস্যা, রক্তের প্রদাহসহ ছিল নানা শারীরিক জটিলতা। গত জানুয়ারি থেকে তিনি ছিলেন বিছানায়। আকবরের দুটি কিডনি নষ্ট হয়ে যাওয়ায় শরীরে পানি জমে তার ডান পা নষ্ট হয়ে গিয়েছিল। গত অক্টোবরে সেই পা কেটে ফেলা হয়েছিল। পা কাটার পর বেড়ে যায় তার কিডনি ও লিভারের সমস্যা। এ জন্য আকবরকে ভারতে নিয়ে যাওয়ার কথাও ছিল। এর আগে কিডনি রোগে আক্রান্ত হয়ে কয়েক দফায় দেশে ও দেশের বাইরে চিকিৎসা নেন আকবর। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার চিকিৎসার জন্য ২০ লাখ টাকা অনুদান দেন। কিন্তু সব চেষ্টা ব্যর্থ করে চলে গেলেন তিনি। গায়ক হিসেবে পরিচিতি পাওয়ার আগে রিকশা চালাতেন আকবর। খুলনার পাইকগাছায় জন্ম হলেও আকবরের বেড়ে ওঠা যশোরে। ২০০৩ সালে যশোর এম এম কলেজের একটি অনুষ্ঠানে গান গেয়েছিলেন আকবর। বাগেরহাটের এক ব্যক্তি আকবরের গান শুনে মুগ্ধ হন। তিনি ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান ‘ইত্যাদি’তে চিঠি লেখেন আকবরকে নিয়ে। এরপর ‘ইত্যাদি’ কর্তৃপক্ষ আকবরের সঙ্গে যোগাযোগ করে। ওই বছর ‘ইত্যাদি’ অনুষ্ঠানে কিশোর কুমারের ‘একদিন পাখি উড়ে’ গানটি গেয়ে রাতারাতি পরিচিতি পেয়ে যান আকবর। এরপর তার মৌলিক গান ‘তোমার হাতপাখার বাতাসে’ দারুণ জনপ্রিয়তা পায়।