ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের সঙ্গে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর সম্পর্কের টানাপোড়েন নতুন কিছু নয়। মাস দুয়েক আগেও সেটা বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে স্পষ্ট ফুটে উঠেছিল। সে দ্বন্দের কারণ এতদিন শুধুই ছিল অনুমিত। তবে এবার রোনালদো নিজেই তা প্রকাশ করে দিলেন। ক্লাবটিতে তার সাবেক সতীর্থ ওয়েইন রুনি ও কোচ এরিক টেন হাগসহ ক্লাব কর্তৃপক্ষকে নিয়ে দিয়েছেন বিস্ফোরক মন্তব্য।
চলতি মৌসুমে টেন হাগ ইউনাইটেডে যোগ দেওয়ার পর থেকেই রোনালদোর সঙ্গে বনিবনা হচ্ছে না। প্রাক্-মৌসুম পর্বে রোনালদোর অনুপস্থিতি দিয়ে যার শুরু, সেটি এখন তিক্ততায় পরিণত।
বিশ্বকাপের কারণে ক্লাব ফুটবলে দেড় মাসের ছুটি। পর্তুগালের হয়ে খেলতে রোনালদো চলে যাবেন কাতারে। তার আগে টকটিভির মরগানকে দেড় ঘণ্টার একটি সাক্ষাৎকার দিয়েছেন রোনালদো। পিয়ার্স মরগান এ আলাপচারিতার নিয়ে লিখেছেন ব্রিটেনের ডেইলি সানে।
ইউনাইটেড কোচ টেন হাগকে নিয়ে সাক্ষাৎকারে বিস্ফোরণ ঘটিয়ে ৩৭ বছর বয়সী রোনালদো বলেছেন, ‘তার জন্য আমার কোনো সম্মান নেই। কারণ, আমাকেও তিনি সম্মান দেখান না। কেউ আমাকে সম্মান না দিলে আমি তাকে সম্মান দিই না।’
মৌসুমের শুরুতে রোনালদো ইউনাইটেড ছেড়ে যাচ্ছেন, এমন খবর শোনা যাচ্ছিল। তবে তার চেয়ে বেশি কোচই নাকি তাকে তাড়াতে চেয়েছেন বলে দাবি পর্তুগিজ তারকার, ‘উনি চেয়েছেন আমি চলে যাই। শুধু কোচই নন, ক্লাবের আরও দুই–তিনজন ব্যক্তি আমাকে বের করে দিতে চেয়েছেন। আমি বিশ্বাসঘাতকতার শিকার হয়েছি।’
তার সঙ্গে ম্যানইউ বিশ্বাসঘাতকতা করছে বলে জানিয়ে রোনালদো বলেন, ‘আমি এসবকে পাত্তা দিই না। মানুষের সত্যিটা শোনা দরকার। হ্যাঁ, আমার মনে হয়েছে বিশ্বাসঘাতকতা হচ্ছে। মনে হয়েছে, কিছু মানুষ চায় না, আমি এখানে থাকি। শুধু এ বছর না, গত বছরও তারা এ রকমই চেয়েছিল।’
ওল্ড ট্রাফোর্ড ছেড়ে যাওয়া রোনালদো ২০০৯ সালে রিয়াল মাদ্রিদ ও জুভেন্টাস হয়ে ২০২১ সালে আবার ইউনাইটেডে ফেরেন। তবে এক যুগ পর ক্লাবে ফিরে নতুন কিছুই পাননি জানিয়ে পাঁচবারের ব্যালন ডি’অরজয়ী বলেন, ‘স্যার অ্যালেক্স চলে যাওয়ার পর কোনো উন্নতিই হয়নি। কিছুই বদলায়নি। ক্লাবটি যে এমন থাকার কথা না, এটা তিনি ভালো করেই জানেন।’
মরগানকে দেওয়া দীর্ঘ সাক্ষাৎকারে সাবেক সতীর্থ ওয়েইন রুনিকেও এক হাত নেন রোনালদো। সাবেক ইংল্যান্ড অধিনায়ক রোনালদোর সমালোচকদের একজন। তাকে নিয়ে রোনালদো বলেন, ‘আমি জানি না, উনি কেন আমাকে এত তীব্রভাবে সমালোচনা করেন। সম্ভবত উনি খেলা ছেড়ে দিয়েছেন আর আমি এখনো শীর্ষ পর্যায়ে খেলে চলেছি এ জন্য।’
ম্যাচের পর ম্যাচ বেঞ্চে বসে থাকতে থাকতে রোনালদোও এতটাই বিরক্ত যে গত মাসে টটেনহামের বিপক্ষে বদলি হিসেবে নামতে বললে খেলা চলাবস্থায় মাঠ ছেড়েই বেরিয়ে যান তিনি। শাস্তি হিসেবে চেলসির বিপক্ষে পরের ম্যাচে রোনালদোকে স্কোয়াডে থেকে বাদ দেন টেন হাগ।