খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার আটলিয়া ইউনিয়নের আপার ভদ্রা নদীভাঙনের কবলে পড়েছে কাঁঠালতলা আশ্রয়ণ প্রকল্পের ২৬টি ঘর। এই নিয়ে আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দারা চরম ঝুঁকি ও আতঙ্ক নিয়ে বসবাস করছেন। তাদের অভিযোগ, প্রায় তিন মাস ধরে এভাবে নদীভাঙন চললেও কর্তৃপক্ষ তেমন কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি।
আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দারা জানান, কাঁঠালতলা বাজারের পাশ দিয়ে বয়ে গেছে আপার ভদ্রা নদী। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারের আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের আওতায় প্রথম ধাপে ৬০টি ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবার কাঁঠালতলায় পুনর্বাসন করা হয়। ২০২১ সালে জানুয়ারি মাসে এ ঘর হস্তান্তর করা হয়। এরমধ্যে আপার ভদ্রার তীরে রয়েছে এই ২৬টি ঘর। তখন নদী থেকে এই ঘরের দূরত্ব ছিল ১০/১২ ফুটের মতো। নদীতে স্রোতের গতি বৃদ্ধি পাওয়ায় তিন মাস আগে থেকে প্রায় ৩৫০ ফুট এলাকাজুড়ে ভাঙন লাগে। তিন মাসের ভাঙনে ইতিমধ্যে নদীতে প্রায় ১০ ফুট ভেঙে গেছে।
আবাসন প্রকল্পের বাসিন্দা মনিরা বেগম বলেন, ‘আমরা ২৬টি পরিবার এখানে বসবাস করি। ঘর ছিল না, এই ঘর পেয়ে খুব ভালো লাগছিল। ভাঙনের কারণে অধিকাংশ জায়গা নদীতে চলে গেছে। রাতে যখন জোয়ার আসে তখন খুব ভয় হয় এই বুঝি ঘর নদীতে চলে গেল। অনেকে ভয়ে রাতে অন্য জায়গায় চলে যায়।’
আরেক বাসিন্দা হালিম গাজী বলেন, নদী থেকে আমাদের ঘর ৭/৮ হাত দূরে ছিল। তিন মাসের ভাঙনে নদী এখন ঘরের কাছে চলে এসেছে। রাতে খুব ভয় হয় কখন ঘর ভেঙে পড়ে। ঘর নদীতে চলে গেলে কোথায় থাকব আমরা।
খুলনার নদী বাঁচাও আন্দোলনের নেতা ও কেন্দ্রীয় পানি কমিটির সভাপতি এ বি এম শফিকুল ইসলাম বলেন, বিশেষ করে ডুমুরিয়ায় নদীর তীরে আশ্রয়ণ প্রকল্প করার মজা শুরু হয়েছে। এখন নদীর পাশে ও ভাঙনকবলিত স্থান কাঁঠালতলায় প্রকল্প বাস্তবায়ন করার ফলে তা ভাঙনের কবলে পড়েছে। এখন দ্রুত ভাঙনরোধ করা না গেলে ঘরগুলো নদীতে চলে যাবে। তখন মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ, গৃহহীনদের জন্য আশ্রয়ের ব্যবস্থা করাÑ তা ভেস্তে যাবে।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শরীফ আসিফ রহমান বলেন, একটি বরাদ্দ দিয়ে সংস্কারের কাজ করা হচ্ছে। কিন্তু সে বরাদ্দ যথেষ্ট নয়। বড় ধরনের বরাদ্দ পেলে প্রকল্পের মাধ্যমে ভাঙনকবলিত এলাকা পুনঃসংস্কার কাজ করা হবে।