২
সব ধরনের সুযোগ-সুবিধাসহ সৌদি আরবের অর্থায়নে দেশে নতুন ৯টি আইকনিক মসজিদ নির্মাণ করা হবে। আইকনিক মসজিদগুলোর একটি হবে রাজধানীর পূর্বাচলে, বাকি আটটি বিভাগীয় শহরগুলোয়। দুই দেশের মধ্যে অনুষ্ঠিত যৌথ অর্থনৈতিক কমিশনের (জেইসি) ১৪তম সভায় এ সিদ্ধান্ত হয়।
সৌদি আরবের রিয়াদের ডিজিটাল সিটিতে অবস্থিত ক্রাউন প্লাজা হোটেলে গত ৩০ ও ৩১ অক্টোবর দুদিনের ওই সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলে নেতৃত্ব দেন অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সচিব শরিফা খান। সৌদি আরবের পক্ষে নেতৃত্ব দেন দেশটির মানবসম্পদ ও সামাজিক উন্নয়নবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ভাইস মিনিস্টার আবদুল্লাহ বিন নাসের বিন মোহাম্মদ আবুথনাইন। সভায় আলোচনা শেষে সৌদি আরব ৯টি আইকনিক মসজিদ নির্মাণে অর্থায়নে সম্মত হয়। এ লক্ষ্যে দুদেশের মধ্যে সমঝোতা স্মারক সইয়ের সিদ্ধান্ত হয়। বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আইকনিক মসজিদ নির্মাণের পাশাপাশি বাংলাদেশ থেকে সৌদি আরবে পবিত্র হজ ও ওমরাহ পালনে যাওয়া ব্যক্তিদের প্রশিক্ষণ ও সচেতনতা বাড়াতে সৌদি সরকার সহযোগিতা করবে। এ বিষয়ে আলাদা করে সমঝোতা স্মারক সই হবে দুদেশের মধ্যে।
ধর্ম মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, আইকনিক মসজিদ নির্মাণে সৌদি সরকার বাংলাদেশকে অর্থায়ন করবে, এরই মধ্যে মসজিদ নির্মাণের স্থান চূড়ান্ত করে এ-সংক্রান্ত প্রকল্প সৌদি আরবে পাঠানো হয়েছে। নকশাও চূড়ান্ত হয়ে গেছে।
ধর্ম মন্ত্রণালয়ের তথ্য বলছে, চলমান ৫৬০টি মডেল মসজিদ নির্মাণে সৌদি আরব সরকার অর্থ দেবে বলে সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল। এরই ধারাবাহিকতায় ২০১৭ সালের এপ্রিলে একনেক সভায় ‘প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় একটি করে ৫৬০টি মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র স্থাপন’-সংক্রান্ত প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়। তখন এর ব্যয় ধরা হয়েছিল ৮ হাজার ৭২২ কোটি টাকা। এর মধ্যে সৌদি সরকারের আট হাজার কোটি টাকা দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু প্রস্তাবটি দেশটির রয়্যাল কোর্টে (মন্ত্রিসভা) উপস্থাপন করা হলে সেখান থেকে অনুমোদন পাওয়া যায়নি। পরে সরকার নিজেদের টাকায় মডেল মসজিদ নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেয়, যা এখনো চলমান। গত পাঁচ বছরে মডেল মসজিদ প্রকল্পের আওতায় ৫০টি মডেল মসজিদ উদ্বোধন করা হয়েছে। আগামী জানুয়ারির মধ্যে আরও ১০০টি মসজিদ উদ্বোধন করার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে বলে ধর্ম মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে।
এদিকে নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করতে না পারায় ৮ হাজার ৭২২ কোটি টাকার প্রকল্পটির ব্যয় ৯ হাজার ৫৫৯ কোটি টাকায় ঠেকেছে। প্রকল্পের মেয়াদও বাড়ানো হয়েছে ২০২৩ সাল পর্যন্ত।