ফের কারোনা ভাইরাসের সংক্রমণ বাড়ছে চীনে। এর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে সরকারের কড়াকড়ি। লকডাউনে রীতিমতো থমকে আছে দেশটির বড় শহরগুলো। এ নিয়ে জনগণের অসন্তোষের শেষ নেই। কিন্তু তাতেও সরকার জিরো কোভিড নীতিতে কোনো ছাড় দিচ্ছে না। ফলে প্রতিবাদে শেষ পর্যন্ত রাস্তায় নেমেছে জনগণ।
চরম কর্তৃত্ববাদী কমিউনিস্ট রাষ্ট্র চীনের জন্য এই দৃশ্য অত্যন্ত বিরল। তবে সেটিই হচ্ছে শেষ পর্যন্ত। ব্যারিকেড সরিয়ে রাস্তায় বিক্ষোভ করছে চীনারা। জীবন-জীবিকায় টানা পড়ায় বিদ্রোহ করেছে জনগণ।
করোনা মহামারীর শুরু থেকেই জিরো কোভিড নীতি নিয়ে চলছে চীন। কোনো জায়গায় করোনা বাড়লেই, সেই শহর বা জেলায় সম্পূর্ণ লকডাউন ঘোষণা করা হয়। যেমন এখন লকডাউন দেওয়া হয়েছে গুয়ানঝুতে। সোমবার চীনে প্রায় ১৮ হাজার মানুষের কোভিড শনাক্ত হয়। তার মধ্যে পাঁচ হাজারই গুয়ানঝুতে। এর ফলে গোটা গুয়ানঝুতে প্রবল কড়াকড়ি শুরু হয়েছে। গত অক্টোবরেও এখানে লকডাউন ঘোষণা করা হয়েছিল। ফলে সেখানে মানুষের অর্থনৈতিক কার্যক্রম থমকে আছে। যাদের আয় কম তারা বিপাকে পড়েছে।
মানুষ এখন গুয়ানঝুতে রাস্তায় নেমে ব্যারিকেড সরিয়ে শহরের কেন্দ্রে গিয়ে প্রতিবাদ জানাচ্ছে। হামলা চালানো হয় পুলিশের ওপরও। হাইঝু জেলায় একটি পুলিশের গাড়ি উল্টে দেয়া হয়। চীনে এমন ঘটনা বেশ বিরল।
গোটা বিশ্বের কোভিড পরিস্থিতি এখন উন্নতির দিকে। কড়াকড়ি চোখে পড়ে না আর খুব একটা। অথচ চীনে এখনো জিরো কোভিড নীতি নিয়ে চলছে। নিয়মিত মানুষকে গণহারে করোনা পরীক্ষা করা হয়। করোনা ধরা পড়লে সঙ্গে সঙ্গে কোয়ারেন্টিনে পাঠানো হয়। কারা তার সংস্পর্শে এসেছেন তা খুঁজে বের করা হয়। তাদেরও কোয়ারেন্টিন করতে হয়।
দেশটির সরকার বারবার জানিয়েছে, জিরো কোভিড নীতি চালু থাকবে। কিন্তু এই নীতির ফলে নিম্ন আয়ের শ্রমিকরা আর্থিক সংকটে পড়েছেন। সেজন্যই তারা রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ জানাতে বাধ্য হয়েছেন। সরকারের জিরো কোভিড নীতির বিরুদ্ধে রীতিমতো বিদ্রোহ করেছেন তারা।