নেত্রকোনার মোহনগঞ্জে অটোরিকশার চাঁদা আদায়কে কেন্দ্র করে দুই গ্রামবাসী মাঝে কথাকাটাকাটির জেরে সংঘর্ষ হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বারহাট্টা থানা ও জেলা থেকে অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। এ গটনায় পুলিশ ৫১ রাউন্ড রাবার বুলেট ও ১০ রাউন্ড টিয়ার শেল ছোড়ে।
দুপক্ষের সংঘর্ষের আহত হাসান (৩৫) নামে একজন ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে মারা যান। তিনি উপজেলার মানশ্রী পুকুরপাড় এলাকার জজ মিয়ার মিয়ার ছেলে। এ ছাড়া অন্তত ৬৬ জনের আহত হন বলে জানায় মোহনগঞ্জ থানার ওসি মো. রফিকুল ইসলাম।
বুধবার বিকেল ৫টা পর্যন্ত মোহনগঞ্জের বিরামপুর ও বড়কাশিয়া গ্রামের মানুষের মাঝে উত্তেজনা ও থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত দফায় দফায় চলা সংঘর্ষে অনেকেই কম-বেশি আহত হয়েছেন। তবে তার নির্দিষ্ট সংখ্যা বলা যাচ্ছে না। ৩০-৪০টি দোকান ও ৫০-৬০টি অটোরিকশা ভাঙচুর হয় বলেও জানায় স্থানীয়রা।
স্থানীয়ভাবে জানা যায়, দুপুর ১২টার দিকে প্রথমে অটোরিকশার চাঁদা আদায়কে কেন্দ্র করে অটোচালক ও আদায়কারীর সাথে বাগ্বিতণ্ডা ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। পরে একপক্ষ বিরামপুর গ্রামের লোকজন রেলক্রসিং সংলগ্ন রাস্তায় লাটিসোঁটা নিয়ে অবস্থান নেয়। কিছুক্ষণ পর বড়কাশিয়ার গ্রামের লোকজন রেলক্রসিং এলাকায় আসলে দুপক্ষের মাঝে সংঘর্ষ শুরু হয়।
খবর পেয়ে মোহনগঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পুলিশের উপস্থিতিতেই দফায় দফায় হামলা ও পাল্টা হামলা চালাতে থাকে। প্রথমে বারহাট্টা থানা পুলিশ ও পরে জেলা থেকে অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পর বিকেলের দিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
তবে দুই গ্রামেরবাসীর মাঝে এখনো উত্তেজনা ও থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।
নেত্রকোনার অতিরিক্তি পুলিশ সুপার (মিডিয়া) মো. লুৎফর রহমান জানান, অটোরিকশা চালকের সাথে ঝগড়ায় দুই গ্রামবাসী সংঘর্ষে জড়ালে তা বড় আকার ধারণ করে। মোহনগঞ্জ থানা পুলিশ ছাড়াও বারাহাট্টা থানা পুলিশ ও জেলা থেকে ৩০-৩৫ জন এবং পুলিশ লাইনস থেকেও পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বিকেলের দিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরিস্থিতি শান্ত। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়ন রয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ আনতে ৫১ রাউন্ড রাবার বুলেট ও ১০ রাউন্ড টিয়ার শেল নিক্ষেপ করা হয়। দুপক্ষের সংঘর্ষে আহত হাসান নামে একজন মমেক হাসপাতালে নেওয়ার পথে মারা যান বলে তিনি জানান।