প্রথম ম্যাচে ইনিংস ও ৬২ রানের হার। ঢাকা বিভাগের সঙ্গে দুই ইনিংসে ৯২ ও ৫৬ করেছিল রংপুর। তারাই শিরোপা জিতল জাতীয় লিগের। প্রত্যাবর্তনের দারুণ উদাহরণ দিয়ে বাকি ৫ ম্যাচে আর হারেনি দলটি। শেষ রাউন্ডে সিলেটের সঙ্গে ৫ উইকেটের জয়ে সাফল্য ধরা দিল আকবর আলিদের। ২০১৪-১৫ মৌসুমের পর এটা তাদের দ্বিতীয় শিরোপা। এই সাফল্যের পেছনে কোনো একক নায়ক নেই, আছে দলগত প্রচেষ্টা। প্রথম হারের পর বাকি ৫ ম্যাচে ক্রিকেটারদের ছোট-ছোট অবদানে রংপুরের এই অর্জন।
বগুড়া স্টেডিয়ামে সিলেটের বিপক্ষে কাল জয়ের লক্ষ্য ছিল সামান্য। তবুও দলটির জাতীয় দলের পেস বিভাগের সামনে ভেঙে পড়েছিল রংপুরের ব্যাটিং লাইন। তানজিম সাকিব নেন ৩ উইকেট। তাদের বিপক্ষে প্রতিরোধ গড়ে রিশাদ হোসেনে ২০, মিম মোসাদ্দেকের ২৯ ও আকবর আলির ১৮ রংপুরের জয়ের পথ করে দেয়। শিরোপা জয়ের উৎসব শেষে বাড়ি ফিরছিলেন রংপুরের অধিনায়ক আকবর। দেশ রূপান্তরকে বলছিলেন এই ছোট-ছোট অবদান তাদের শিরোপা জয়ে কতটা কাজে দিয়েছে, ‘প্রথম ম্যাচটা আমাদের জন্য অবশ্যই বড় ধাক্কা ছিল। এরপর নিজেরা কথা বলেছি। আমরা চিন্তা করলাম প্রতিপক্ষকে যতটা কম রানে আউট করতে পারি। তাহলে আমাদের ব্যাটারদের কাজ সহজ হবে। তখন আমাদের ব্যাটারদের ছোট অবদান কাজে দেবে। দেখবেন এই আসরে আমাদের একটা-দুটো স্কোর বাদে কারও বড় রান নেই। ২০-৩০-৪০ রান, মানে ছোট-ছোট অবদান আমাদের অনেক কাজে দিয়েছে। আর উইকেট এবার যা ছিল আমাদের অনেক লো-স্কোরিং ম্যাচ খেলতে হয়েছে। এই ম্যাচগুলোতে ওই ছোট ইনিংসগুলো অনেক কাজে দিয়েছে।’
ছোট অবদানের বড় উদাহরণ রংপুরের চতুর্থ রাউন্ডের জয়। বগুড়ায় ওই ম্যাচে ঢাকা বিভাগের সঙ্গে প্রথম ইনিংসে ৭৩-এ গুটিয়ে গিয়েও জিতেছিল রংপুর। শেষ ইনিংসে ২১১ রানের পিছু ছুটে সোহরাওয়ার্দী শুভ করেন ৭২ ও আকবর ৪০ রানে অপরাজিত থেকে দলকে জয় এনে দেন। ওই ম্যাচে জিতে পয়েন্ট তালিকায় শীর্ষে ওঠার পথ পায় রংপুর। একই মাঠে এবারে একদম বাজে ফর্মে থাকা চট্টগ্রামের বিপক্ষে ১০ উইকেটের জয়ে শীর্ষে উঠে যায় তারা।
রংপুরের নেতৃত্বে প্রথমবার অপরাজিত রানার্সআপ হয়েছিলেন আকবর। এবার শিরোপা জিতেই থামলেন। বলছিলেন নিজের ভালো লাগার কথা, ‘আসলে সিনিয়রদের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করে নেতৃত্ব পাওয়া এবং সেই দায়িত্বে থেকে যখন একটা কিছু জিতবেন সেটা অবশ্যই ভালো লাগবে। নিজের দায়িত্বে আমার জেলা দ্বিতীয়বার শিরোপা জিতল এটা অবশ্যই ভালো লাগার বিষয়।’ একইসঙ্গে ৩২৬ রান ও ১১ উইকেটে টুর্নামেন্ট সেরা হওয়া তরুণ আবদুল্লাহ আল মামুনের প্রশংসাও করলেন আকবর, ‘পুরো টুর্নামেন্টে আমাদের দুটো সেঞ্চুরি- একটি মামুনের ডাবল আরেকটি নাঈম ভাইয়ের একশ। এরকম কঠিন ব্যাটিং কন্ডিশনে ওর (মামুন) মতো তরুণ একজন ব্যাটার ডাবল সেঞ্চুরি করেছে। শুধু তাই না সে বোলিংয়েও ১১ উইকেট নিয়েছে। সে যোগ্য হিসেবেই টুর্নামেন্ট সেরা হয়েছে। এটা অবশ্যই ভালো দিক যে এমন টুর্নামেন্টে নতুন ক্রিকেটার উঠে আসছে।’
রংপুরের জয়ের দিনে খুলনাও জিতেছে। স্বাগতিকরা ৯ উইকেটের বড় ব্যবধানে হারিয়েছে রাজশাহীকে। মাত্র ২৬ রানের লক্ষ্য সহজেই টপকেছে খুলনা। এতে রাজশাহীর টায়ার ১-এ উঠে আসার স্বপ্ন শেষ। এই স্বপ্ন এখন বাস্তবের পথে ঢাকা মেট্রোর। বরিশালের বিপক্ষে জয় থেকে ৩৬ রান দূরে তারা। বরিশালের দেওয়া ১৯০ রানের পিছু ছুটে ৩ উইকেটে ১৫৪ রান মেট্রোর। এছাড়া ঢাকা-চট্টগ্রাম ম্যাচে জয় থেকে ৮৭ রান দূরে ঢাকা। চট্টগ্রামের দেওয়া ২৫৫ রনের লক্ষ্য তাড়া করে ৫ উইকেটে ১৬৮ করেছে ঢাকা।