১০০ কোটি তরুণ শ্রবণশক্তি হারানোর ঝুঁকিতে

হেডফোন বা ইয়ারফোন ব্যবহারে কিছু শোনার সময় সেই অডিও সরাসরি শ্রোতার কানে প্রবেশ করে। ৯০ ডেসিবেল বা তার বেশি মাত্রার শব্দ সরাসরি কানে গেলে ঘটতে পারে শ্রবণ জটিলতা। এমনকি এজন্য শ্রবণ ক্ষমতা চিরতরে হারিয়েও যেতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ১০০ ডেসিবলের ওপর হেডফোন ব্যবহার করলে মাত্র ১৫ মিনিটে শ্রবণশক্তির বড় ক্ষতি হতে পারে। হেডফোন-ইয়ারফোনে উচ্চমাত্রার শব্দ কিংবা উচ্চস্বরের সংগীত, শব্দময় জায়গায় উপস্থিত থাকার কারণে বিশ্বব্যাপী প্রায় ১০০ কোটি তরুণ-তরুণী শ্রবণশক্তি হারানোর ঝুঁকিতে রয়েছে। গতকাল বুধবার বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) নেতৃত্বে পরিচালিত একটি গবেষণা প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

গবেষণায় তরুণদের তাদের শোনার অভ্যাস সম্পর্কে আরও সতর্ক হওয়ার এবং সরকার ও নির্মাতাদের ভবিষ্যতের শ্রবণশক্তি রক্ষার জন্য আরও বেশি কিছু করার আহ্বান জানিয়েছে। বিএমজে গ্লোবাল হেলথ জার্নালে প্রকাশিত বিশ্লেষণটির তথ্য গত দুই দশকে ইংরেজি, স্প্যানিশ, ফ্রেঞ্চ ও রাশিয়ান ভাষায় প্রকাশিত ৩৩টি গবেষণায় ১২ থেকে ৩৪ বছর বয়সী ১৯ হাজারেরও বেশি অংশগ্রহণকারীর কাছ থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে। তাতে দেখা গেছে, ২৪ শতাংশ তরুণ-তরুণী স্মার্টফোনের মতো ডিভাইসের সঙ্গে হেডফোন ব্যবহার করার সময় অনিরাপদ মাত্রায় শোনার অভ্যাস করেছে। ৪৮ শতাংশ কনসার্ট বা নাইটক্লাবের মতো বিনোদন স্থানগুলোতে অনিরাপদ শব্দমাত্রার সংস্পর্শে গিয়েছে। এই ফলগুলোকে একত্রিত করে, গবেষণায় অনুমান করা হয়েছে যে, ৬ লাখ ৭০ হাজার থেকে ১৩৫ কোটি তরুণ-তরুণী শ্রবণশক্তি হারানোর ঝুঁকিতে পড়তে পারে। 

মেডিকেল ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ক্যারোলিনার অডিওলজিস্ট এবং গবেষণা প্রতিবেদনের লেখক লরেন ডিলার্ড বলেছেন, ‘বিস্তৃত পরিসরে কিছু তরুণ উভয় ধরনের (হেডফোন ও উচ্চ শব্দস্থল) ঝুঁকিতে রয়েছে। হেডফোন থেকে মানুষের শ্রবণশক্তি হ্রাসের ঝুঁকি কমানোর সর্বোত্তম উপায় হলো ভলিউম কমিয়ে দেওয়া এবং অল্প সময়ের জন্য শোনা। তবে দুর্ভাগ্যবশত, তরুণরা সত্যিই খুব উচ্চ শব্দে গান শুনতে পছন্দ করে।’  ডব্লিউএইচও বলছে, বর্তমানে বিশ্বের প্রায় ৪৫ কোটি মানুষ শ্রবণশক্তি হ্রাসজনিত জটিলতায় ভুগছেন। বর্তমান প্রবণতা বজায় থাকলে ২০৫০ সাল নাগাদ এই সংখ্যা বেড়ে হবে ৭০ কোটি।