সাভারের আশুলিয়ার নরসিংহপুর এলাকার নাইটিংগেল মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ রুহুল কুদ্দুস রুমিকে মাইগ্রেশনের দাবিতে তার কার্যালয়ে অবরুদ্ধ করেন শিক্ষার্থীরা। গতকাল বুধবার সকালে এ ঘটনা ঘটে।
কলেজটির শিক্ষার্থী ইমরান খান ইমন বলেন, নাইটিংগেল মেডিকেল কলেজ কর্তৃপক্ষ আমাদের আদালতের কিছু কাগজপত্র দেখিয়ে বিএমডিসি রেজিস্ট্রেশন এনে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রথম বর্ষে ভর্তি করায়। দীর্ঘদিন ধরে তারা মিথ্যা আশ্বাস দিলেও এখনো তারা রেজিস্ট্রেশন এনে দিতে পারেনি। কলেজের শিক্ষাব্যবস্থা সংক্রান্ত সব সুযোগ-সুবিধা থেকেও আমাদের বঞ্চিত করেছে।
এ মেডিকেল কলেজ থেকে স্বাস্থ্যশিক্ষা সম্পর্কিত পরিপূর্ণ জ্ঞান অর্জন আদৌ সম্ভব নয় জানিয়ে অন্য শিক্ষার্থীরা জানান, আমরা শিক্ষার্থীদের অন্যত্র মাইগ্রেশনের ব্যবস্থা করার জন্য স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, সচিব এবং স্বাস্থ্য ও শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বরাবর আবেদন করেছিলাম। কিন্তু সেই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে কলেজ কর্তৃপক্ষও একটি রিট করে আমাদের মাইগ্রেশন বন্ধ করে দেয়। আন্দোলনের অংশ হিসেবে আজ আমরা প্রিন্সিপাল স্যারকে অবরুদ্ধ করেছি। আমাদের ব্যবস্থা না হওয়া পর্যন্ত তিনি অবরুদ্ধ থাকবেন।
জানতে চাইলে মেডিকেল কলেজটির অবরুদ্ধ অধ্যক্ষ রুহুল কুদ্দুস রুমি বলেন, ‘পাঁচ দিন হলো আমি প্রিন্সিপালের দায়িত্ব পেয়েছি। আগে এখানে প্যাথলজির দায়িত্বে ছিলাম। রিটের একটি বিষয়ে সবকিছু আটকে আছে। আমাদের এমডি স্যার এ বিষয়ে কথা বলবেন। শিক্ষার্থীরা তার সঙ্গে কথা বলেছেন, তারাই ভালো জানেন। তবে তিনি আসবেন কি না জানি না।’
এদিকে যেকোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে মেডিকেল কলেজটির বাইরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত রয়েছেন।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নিষেধাজ্ঞা থাকলেও আশুলিয়ার নাইটিংগেল মেডিকেল কলেজ ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষে শিক্ষার্থী ভর্তি করেছে। শিক্ষার মান নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় গত পাঁচ বছর আগেই কলেজটিতে শিক্ষার্থী ভর্তিতে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছিল। গত বছর ১১ ফেব্রুয়ারি নাইটিংগেল মেডিকেল কলেজের ৫৬ জন শিক্ষার্থী ভর্তি বাতিল করে অন্যত্র মাইগ্রেশনের জন্য আবেদন করেন। এরপরও এখানে অনেক শিক্ষার্থী ভর্তি করা হয়েছে। নীতিমালা অনুযায়ী, কোনো মেডিকেল কলেজে সাময়িকভাবে ভর্তি স্থগিত হওয়ার পর দুই বছরের মধ্যে ফের শিক্ষা কার্যক্রম চালু করতে ব্যর্থ হলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে কলেজের অনুমোদন বাতিল বলে গণ্য হবে। তারা মেডিকেল কলেজ হিসেবে পরিচয়ই দিতে পারবে না। কিন্তু আশুলিয়ার নাইটিংগেল মেডিকেল কলেজ কোর্টে মামলা করে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের আদেশকে স্থগিত করে কার্যক্রম চালাচ্ছে। তারা প্রতি বছর শিক্ষার্থী ভর্তি করছে। অনুমোদন না থাকায় এখন যারা ভর্তি হচ্ছেন, চার বছর পর তারা স্বীকৃতির দাবিতে আন্দোলন করলেও কোনো লাভ হবে না বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা।