মহামারীর পর রুশ-ইউক্রেন যুদ্ধের হাত ধরে আসন্ন মহামন্দা মোকাবিলায় বড় প্রতিষ্ঠানগুলো হাঁটছে ব্যয় সংকোচনের পথে। সংকোচন নীতিতে আয়-বিজ্ঞাপন কমে আসার অজুহাতে নজিরবিহীন কর্মী ছাঁটাইয়ে নেমেছে টুইটার, মেটা, আমাজনের মতো বিশ্বের দানবীয় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোও। এই ব্যাপক ছাঁটাইতে সবচেয়ে চাপের মুখে আছে ভারত। বিশেষ করে দেশটির প্রযুক্তি শিক্ষায় শিক্ষিত তারুণ্যের একটি বড় অংশ। ইলন মাস্ক টুইটারের মালিক হয়েই কর্মী বাহিনীর ওপর যে খড়গ চালিয়েছেন তাতে ছাঁটাই হয়েছেন টুইটারের শীর্ষ থেকে শুরু করে ভারতে সামাজিক মাধ্যমটির হয়ে কাজ করা সব পর্যায়ের কর্মী। ভারতে টুইটারের প্রায় ৯০ শতাংশ কর্মী হয়েছেন ছাঁটাইয়ের শিকার।
মাত্র কয়েক সপ্তাহে প্রযুক্তি দুনিয়ায় দাপিয়ে বেড়ানো ভারতীয় তারুণ্য এখন শঙ্কায়, হঠাৎ করেই দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা। শুধু বৈশ্বিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোই নয়, ভারতের শিক্ষাসেবার জনপ্রিয় স্টার্টআপ বাইজুসও কর্মী ছাঁটাই করছে। রাতারাতি চাকরি হারিয়ে শুরুতে হতাশ হলেও এখন এই ভারতীয় তরুণদের অনেকেই মুখ খুলেছেন। পাল্টা জবাব দেওয়ার পথ খুঁজছেন। এক প্রতিবেদনে এই ভুক্তভোগী তরুণদের অবস্থা ছদ্মনামের মাধ্যমে তুলে ধরেছে ব্রিটিশ গণমাধ্যম বিবিসি। এদের একজন রবি (ছদ্মনাম), গত অক্টোবর মাসেই তিনি বুঝতে পেরেছিলেন, তিনি ও বেশ কয়েকজন সহকর্মী ভারতের বড় একটি শিক্ষাপ্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরি হারাচ্ছেন। এরপরই তিনি নিজেদের মধ্যে বার্তা আদান-প্রদানের জন্য অনলাইন মাধ্যমে একটি গ্রুপ খুলে ফেলেন। গ্রুপটি রবি ও তার সহকর্মীদের জন্য নিরাপদ আলোচনার ভার্চুয়াল জায়গা হয়ে যায়। সেখানে ভীতিমুক্ত পরিবেশে নিজেদের শঙ্কা প্রকাশ করতে শুরু করেন। আলোচনা হয় তারা ব্যবস্থাপনা কর্র্তৃপক্ষকে কীভাবে মোকাবিলা করবেন, শ্রম আইন ও শ্রমিক অধিকার নিয়েও আলোচনা চলে। রবি জানান, এই গ্রুপে আলোচনা করে অনেকে প্রতিষ্ঠান থেকে ভালোভাবে বেরিয়ে যাওয়ার উপায় পেয়েছে।
ছাঁটাইকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনার ঝড় উঠেছে। অনেকেই অসন্তোষ ও ক্ষোভ প্রকাশের জন্য এই মাধ্যমকে বেছে নিয়েছেন। ছাঁটাই হওয়া ভারতীয়রা টুইটে ক্ষোভ জানাচ্ছেন। তারা লিংকডইনে চাকরি চাইছেন, বার্তা আদান-প্রদানের মাধ্যম হোয়াটসঅ্যাপ ও স্ল্যাকে গণমাধ্যমকর্মীদের তথ্য দিচ্ছেন। অধিকার আদায়ে সহকর্মীদের সঙ্গে সমাবেশ করার পরিকল্পনা করছেন। শুধু অনলাইনে সীমাবদ্ধ থাকছে না চাকরি হারানোর হাহাকার। হুট করে ছাঁটাই করার প্রতিবাদে বিক্ষোভও হচ্ছে। ভারতের দক্ষিণাঞ্চলের থিরুভানানথাপুরাম শহরে বাইজুসের চাকরিচ্যুত ১৪০ কর্মী বিক্ষোভ করেন। পদত্যাগপত্র দিতে তারা বাধ্য হয়েছেন বলে তারা কেরালার মুখ্যমন্ত্রীকে জানিয়েন। তিনি এ ঘটনার তদন্তের নির্দেশ দেন। এ বিক্ষোভের পরদিন বাইজুস থিরুভানানথাপুরামে কার্যক্রম বন্ধের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসে।