মেরিন ইঞ্জিনিয়ার মো. আসিফ এমরান (৩৪) রাজধানীর হাতিরঝিল থানার হাজীপাড়ার এলাকার বাসিন্দা। গত ১০ অক্টোবর সকাল ৬টার দিকে আসিফ ও তার স্ত্রী বাসার দরজা বন্ধ করে শরীরচর্চার জন্য হাটতে বের হন। এ সময় বাসায় ঘুমন্ত অবস্থায় ছিলেন আসিফের শাশুড়ি ও সন্তান। সকাল ৭টার দিকে বাসায় ফিরে দরজা খোলা অবস্থায় পান। বাসায় ঢুকে দেখেন তাদের লাখ টাকা বেশি দামের তিনটি মোবাইল ফোন চুরি হয়েছে। এ ঘটনায় হাতিরঝিল থানায় মামলা হয়। এর পর তদন্ত শুরু করে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)।
ডিএমপি ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার মোহাম্মদ হারুন-অর-রশীদ বলেন, 'রাজধানীতে চুরি বন্ধ না হলেও আমরা নিয়ন্ত্রণের মধ্যে নিয়ে এসেছি। তবে অনেক স্থানে চুরি হলেও মামলা হচ্ছে না। আমি অনুরোধ করব যে এলাকাতেই চুরি হোক ভুক্তভোগীরা যেন মামলা করেন, এতে আমাদের কাজের সুবিধা হয়।'
ডিবি তেজগাঁও বিভাগের একটি টিম এই চোর চক্রের দুই সদস্যকে বুধবার গ্রেপ্তার করে। তারা হলেন ফাহিমা আক্তার (৩০) ও ফরহাদ আলম মীর (৩৫)। তাদের কাছ থেকে তিনটি মোবাইলফোন জব্দ করা হয়েছে। এর পরই বের হতে থাকে এই চোর চক্রের অভিনব সব কৌশল। চক্রটি হাতিরঝিল এলাকায় অন্তত ১২টি চুরি করেছে বলে জানিয়েছে ডিবি।
এই চোর চক্রকে বাড়ির দারোয়ানেরা কাজের বুয়া ভেবে বাড়িতে ঢুকতে দেয়। এই সুযোগে বাসায় ঢুকে মালামাল নিয়ে পালিয়ে যায়। তাদের চুরি করা মালামাল যারাই কিনবে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে ডিবি।
তদন্তসংশিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, দীর্ঘদিন যাবৎ একটি অভিনব চোর চক্র রাজধানীর হাতিরঝিলসহ তেজগাঁও আবাসিক এলাকার বাসাগুলোতে ফজরের নামাজের সময় গেট খোলা থাকার সুযোগ নিয়ে চুরি করে আসছিল। চক্রটি ফজরের নামাজের সময়কে বেছে নেয় চুরির জন্য। মানুষ নামাজে গেলে কিংবা হাঁটতে বের হলে সুকৌশলে বাসায় প্রবেশ করে তারা। আর বাসার দারোয়ান যখন বসে ঝিমাতে থাকে তখন তারা ভেতরে প্রবেশ করে। বাসার চুরি করা মোবাইলফোন ও ল্যাপটপ গুলিস্তান স্টেডিয়াম এলাকায় বিক্রি করে। গ্রেপ্তাার ফাহিমার বাসা খিলগাঁও মেরাদিয়া এলাকায়। তার বাড়ি বরিশালের হিজলায়। আর ফরহাদের বাড়ি শরিয়তপুরে।