কর্মীদের চাকরি ছাড়ার হিড়িক, অফিস বন্ধ করে দিল টুইটার

টুইটারের মালিকানা নেওয়ার পর থেকে ইলন মাস্ক একের পর এক নতুন নিয়ম চালু করে চলেছেন। সর্বশেষ তিনি কর্মীদের দীর্ঘ সময় কাজ করতে আর না হলে প্রতিষ্ঠান ছেড়ে দিতে বলেছিলেন। এমনকি নতুন নিয়ম মানতে আল্টিমেটামও বেঁধে দিয়েছিলেন তিনি। আর এরপরই টুইটার ছাড়ার হিড়িক পড়েছে কর্মীদের মধ্যে। মাস্কের আল্টিমেটামের কারণে শত শত টুইটার কর্মী এই সংস্থাটি ছেড়ে যাচ্ছেন। এতে প্রতিষ্ঠানটি বিশৃঙ্খলা দেখা দিয়েছে। পরিস্থিতি এতটাই খারাপ হয়েছে যে টুইটার বাধ্য হয়ে সাময়িক সময়ের জন্য তাদের অফিস বন্ধ করে দিয়েছে।

আজ শুক্রবার থেকে টুইটারের সব অফিস সাময়িক বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। কর্মীদের পাঠানো এক বার্তায় তাৎক্ষণিকভাবে অফিস বন্ধের সিদ্ধান্ত কার্যকর করার কথা বলেছে টুইটার। আগামী সোমবার আবার অফিসগুলো চালু হবে বলে জানানো হয়েছে। কর্মীদের পাঠানো বার্তায় প্রতিষ্ঠানের স্পর্শকাতর তথ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, সংবাদমাধ্যম কিংবা অন্যত্র আলোচনা থেকে বিরত থাকার কথা বলা হয়। প্রতিষ্ঠানের নীতিমালা মেনে চলতে আহ্বান জানানো হয়।

ইলন মাস্কের দেওয়া দীর্ঘ সময় মন দিয়ে কাজ করার বাধ্যতামূলক শর্তে রাজি হওয়ার শেষ সময় ছিল গতকাল বৃহস্পতিবার। তবে এতে কয়েক শ কর্মী রাজি হননি। মাস্ক বলেছিলেন, শর্তে রাজি না হলে চাকরি ছেড়ে দিতে হবে। শর্ত মেনে নেওয়ার সময় বেধে দিয়ে একটি কাগজেও স্বাক্ষর করতে বলেন তিনি। তবে তার এ শর্ত বেশিরভাগ কর্মী প্রত্যাখ্যান করেন এবং গণহারে পদত্যাগ শুরু করেন। এরপরই অফিস বন্ধের সিদ্ধান্ত জানাল টুইটার। তবে বার্তায় হুট করে অফিস বন্ধের কোনো কারণ জানায়নি টুইটার।

বৃহস্পতিবার রাতে চলমান সংকট সর্বোচ্চ আকারে পৌঁছায়। এদিন কর্মীরা মাস্কের শর্ত প্রত্যাখ্যান করেন। এরপর টুইটারের স্বাভাবিক কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাওয়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে। টুইটারে এমন অস্থিতিশীল পরিস্থিতি চলার মধ্যে সাধারণ ব্যবহারকারীরা কোম্পানিটি থেকে মুখ ফিরিয়ে নেওয়া শুরু করেছেন। ‘রিপ টুইটার’, ‘টুইটার ডাউন’ এমন হ্যাশট্যাগে ভরে যায় সামাজিক মাধ্যমটি।

টুইটার থেকে চাকরি ছাড়ার তালিকায় আছেন অসংখ্য ইঞ্জিনিয়ার। যারা টুইটারের বাগ ঠিক করা এবং সেবা চালু রাখার কাজটি করে থাকেন। তারা চাকরি ছাড়ার পরই টুইটারের সেবা হুমকির মুখে পড়ে। বিষয়টির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, কর্মীরা গণহারে পদত্যাগ শুরু করলে চিন্তায় পড়ে যান ম্যানেজাররা।

মার্কিন ধনকুবের ইলন মাস্ক শর্ত জুড়ে দেওয়ার পর অনেকেই এটি প্রত্যাখ্যান করবেন বলে আভাস পাওয়া গিয়েছিল। কিন্তু যে পরিমাণ কর্মী এ শর্ত প্রত্যাখ্যান করেছে সেটি ধারণারও বাইরে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী গণমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমস বৃহস্পতিবার এক প্রতিবেদনে জানায়, টুইটার তার কর্মীদের কাছে পাঠানো ইমেইলে জানায়, সোমবার পর্যন্ত অফিস বন্ধ রাখা হবে এবং কর্মীদের জন্য টুইটারের অ্যাক্সেস বন্ধ থাকবে। এখন ব্যবহারকারীরা ধারণা করছেন, আগামী কয়েকদিনের মধ্যে টুইটারে ধস নামবে। ফলে এটির বিকল্প মাধ্যমগুলোতে চলে যাচ্ছেন তারা।

এমন পরিস্থিতিতে ইলন মাস্ক কিছু কর্মীকে থেকে যাওয়ার জন্যও আহ্বান জানিয়েছেন। কিন্তু তাদের মধ্যে অনেকেই চাকরি ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছেন।

বিশ্বের শীর্ষ ধনী ইলন মাস্ক ৪ হাজার ৪০০ কোটি ডলারে টুইটার কিনে নেওয়ার পর গত মাসে কোম্পানিটির প্রধান নির্বাহীর দায়িত্ব নেন। এরপর ছাঁটাইসহ বিভিন্ন ইস্যুতে কোম্পানিটিতে চরম অস্থিরতা চলছে। দায়িত্ব নেওয়ার পরই ইলন মাস্ক অর্ধেক কর্মী ছাটাইয়ের পদক্ষেপ নেন। মাস্ক বলেছেন, টুইটার দিনে ৪০ লাখ ডলার লোকসান গুনছে। তাই ছাঁটাই ছাড়া প্রতিষ্ঠানের অন্য কোনো উপায় নেই।