নবান্ন উৎসব উপলক্ষে বগুড়ার শিবগঞ্জের উথলীতে বসেছে হরেক রকম মাছের মেলা। পঞ্জিকানুসারে অগ্রহায়ণের প্রথম সপ্তাহে নবান্ন উৎসব উপলক্ষে প্রতি বছরই বসে এই মাছের মেলা। মেলায় দূর-দূরান্তের মানুষ আসেন মাছ কিনতে। ছোট-বড় সব সাইজের মাছ পাওয়া যায় এই মেলায়। ঘরে ঘরে বড় মাছ ও নতুন সবজি কিনে মেয়েজামাইসহ স্বজনদের আপ্যায়নের আয়োজন হয় এসময়। শুক্রবার সকাল থেকে মেলায় এক হাজার মণের বেশি মাছ কেনাবেচা হয়েছে। মাছের পাশাপাশি নতুন আলু মেলায় বিক্রি হচ্ছে। মেলায় কোটি টাকার মাছ কেনাবেচা হয়। এদিকে নবান্ন উৎসবে জয়পুরহাটে বসে জামাই মাছের মেলা।
নবান্ন উৎসব হলেই বগুড়ার উথলী, রথবাড়ি, ছোট ও বড় নারায়ণপুর, ধোন্দাকোলা, সাদুল্লাপুর, বেড়াবালা, আকনপাড়া, গরীবপুর, দেবীপুর, গুজিয়া, মেদনীপাড়া, বাকশন, রহবল, মোকামতলাসহ ৩০ গ্রামের মানুষের ঘরে উৎসবের আয়োজন হয়। এছাড়াও পার্শ্ববর্তী জেলা গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ এবং জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল ও কালাই উপজেলার মানুষ মেলায় ভিড় করেন।
মেলা ঘুরে দেখা গেছে, ২২ কেজি ওজনের ব্ল্যাক কার্প, ১৫ কেজি ওজনের কাতল, ১২ কেজির রুই, বিগহেড, বাঘাড়, সিলভার কার্প, চিতল, বোয়ালসহ হরেক রকমের মাছ বিক্রি হচ্ছে মেলায়। বিশালাকৃতির রুই-কাতলা ও মাছগুলো ৪০০ থেকে ৮০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হলেও মাঝারি আকারের মাছ ২০০ থেকে ৩৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে। এছাড়া ২৫০ থেকে ৫০০ টাকা দরে ব্ল্যাককাপ, বিগহেড ও সিলভার কার্প মাছ বেচাকেনা হয়। এছাড়াও নদীর বিভিন্ন মাছের দেখা মিলেছে মেলায়।
নবান্ন উপলক্ষে মাছের মেলার পাশে নতুন শাকসবজিরও পসরা সাজানো হয়। সেখানে নতুন আলু বিক্রি হয়েছে ২০০ টাকা কেজি দরে। এ ছাড়াও মিষ্টি আলু ও কেশর (ফল) প্রতি কেজি দেড়শ থেকে দুইশ টাকা কেজিতে বিক্রি হয়েছে।
শিবগঞ্জের উথলী এলাকার মাছ ব্যবসায়ী মোখলেছার ইসলাম জানান, তিনি গাইবান্ধাতে মাছ বিক্রি করেন। এবার মেলায় তিনি ২২ কেজি ওজনের ব্ল্যাক কার্প ১ হাজার টাকা কেজি দরে বিক্রি করেছেন।
উথলী বাজারের ইজারাদার আজিজুল জানান, আগে মেলাটি ক্ষুদ্র পরিসরে হলেও সাম্প্রতিক সময়ে তা ব্যাপকতা লাভ করেছে। শুধু আশপাশেরই নয়, পুরো শিবগঞ্জ উপজেলার মানুষ এখানে নবান্নের বাজারে আসেন। মাছের মেলার খবর পেয়ে শহর থেকেও অনেকে সেখানে ছুটে যান মাছ কিনতে।
জয়পুরহাটে জামাই মাছের মেলা : এদিকে জয়পুরহাটের পাঁচশিরাতে বসে জামাই মাছের মেলা। এ উৎসবে চলে মাছ কেনার প্রতিযোগিতা। এবার মেলায় উঠেছে ১ থেকে ২৫ কেজি ওজনের মাছ। কেউ উৎসাহ নিয়ে দেখছেন, কেউবা কিনছেন। এই উৎসবে মেয়েজামাইসহ স্বজনদের আগে থেকে দাওয়াত দিয়ে বাড়িতে আনা হয়। এতে উৎসবে পরিণত হয় পুরো গ্রাম।
কালাই পৌরসভার মেয়র রাবেয়া সুলতানা বলেন, গ্রামবাংলার ঐতিহ্যকে ধরে রাখতে প্রতি বছর এ নবান্ন উৎসবে মাছের মেলায় পৌরসভার পক্ষ থেকে সার্বিক সহযোগিতা করা হয়।