সাভারে নাইটিংগেল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে অচলাবস্থার সৃষ্টি হওয়ায় মাইগ্রেশনসহ বেশ কয়েকটি দাবিতে বাইপাইল-আব্দুল্লাহপুর সড়ক প্রায় এক ঘণ্টা অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন প্রতিষ্ঠানটির ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা।
এ সময় সড়কটিতে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে পুলিশ বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীদের বুঝিয়ে সড়ক থেকে সরিয়ে দিলে তারা বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে ক্যাম্পাসে ফিরে যান।
শনিবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে সড়ক অবরোধ করেন শিক্ষার্থীরা।
বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, নাইটিংগেল মেডিকেল কলেজের বিএমডিসির কোনো অনুমতি নেই। এ জন্য অন্যত্র মাইগ্রেন করতে গেলে মেডিকেল কলেজ কর্তৃপক্ষ তার বিরুদ্ধে একটি রিট করে। এর ফলে আমরা অন্যত্র মাইগ্রেন করতে না পারায় বাধ্য হয়ে সরকার ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হস্তক্ষেপে অন্য প্রতিষ্ঠানে মাইগ্রেশনের দাবিতে আন্দোলনে নামতে বাধ্য হয়েছি।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থী আরিফুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা আজ মাইগ্রেশনের দাবিতে সড়কে নেমেছি। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আমরা সড়কেই থাকবো। আমরা মাইগ্রেশনের অথরিটির জন্য প্রতিষ্ঠানের এমডিকে চাই।’
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা আরও জানান, ১৫ লাখ টাকা খরচ করে ২০১৭ সালে নাইটিংগেল মেডিকেল কলেজে ভর্তি হন ৪৫ জন শিক্ষার্থী। প্রায় ৪ বছর অতিবাহিত হয়ে গেছে। ভর্তির পর থেকেই কর্তৃপক্ষকে আমরা কলেজ ঠিক করার জন্য বলছি। এছাড়া বিএমডিসির রেজিষ্ট্রেশন করে দিতেও দাবি জানানো হলেও তারা কিছুই করেনি।
সর্বশেষ আমরা কলেজটির পরিচালকের (এমডি) সঙ্গে অনেকবার বসতে চেয়েছি। কিন্তু এমডি আমাদের সঙ্গে বসবেন না বলে জানিয়ে দিয়েছেন। শিক্ষার্থীদের পর্যাপ্ত শিক্ষাদানে ব্যর্থ এই কলেজ থেকে অন্যত্র মাইগ্রেশনের বিষয়ে সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করছি। এ ছাড়া দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার কথা জানায় শিক্ষার্থীরা।
মেডিকেল কলেজটির অধ্যক্ষ রুহুল কুদ্দুস রুমি বলেন, সপ্তাহখানেক হলো আমি প্রিন্সিপালের দায়িত্ব পেয়েছি। আগে আমি এখানকার প্যাথলজির দায়িত্বে ছিলাম। রিটের একটি বিষয়ে সব কিছু আটকে আছে।
আশুলিয়া থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) এমদাদুল হক বলেন, সড়ক অবরোধের খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে যাই। পরে শিক্ষার্থীদের বুঝিয়ে দ্রুত সময়ের মধ্যে সড়ক থেকে সরিয়ে দিয়ে যান চলাচল স্বাভাবিক করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, নিয়ম অনুযায়ী সব সুযোগ-সুবিধা না থাকায় ২০১৭ সালে আশুলিয়ার নাইটিংগেল মেডিকেল কলেজসহ দেশের ৯টি মেডিকেল কলেজে শিক্ষার্থী ভর্তিতে নিষেধাজ্ঞা জারি করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। পরে নাইটিংগেল মেডিকেল কলেজ উচ্চ আদালতে রিট করলে ছয় মাসের জন্য নিষেধাজ্ঞা স্থগিত করেন আদালত।
স্থগিত সময়ে সেই কলেজ শিক্ষার্থী ভর্তি করে। সে সময়ে ভর্তি করা শিক্ষার্থীরাই বিপাকে পড়েছে। সেই স্থগিতাদেশের মেয়াদ বছর বছর বাড়িয়ে চলছে এই কলেজের কার্যক্রম।